শিরোনাম
বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রুখতে হবে

মিয়ানমারের রাখাইনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির লাগাতার সংঘর্ষ চলছে। আরাকান আর্মি কিছু কিছু এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায়ও সক্ষম হয়েছে। রাখাইনের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকায় বেশ কিছু সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্যাম্পও দখল করেছে আরাকান আর্মি। রাখাইনজুড়ে চলমান সংঘর্ষ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইনে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। দিনের বেলায় নাফ নদে ছোট ছোট ডিঙিতে রোহিঙ্গাদের ভাসতে দেখা গেছে। দিনে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সতর্ক পাহারার কারণে দিনে ঢুকতে পারছে না রোহিঙ্গারা। রাতে সুযোগ বুঝে নাফ নদ পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষা করছে তারা। নাফ নদের ওপারে মিয়ানমারের শিলখালী ও বলিবাজার এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সংঘর্ষ চলছে। এতে ওই এলাকায় থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিজিবি ও কোস্টগার্ড, নাফ নদে অতিক্রম করে টেকনাফে অনুপ্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবোঝাই চার-পাঁচটি নৌকা মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে। একই সময় টেকনাফ সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বিজিবি ১০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে আবার মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে। গত সোমবার কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম অস্ত্রসহ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী ২৩ রোহিঙ্গার মধ্যে ১২ জনকে তিন দিন রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার ঘুমধুম তুমব্রু সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র নিরাপদ এলাকয় সরিয়ে আনা হয়েছে। মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সংঘর্ষে রোহিঙ্গারা বিপাকে পড়েছে। আরাকান রোহিঙ্গাদের দেখছে বাঁকা চোখে দেখছে উভয় পক্ষ। বাংলাদেশ ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে ইতোমধ্যে বিপাকে পড়েছে। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থেই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জিরো টলারেন্সের বিকল্প নেই।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর