শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪০

ইচ্ছা ছিল সারারাত বাজানোর

ইচ্ছা ছিল সারারাত বাজানোর
Google News

সেনিয়া মাইহার প্রতিষ্ঠাতা ও ভারতীয় রাগসংগীতের কিংবদন্তি আলাউদ্দিন খাঁর দৌহিত্র ও আলি আকবর খাঁর পুত্র ওস্তাদ আশিষ খাঁর জন্ম বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুরে। বিশিষ্ট শিল্পী ও সংগীত পরিচালক ওস্তাদ আশিষ খাঁ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব আর্টসে যন্ত্রসংগীতের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। প্রবাদপ্রতিম এই কিংবদন্তির সঙ্গে নানা বিষয়ে আলাপচারিতায়— পান্থ আফজাল।

 

সংগীতের দীর্ঘ পথচলায় এ দেশকে আপনি কী হিসেবে দেখেন? আপনাদের বংশের সংগীত জার্নি জানতে চাই।

আমাদের রুটস অবশ্য বাংলাদেশ থেকেই এসেছে। আমার দাদুর জন্ম তো শিবপুর গ্রামে। আমার বাবার ক্ষেত্রেও তাই। পরে উনি চলে যান মাইহার স্টেটে। পরবর্তীতে ওইখানে উনি চাকরি করেন এবং জীবনে উনি প্রচণ্ড স্ট্রাগল করে মিউজিকটা শেখেন। আট বছর বয়সে উনি বাড়ি থেকে পালিয়ে  যান। কলকাতা আসেন। ভালোভাবে উঠে দাঁড়াতে উনার প্রচুর সময় লাগে। কলকাতার ওইখানে হাবুদত্তের কাছ থেকে গান শেখেন। লুবোর কাছ থেকে সংগীত শিখলেন। দাদু তখন ভাবলেন তিনি একজন বিরাট মিউজিশিয়ান হয়ে গেছেন। তিনি তখন অবশ্য একটা চাকরিও পেয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে গানের পেছনে বাজাতেন। এরপর তিনি এক গুরুর জলসা ঘরে গেলেন। তাকে সরোদ শেখানোর জন্য গুরুকে অনুরোধ করলেন তিনি। তিনি গুরুর বিভিন্ন বাজনা দেখতেন এবং তা রপ্ত করার চেষ্টা করতেন। তবে কিছু কারণে তাকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হলো। তবে বের হয়ে যাওয়াটা তার ক্ষেত্রে আশীর্বাদই হলো বলা চলে। পরবর্তী সময়ে মাইহার ব্যান্ড হলো। অর্থাৎ একটা একাডেমি আকারে মাইহার ঘরানার গান শেখানো হতো। দাদু কিছু যন্ত্র করলেন। তার মধ্যে একটা ছিল সেতার ব্যাঞ্জ। সব হতো রাগের ওপরে। ইন্ডিয়ান মেলোডি ছিল, তবে কিছুটা ওয়েস্টার্ন টাইপের।

 

আপনার মতে আমাদের এখানে উচ্চাঙ্গ সংগীতকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কতটুকু কী করার বাকি রয়েছে?

আমি মনে করি এখানে যতগুলো স্কুল আছে সেখানে সংগীতকে ভালোভাবে শেখানো হোক। আজেবাজে লোক দিয়ে নয়। সংগীত যারা ভালো জানেন, ভালো বোঝেন  তাদের দিয়ে শেখানো উচিত। সেসব গুরুদের রীতিমতো ইন্টারভিও নিয়ে, ব্যাকগ্রাউন্ড জেনে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। প্রথমে অবশ্য গান গেয়ে শেখানো উচিত। কারণ গান আমাদের শেকড়। গান না জানলে সুর সম্পর্কে আপনি জানতে পারবেন না। আপনি যতই যন্ত্র বাজান, যন্ত্র তাকে তো মেলাতে হবে। সে জন্য গান শিখতে হবে। নিজেকে তৈরি করতে হবে। আমরা তো পারিবারিকভাবে শিখে এখানে এসেছি। অন্যদের জন্য এটা খুবই সেন্সেটিভ। গানটা নিয়মিত করা উচিত। তারপর বাজানো শেখানোর বিষয় আসবে। স্কুলে এটি ফ্রি এডুকেশন করা উচিত বলে মনে করি।

 

এ বিষয়ে আপনার কি কোনো পরিকল্পনা আছে?

আমার ইচ্ছা আছে একটা ইনস্টিটিউট করা। দেখি কতটুকু করতে পারি। এখানে শাহিন ভাই আছেন। তার সাহায্য নিয়ে আপনাদের সবার সাহায্য নিয়ে দেখি কিছু করা যায় কিনা। সবার সাহায্য নিয়ে এখানে আমরা যদি ভালো কোনো সংগীত স্কুল করতে পারি, গভর্নমেন্ট যদি হেল্প করে, তাহলে ভালো কিছু করা যাবে। দেখি কী করা যায়। মিউজিকটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি করা খুবই জরুরি।

 

বাংলাদেশে আপনি খুবই কম এসেছেন। এর কারণটা কী ছিল?

আমি আসলে এ দেশে কম এসেছি। পারিবারিক শেকড় এখানে খুব বেশি থাকা সত্ত্বেও। বেঙ্গল এবার মনে করল আমার এখানে বাজানো দরকার, তারা আমাকে স্মরণ করল। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তবে আসলেই কম আসা হয়েছে। ভবিষ্যতে বার বার আসা হবে

বাংলাদেশে।

 

প্রথমবার আপনি এই আয়োজনে এসেছেন। এবারের আয়োজন আপনি কেমন অনুভব করলেন?

আমি বলতে গেলে প্রথম বাজালাম। আমি ঘরোয়া বাজিয়েছি কিন্তু এত বড় আয়োজনে বাজিয়ে সত্যিই চমৎকার অনুভব হচ্ছে। এত দর্শকের সামনে বাজালাম। একটা বিরাট আশা ও সময় নিয়ে বাজাতে এসেছিলাম। কিন্তু ভিতরে ঢুকতেই তারা বলল, ১৮ মিনিট সময় পাবেন। আমি অবাক হয়ে বললাম, ১৮ মিনিট! আমার কথা আমি বলছি কিন্তু। আমি যেভাবে তালিম নিয়েছি। ইচ্ছা ছিল সারারাত বাজানোর। এত দিন পর আমার শেকড়ের কাছে এলাম। তবে আমি এই আয়োজনে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। 

 

আপনি নাকি হাতে লেখা বই বের করছেন?

হুম। ঠিক শুনেছেন। সেখানে ইস্টার্ন-ওয়েস্টার্ন সংগীতের নানা দিক থাকবে। আসলে সংগীতকে ছড়িয়ে দিতে হবে। সেটা যেই মাধ্যমেই হোক।