Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:২০

বাদাম খেতে খেতে ছবির কাজ শেষ করেছি

বাদাম খেতে খেতে ছবির কাজ শেষ করেছি
ছবি : রাফিয়া আহমেদ

১৩ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে অরুণ চৌধুরীর ‘মায়াবতী’। এটিতে প্রথমবারের মতো নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নন্দিত অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। অন্যদিকে তিশার বিপরীতে ইকবাল চরিত্রে রয়েছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’-এ অপু চরিত্রে অভিনয় করা ইয়াশ রোহান। ছবিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ দুজনের সঙ্গে অফিসে আড্ডা দিয়েছেন-  পান্থ আফজাল  

 

মায়াবতী ছবিতে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

তিশা : অভিনয় করে অবশ্যই ভালো লেগেছে। গল্পটা শুনেই আসলে ভালো লাগাটা শুরু হয়। তারপর আস্তে আস্তে যখন ক্যারেক্টারটা বোঝার চেষ্টা করলাম, ক্যারেক্টারটা বুঝলাম এবং সেই অনুযায়ী শুটিং করলাম। এরপর তো দেখতে দেখতে ভালোভাবেই শেষ হয়ে গেল ছবিটি! সবকিছু মিলিয়ে ‘মায়াবতী’র জার্নিটা অনেক ভালো ছিল।

 

‘মায়াবতী’ চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাই...

তিশা : চরিত্রটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলব না। শুধু এতটুকু বলব, এটি এমন একটি চরিত্র যে চরিত্রটি দেখলে ওই সময়ের মেয়েরা বা সে জায়গার মেয়েরা নিজেদের খুঁজে পাবে। একটা সাহস খুঁজে পাবে।

 

এর গল্প কোন সময়কে রিপ্রেজেন্ট করছে?

ইয়াশ : বর্তমান সময়কে। ২০১৬-২০১৭-এর দিককার সময়কেই এ ছবির প্রেক্ষাপটে দেখানো হয়েছে।

 

অন্য ছবি থেকে এই ছবির ভিন্নতা কী?

তিশা : অন্য গল্পের থেকে এই গল্পের ভিন্নতা খুব বেশি কিছু নেই; কিছুটা আছে। আমি যেসব সিনেমা করে এসেছি সেই জায়গা থেকে এ গল্পটি কিছুটা ভিন্ন, যেটা আমাকে খুব বেশি আকর্ষণ করেছে। সুতরাং এই ভিন্নতার জায়গা থেকেই যতটুকু আকর্ষণীয় করা হবে বা যতটুকু আমরা করতে পেরেছি সেটাই আমাদের জন্য প্লাস। এর বেশি ভিন্নতার কথা বলব না। আসলে একটা মানুষকে সেরকম ভিন্ন ভিন্ন ক্যারেক্টার দেওয়া খুবই ডিফিকাল্ট। আমাদের দেশের পক্ষে সেরকম বাজেট, সেরকম সময় বা সেরকম জায়গা দেওয়া খুবই কষ্টকর। তবে সবদিক চিন্তা করলে অন্যসব গল্প থেকে এই গল্পটি একটু ভিন্ন। এই ভিন্ন গল্পটাকেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।

 

মায়াবতী তিশার সঙ্গে ইকবালের পরিচয় কীভাবে?

তিশা : এটি পরিচালক ঘটিয়েছেন... হা হা হা। আর ঘটানোর পর যা হয়েছে, সিনেমা শুটিংয়ের আগে আমরা বায়স্কোপের একটি কাজ করেছিলাম। যার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে একটি ফ্রেন্ডশিপ বা কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে। অভিজ্ঞতা অনেক বেশি ফ্রেন্ডশিপে টার্ন করেছে সিনেমার শুটিংয়ের সময়। যদি এভাবে বলি যে, বাদাম খেতে খেতে ছবির কাজটি শেষ হয়ে গেছে। আমাদের ফ্রেন্ডশিপ বলেন, কমিউনিকেশন বলেন বা সবকিছু মিলিয়ে একে অপরকে যেভাবে সহযোগিতা করেছি ওই বিষয়গুলো এত তাড়াতাড়ি ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে যে, তেমন করে কিছু বুঝতেই পারিনি।

ইয়াশ : মায়াবতী শুটিংয়ের আগেও আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। তাই প্রথমদিকে আমার যে নার্ভাসনেস ছিল বা বেরিয়ারটা ছিল সেই আইস ব্রেকিংটা সে সময়ই শুটটাতে কেটে গিয়েছিল। সে জন্য মায়াবতী করার সময় তেমন করে নার্ভাসনেসটা ছিল না। এরপর তো আমরা আস্তে আস্তে দুজন দুজনার ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম। 

 

তিশার কাজের ব্যাপ্তি অনেক। আর আপনি সবেমাত্র শুরু করেছেন। সেদিক থেকে দুজনার মধ্যে বোঝাপড়ায় কোনো সমস্যায় পড়তে হয়েছে?

ইয়াশ : তার কারণেই কিন্তু আমাদের মধ্যে বোঝাপড়ায় কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। সে যদি আমার কাছে ভাব নিত যে, ‘আই অ্যাম দ্য বেস্ট’! তাহলে কিন্তু প্রচুর সমস্যায় পড়তে হতো; কিন্তু সে তা কখনোই করেনি। সে অনেক সহযোগিতাপরায়ণ। বেশি সার্পোটেড ছিল। 

 

এ ছবিটি নিয়ে দুজনের প্রস্তুতি কেমন ছিল?

তিশা : আমাদের দুজনেরই বিশাল বড় একটি প্রস্তুতি ছিল... হা হা হা। 

ইয়াশ : কিন্তু আলটিমেটলি তা হয়েছে কিনা সন্দেহ রয়েছে! ওর প্রস্তুতি ছিল শুকাইতে হবে আর আমার ছিল মোটা হতে হবে। এখন যেভাবে আমাদের দেখছেন, এভাবে দেখলে তা বোঝা যাবে না...হা হা হা। কারণ মায়াবতীর শুটিং অনেক আগে হয়েছে। আমি নতুন ছবির জন্য আরও শুকাইছি।

তিশা : যাই হোক, মোটা-শুকনা এটা তো আমরা ইয়ার্কি করেই বললাম। আমরা দুজনই চেষ্টা করেছি। এই যে এই মেয়েটা এবং এই ছেলেটার মধ্যকার যে সুইটনেসটা বা যে সাপোর্টটা একটি ছবি করার ক্ষেত্রে দরকার ছিল, তা দুজনেই চেষ্টা করেছি শতভাগ। আমি চেষ্টা করেছি, ও চেষ্টা করেছে। সিকোয়েন্স থেকে শুরু করে পুরো ফিল্ম জার্নিটা যতœসহকারে শেষ হোক। আমার কাছে মনে হয়, এই ছবিটি দর্শক অনেক উপভোগ করবে।

 

‘মায়াবতী’-নামটা শুনলেই বোঝা যাচ্ছে এটি একটি নারীপ্রধান ছবি...

তিশা :  হ্যাঁ, নামটা মায়াবতী; তবে নারীপ্রধান বা পুরুষপ্রধান এটি আমি বলব না। কারণ এক হাতে তো তালি বাজে না। একজনকে দিয়ে তো আর সিনেমা হয় না। বলতে গেলে কিছুই হয় না। এটি একটি সিনেমা অর্থাৎ আমাদের সিনেমা। এটি নারীপ্রধান বলে আমি বিশ্বাস করি না। আমি বলব, এটি একটি সুন্দর গল্পের সিনেমা, কয়েকটি চরিত্রের সিনেমা। প্রত্যেকটি চরিত্রই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটি কয়েকটি চরিত্রের গল্প।

 

ছবিতে আলাদা কি ইউনিক বিষয় রয়েছে যেটি দেখতে দর্শক হলে যাবে?

তিশা : একটি সুন্দর গল্প দেখতে যাবে। গল্পে ভালোবাসা আছে, কান্না আছে, ইমোশন আছে, সুন্দর মেসেজ আছে। সবকিছু মিলে একটি প্যাকেজ। একটি ছোট্ট সুন্দর গল্প দেখতে মানুষ হলে যাবে।

 

ছবিটি মুক্তির জন্য এ পর্যন্ত কয়টি হল চূড়ান্ত হয়েছে?

ইয়াশ : এখনো পর্যন্ত জানি ৫০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। তবে আরও বাড়বে।

 

নতুন কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন?

ইয়াশ : আমি আসলে অনেক চাপের মধ্যে আছি। এখন দুটি সিনেমার শুটিং একসঙ্গে করছি। কয়েকদিন আগে আবু তৌহিদ হিরণের ‘আদম’ শুরু করেছি। এটিতে সহশিল্পী হিসেবে আছেন ঐশী ও অ্যালেন শুভ্র। প্রথম লটের কাজ শেষ করে এলাম। আর রায়হান রাফির ‘পরাণ’ শুরু করছি। সহশিল্পী বিদ্যা সিনহা মিম ও শরিফুল রাজ। এই দুইটি ছবির বাইরে আর কোনো চাপ নিচ্ছি না।

তিশা : মানুষ তো এইটুকুন! এই দুইটা ছবিই তো ওর ওপর বাড়তি প্রেসারের...হা হা হা।

ইয়াশ : তাই না! আর নাটকের অধ্যায় শেষ করে আসছি ঈদের আগেই।

 

মায়াবতীর নির্মাতা অরুণ চৌধুরী অন্যান্য নির্মাতা থেকে কতটা ব্যতিক্রম?

ইয়াশ : তিনি ভিন্ন ধরনের পরিচালক। সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছি, অরুণদার সঙ্গেও করছি। দুজনই দুজনের জায়গায় আলাদা। কারও সঙ্গে কারও তুলনা করা যাবে না। আমি তো বলব, ‘দে আর ভেরি ডিফরেন্ট ইন দেয়ার অ্যাপ্রোচ’। তারা মেসেজটা হয়তো একইভাবে দিলেও তা আলাদা হবেই। 

তিশা : একজন নির্মাতার সঙ্গে অন্য নির্মাতার তুলনা চলে না। একেকজনের চিন্তাচেতনা একেক রকম। অরুণদা মায়াবতীর চরিত্রটা বা ইকবালের চরিত্র যেভাবে দেখছেন, সারোয়ার হয়তো অন্য আরেকভাবে দেখতেন। কিংবা তৌকীর ভাই বা সেলিম ভাই হলে আরও অন্যভাবে দেখতেন।

 

বাণিজ্যিক আর বিকল্পধারা- চলচ্চিত্রে এই শব্দ দুটি কতটা সমর্থনযোগ্য?

তিশা : আমি বিশ্বাস করি, দুই ধরনের ছবি। গুড ফিল্ম আর ব্যাড ফিল্ম। ছোট থেকে এটিই বিশ্বাস করে আসছি। সো কলড আর্ট ফিল্ম, কমার্শিয়াল ফিল্ম, ব্যতিক্রমী, বিকল্পধারার ফিল্মÑ বিষয়গুলো বিশ্বাস করি না। কারণ সব সিনেমা দিয়েই বাণিজ্য হয়; সব সিনেমাই ব্যবসাসফল হতে পারে।

ইয়াশ : আমি আবার অন্যভাবে বিশ্বাস করি, গুড ফিল্ম বা ব্যাড ফিল্ম নয়; সেটি হবে একসেপ্টেড ফিল্ম অথবা যেই ফিল্মটি কেউ একসেপ্ট করছে না। একটা ছবি আমার কাছে খারাপ লাগতেই পারে, সেটিই আবার অন্যজনের কাছে ভালো লাগতে পারে। সেটি আমি হয়তো বলব ছবিটি ভালো, তার পাসপ্রেকটিভে ছবিটি খারাপও হতে পারে। মানুষ যেটি বেশি গ্রহণ করবে সেটিই একসেপ্টেড।


আপনার মন্তব্য