শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জুলাই, ২০২০ ২১:৫২

অবহেলায় ঘুমিয়ে জাফর ইকবাল

আলাউদ্দীন মাজিদ

অবহেলায় ঘুমিয়ে জাফর ইকবাল

‘হয় যদি বদনাম হউক আরও, আমিতো এখন আর নই কারও’...জনপ্রিয় প্রয়াত নায়ক জাফর ইকবালের কণ্ঠে গাওয়া এই গানটিতে যেন তার আত্ম অভিমান প্রকট হয়ে উঠেছিল। বেঁচে থাকতে এই প্রতিভাবান অভিনেতাকে কতটা মূল্যায়ন করা হয়েছে সে প্রশ্ন থেকেই যায়। অভিনয়ের স্বীকৃতির কথা বাদ দিলেও ‘হয় যদি বদনাম’ গানটির জন্য নিশ্চিতভাবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। এখনো শ্রোতারা গানটি শুনে অশ্রু ঝড়ান। কিন্তু তাকে সেই সম্মান দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর পর দীর্ঘ ১৮ বছর পার হয়ে গেলেও তার জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকীতে চলচ্চিত্র জগৎ, তার পরিবার বা অন্য কেউ তাকে স্মরণ করে না। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো মৃত্যুর পরও অবহেলায় রয়ে গেলেন এই ফ্যাশনেবল ড্যাশিং হিরো। প্রেমে ব্যর্থ ও স্ত্রী সোনিয়া তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কষ্ট ভুলতে জাফর ইকবাল একসময় অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পড়েন। অতিমাত্রায় আসক্তির কারণে ১৯৯২ সালে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের জটিলতায় মৃত্যুবরণকারী জাফর ইকবালের শেষ ঠিকানা হয়েছিল ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে তার কবর(?) খুঁজে পাওয়া গেল। কবরস্থানের একজন কেয়ারটেকার শহীদ, যিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন তিনি জাফরের কবরের জায়গাটি দেখিয়ে বললেন, জাফর ইকবালের পরিবারের কাউকে কখনো এখানে আসতে বা তার কবরের খোঁজ নিতে দেখিনি। কবরটিকে একটি পরিত্যক্ত জঙ্গলই বলা যায়। নেই কোনো নাম ফলক। একটি আম গাছের পাশে জঙ্গলাকীর্ণ স্থান, যেখানে ছোট একটি কাঁঠাল গাছ দাঁড়িয়ে আছে, সেটিকে দেখিয়ে শহীদ জানালেন এটিই সেই নায়কের কবর। এই কবরটির ওপর ইতিমধ্যে ২০/৩০টির মতো কবর পড়েছে। কবরটিতে এখন জাফর ইকবালের বিন্দুমাত্র স্মৃতি চিহ্ন নেই। কষ্ট হলো এই ভেবে যে, এমন একজন জনপ্রিয় নায়ক, গায়ক ও মুক্তিযোদ্ধার প্রতি কি কারও কোনো দায়িত্ব ছিল না। মৃত্যুর পর তার স্মৃতিটুকু ধরে রাখার প্রয়োজনও কি কেউ অনুভব করলেন না। বড় ভাই ও বোন প্রয়াত সংগীতকার আনোয়ার পারভেজ ও শাহনাজ রহমতুল্লাহ বেঁচে থাকতে কি ভাইয়ের প্রতি এতটুকু মমতা অনুভব করেননি। জানা গেছে ফুয়াদ নামে জাফর ইকবালের আরও এক ভাই রয়েছেন। তিনিও কি জাফর ইকবালকে অবহেলার চোখে দেখেন। জাফরের দুই পুত্রও কি বাবাকে ভুলে গেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও জাফরের প্রতি সরকারেরও কি কোনো দায়িত্ব নেই। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি বেঁচে থাকতে কোনো শিল্পীর খবর রাখে না, মৃত্যুর পর তো খবর নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, এমন ক্ষোভ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতার। ববিতা, যিনি জাফরের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রায় ৩০টির মতো জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন তার কথায়, বড় কষ্ট লাগে এমন অবমূল্যায়ন দেখলে, জাফর তো শুধু খ্যাতিমান শিল্পীই ছিলেন না, সাহসী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও তো তার স্মৃতি রক্ষা করা যেত। আমি হয়তো তার সহশিল্পী হিসেবে এগিয়ে আসতে পারতাম। কিন্ত তার তো পরিবার আছে। তারা না বললে তো আমি আগ বাড়িয়ে কিছু করতে পারি না। জাফর ইকবাল হয়তো বুঝেছিলেন তার মতো একজন নিঃসঙ্গ মানুষ যিনি প্রেমে ব্যর্থ এবং বিবাহিত জীবনেও ছিলেন অসুখী, কাজের কোনো মূল্যায়নও পাননি তাকে হয়তো মৃত্যুর পরও অবহেলায় ঘুমিয়ে থাকতে হবে। তাইতো তিনি তার সব আবেগ ঢেলে দিয়ে গেয়েছিলেন ‘হয় যদি বদনাম হউক আরও আমিতো এখন আর নই কারও...।


আপনার মন্তব্য