শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:৪৪

হলিউডের যত ছবির শুটিং এশিয়ায়

হলিউডের যত ছবির শুটিং এশিয়ায়

এশিয়া হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এখানকার সবুজ ও উর্বর প্রকৃতি মুগ্ধ করেছে হলিউডকেও। আর তাই এ অঞ্চলে হলিউডের ছবির শুটিং বেড়ে চলেছে। গত কয়েক বছর ধরে হলিউডের বেশ কিছু ছবির দৃশ্যায়ন হয়েছে এশিয়ার নানা দেশে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন- আলী আফতাব

 

ঢাকায় ‘এক্সট্র্যাকশন’-এর শুটিং

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা নিয়ে নির্মিত হয়েছে হলিউডের ছবি। প্রথমে এই ছবির নাম রাখা হয়েছিল ‘ঢাকা’। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন হলিউড সুপারহিরো ক্রিস হেমসওর্থ। তবে শেষ মুহূর্তে এর নাম পাল্টে রাখা হয়েছিল ‘এক্সট্র্যাকশন’। ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল এটি মুক্তি পেয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফরম নেটফ্লিক্সে। ছবিতে ‘টাইলার রেক’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন হেমসওর্থ। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ঘিরে সাজানো হয়েছে এর কাহিনি। ঢাকা ছাড়াও এর বেশির ভাগ দৃশ্য ধারণ হয়েছে ভারত ও থাইল্যান্ডে। শুটিংয়ের জন্য ঢাকার আদলে বানানো হয় ছোট্ট একটি শহরও। ছবিতে দেখা যায়, অপহৃত এক শিশুকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করবেন হেমসওর্থ। ‘এক্সট্র্যাকশন’ অ্যাকশন ও থ্রিলারধর্মী ছবি। এটি প্রযোজনা করেছেন বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স : ইনফিনিটি ওয়ার’র পরিচালক জো রুশো ও অ্যান্থনি রুশো। এর কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেনও তাঁরা। ছবিটি নির্মাণ করেছেন স্যাম হারগ্রেভ। ‘থর’খ্যাত অভিনেতা ক্রিস হেমসওর্থের পাশাপাশি এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন ইরানি শিল্পী গোলশিফতা ফারাহানি, হলিউডের ডেভিড হারবার, ডেরেক লু, বলিউডের পঙ্কজ ত্রিপাঠী, রণদীপ হুদাসহ অনেকে।

 

অস্কারজয়ী ছবির শুটিং হয় শ্রীমঙ্গলে

অস্কারজয়ী ছবি ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড এইট্টি ডেইজ’ ১৯৫৬ সালে চিত্রায়িত একটি অ্যাডভেঞ্চার চলচ্চিত্র। মজার বিষয় হলো এই চলচ্চিত্রের একটি বড় অংশের শুটিং হয়েছিল বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে। এই ছবিতে অভিনয় করেন ডেভিড নিভান ও ক্যান্টিনফ্লাস। একজন কাঠখোট্টা ব্রিটিশ তাঁর একমাত্র ভৃত্য পার্সপাত্তুকে সঙ্গে নিয়ে বাজি ধরে ৮০ দিনে গোটা বিশ্ব চক্কর মেরে আসেন। চলচ্চিত্রটির পরিচালনায় ছিলেন মাইকেল অ্যান্ডারসন। জুল ভার্নের বিখ্যাত কল্পবিজ্ঞান গ্রন্থ অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইট্টি ডেইজ অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়। ১৮৩ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার জিতে নেয়। সম্ভবত বাংলাদেশে শুট করা প্রথম হলিউড মুভি হচ্ছে এটি। আইএমডিবিতে ৬.৮ রেটিং পাওয়া মুভিটি ৮টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয় এবং এর মধ্যে পাঁচটি জিতে নেয়। এই মুভিটিকে এখনো হলিউডের নেওয়া সবচেয়ে বড় ফিল্ম প্রজেক্ট বলে ধরা হয়ে থাকে।

 

ভারতে হয় যেসব ছবির শুটিং 

ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী ২০১২ সালে ভারতে ২০টি হলিউড ছবির শুটিংয়ের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ২০০৯ সালে মোট ২৪টি ছবির শুটিং হয়েছিল ভারতে। ২০০০ সালের শুরু থেকেই এক শরও বেশি হলিউড পরিচালক ভারতে শুটিং করে গেছেন। ২০১৫ সালে সাতটি হলিউড সিনেমা, যার শুটিং হয়েছে ভারতে। ভারতে বিদেশি ছবির শুটিং অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত শতাব্দীর বিশের দশকে জার্মান পরিচালক ফ্রানৎস অস্টেন ভারতে এসে বেশকিছু সাদা-কালো নির্বাক চলচ্চিত্র তৈরি করেছিলেন। ভারতের পটভূমিকায় বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রিচার্ড অ্যাটেনবরোর ‘গান্ধী’, জেমস বন্ডের ছবি ‘অক্টোপুসি’ এবং ‘ইট, প্রে, লাভ’। তবে ‘স্লামডগ মিলেনিয়ার’কে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে আগ্রহের সৃষ্টি হয়, তা এককথায় অভূতপূর্ব। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলিউডের ছবি, যার শুটিং হয় ভারতে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইট প্রে লাভ ২০১০ সালের রোমান্টিক ড্রামা ও কমেডি ছবি এটি। এই ছবির মুখ্য চরিত্রে দেখা গেছে জুলিয়া রবার্টকে। দিল্লিতে এই ছবির আধ্যাত্মিক অংশের শুটিং হয়েছে। মিশন ইম্পসিবেল ৪ : গোস্ট প্রোটোকল (মুম্বাই) টম ক্রুজ অভিনীত মিশন ইম্পসিবল ৪ ছবির একটা বড় অংশ শুটিং হয়েছে মুম্বাইয়ের ব্যস্ততম রাস্তায়। এ ছবিতে ভারতীয় জনপ্রিয় অভিনেতা অনিল কাপুরকেও দেখা  গেছে। এ মাইটি হার্ট (পুণে) মিশেল উইন্টারবটমের এই ছবিটিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউডের সুপারস্টার অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এই ছবির শুটিং হয়েছে মহারাষ্ট্রের পুণেতে। দ্য হান্ড্রেড ফুট জার্নি। একই নামের উপন্যাসের অনুকরণেই তৈরি এই ছবিটি। এই ছবির প্রথম কয়েকটি দৃশ্য মুম্বাইয়ে শুট করা হয়েছে। এই ছবিটি একটি ভারতীয় পরিবারের। যেখানে এক সদস্য প্রতিভাবান শেফ, এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য ইউরোপে গিয়ে থাকতে শুরু করবে। স্লামডগ মিলেনিয়ার। কিউ অ্যান্ড এ উপন্যাসের অনুকরণে তৈরি এই ছবি। একাধিক পুরস্কারের পাশাপাশি এই ছবি সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে। এই ছবির পুরো শুটিংই মুম্বাইয়ে হয়েছে। লাইফ অব পাই। অ্যাংগ লি-র নির্দেশনায় এই ছবি তৈরি হয়েছে। একটি লাইফবোটে একটি ছেলের এক বাঘের সঙ্গে সংঘর্ষ করে বেঁচে থাকার গল্প এটি। পন্ডিচেরি ও কেরালায়ও এই ছবির কিছু অংশের শুটিং হয়েছে। এই ছবিতে ভারতীয় অভিনেতা ইরফান খানও অভিনয় করেছেন। দ্য বেস্ট এক্সটিক মেরিগোল্ড হোটেল। ২০১২ সালের ব্রিটিশ ড্রামা এটি। এই ছবির পুরো শুটিংটাই উদয়পুর এবং জয়পুরে হয়েছে। জেমস বন্ড সিরিজের ২৩তম ছবির শুটিং হয় ভারতের মুম্বাই এবং ব্যাঙ্গালোরুর মাঝামাঝি কোনকান রেলপথের আশপাশে। এই ছবিতে বন্ড চরিত্রে ছিলেন ড্যানিয়েল ক্রেইগ। এ ছাড়া বন্ডের বস চরিত্রে ছিলেন জুডি  ডেনচ। এই জেমস বন্ড ছবির পরিচালক ছিলেন অস্কারজয়ী ‘আমেরিকান বিউটি’ ছবির পরিচালক স্যাম মেনডেস। এর আগে জেমস বন্ডের ভূমিকায় রজার মুর ভারতে ‘অক্টোপুসি’ ছবির শুটিং করেছিলেন। ১৯৮৩ সালের ‘অক্টোপুসি ছবির শুটিং হয়েছিল আগ্রা এবং উদয়পুরে। তখন বন্ড চরিত্রে ছিলেন হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা রজার মুর। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ভারতীয় অভিনেতা কবির বেদি এবং টেনিস তারকা বিজয় অমৃতরাজ। হলিউডের র‌্যাম্বো প্রসেন্ট ডে ছবির শুটিং হয়েছিল মিয়ানমারে। স্ট্যালোন, যিনি এই সিরিজের চতুর্থ সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন এবং সহ-রচনা করেছিলেন মিয়ানমারের লোকদের কাছে তাদের গল্পটি জানাতে ইনপুট চেয়েছিলেন এবং অনেক অ-অভিনেতাকে অতিরিক্ত হিসেবে অভিনয় করেছিলেন। মিয়ানমার জেনারেল টিন্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ মং মং খিন একজন সাবেক ক্যারেন বিদ্রোহী মুক্তিযোদ্ধা।


আপনার মন্তব্য