শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ মার্চ, ২০২১ ২১:৫৭

কেমন আছেন...

আমেরিকায় শাবানা অস্ট্রেলিয়ায় শাবনূর

আলাউদ্দীন মাজিদ

আমেরিকায় শাবানা অস্ট্রেলিয়ায় শাবনূর

বিউটি কুইন শাবানা...

‘আমি ভাত চুরি করি নাই তো। খিদা লাগে, খাই’- প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের ‘ভাত  দে’ চলচ্চিত্রের এই সংলাপ একজন ক্ষুধার্ত মানুষের অসহায়ত্বের হাহাকার। এমন মর্মস্পর্শী সংলাপ একমাত্র শাবানার মতো একজন বলিষ্ঠ অভিনেত্রীর পক্ষেই পর্দায় জীবন্ত করে তুলে ধরে দর্শকের অশ্রু ঝরানো সম্ভব হয়েছে। এ কারণেই দর্শকহৃদয় তোলপাড় করার পাশাপাশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন। শাবানার অভিনয়কে ভালোবেসে অনিন্দ্য সুন্দরী এই অভিনেত্রীকে তাঁর দর্শক-ভক্তরা ‘বিউটি কুইন’ উপাধি দিতে ভোলেননি।

মাত্র ৯ বছর বয়সে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের হাত ধরে চিত্রজগতে অভিষেক শাবানার। তবে তখন তাঁর নাম শাবানা নয়, ছিল রত্না। প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতার সময় রত্না হিসেবে পরিচিত হলেও এহতেশামই পরে তাঁর ‘চকোরী’ ছবিতে নাম দেন শাবানা। ১৯৬৭ সাল, বাংলা চলচ্চিত্রে আবির্ভাব ঘটল এক নতুন অভিনেত্রীর। উর্দু ছবি ‘চকোরী’তে প্রধান নারী চরিত্রে নায়ক নাদিমের বিপরীতে লাস্যময়ী তরুণীর সাবলীল অভিনয় দিয়ে শাবানা নজর কাড়লেন দর্শকদের। ১৯৬৬  থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শুধু তাঁর নামেই সিনেমা চলত। ১৯৯৭ সালে আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ ছবিই ছিল ১১ বার জাতীয় পুরস্কার পাওয়া অভিনেত্রী শাবানা অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে সপরিবারে থিতু হন। তাঁর পরিবারে স্বামী ছাড়াও আছেন বড় কন্যা সুমি ইকবাল, ছোট মেয়ে ঊর্মি সাদিক ও পুত্র নাহিন সাদিক।

 

আমেরিকায় যেমন আছেন

রবিবার মধ্যরাত পেরিয়ে ঘড়ির কাঁটা তখন এখানে প্রায় ১টার ঘরে। আমেরিকা থেকে  মোবাইল কলে অপর প্রান্তে ঢালিউডের বিউটি কুইনখ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। জানতে চাইলেন দেশের করোনা পরিস্থিতির খবর। বললেন, শুনেছি ঢাকায় মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বললেন, রমজানে দেশে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির অবনতি দেখে আসতে মন সায় দিচ্ছে না। শাবানা এখন নিউজার্সিতে আছেন। জানালেন সেখানকার করোনা অবস্থা আবার খানিকটা অবনতি হয়েছে। করোনার কারণে প্রায় এক বছর বাসা থেকে একমুহূর্তের জন্যও বের হননি তিনি। বিউটি কুইন বলেন, আশার কথা ইতিমধ্যেই এ মহামারীর ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তাই ভয়ের কিছু নেই। এখন শুধু স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চললেই হলো। তিনি বলেন, এ দুর্যোগে প্রিয় চলচ্চিত্র অঙ্গন ও দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে মন কাঁদে তাঁর। শাবানা বলেন, করোনাকালে ঘরের যাবতীয় কাজকর্ম, নামাজ, দোয়া ও রোজা পালনের মধ্য দিয়ে সময় কাটছে। কথায় কথায় এখানে রাত বাড়ে। আমেরিকায় তখন বিকাল সাড়ে ৩টা। আবারও দেশের মানুষের জন্য অভয়ের বাণী দিয়ে একসময় কথা শেষ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা।

 

শাবনূরের কথা

বিউটি কুইনখ্যাত অভিনেত্রী শাবানার পর অন্য যে অভিনেত্রী জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে শাবানার কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছিলেন তিনি হলেন হার্টথ্রব শাবনূর। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী শাবনূর বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পরিবারসহ বসবাস করছেন। অভিনয় থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়ে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনটাকে এখন উপভোগ করছেন তিনি। সংসার ও সন্তানকে নিয়ে এখন বেশি মনোযোগী। তাঁর জনপ্রিয়তায় একটুও ভাটা পড়েনি এখনো। একমাত্র ছেলে আইজান নেহানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রয়েছেন। সেখানে ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। ১৯৯৩ সালে প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী রাতে’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় শাবনূরের। ২০০৫ সালে মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘দুই নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। গত বছরের জানুয়ারিতে সর্বশেষ তিনি অস্ট্রেলিয়া পাড়ি দেন। সেখানকার নাগরিকও তিনি। কথা ছিল গত বছরের মার্চেই দেশে ফিরবেন। কিন্তু ওই মাসেই বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর তা-ব শুরু হলে এখন পর্যন্ত তাঁর আর ফেরা হয়নি। সিডনিতে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ছোট বোন ঝুমুরের স্বামীর সঙ্গে নানা ব্যবসায় যুক্ত  আছেন। করোনাকালে  বিদেশে থাকলেও দেশের মানুষ বিশেষ করে তাঁর কর্মক্ষেত্র চলচ্চিত্রের মানুষের জন্য মন অবিরাম কাঁদে তাঁর। চলচ্চিত্রের অসহায় মানুষের জন্য সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতাও পাঠান তিনি। তাঁর কথায়, কখন যে এই মহামারীর হাত থেকে মানুষ রক্ষা পাবে জানি না। প্রায় প্রতিটি পরিবারে স্বজন হারানোর কান্না কখনো থামবে কিনা জানি না।