শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর, ২০২০ ০৮:৩৭
আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০২০ ১০:৫০

চুকুরের নতুন জাত উদ্ভাবন

খায়রুল ইসলাম, গাজীপুর :

চুকুরের নতুন জাত উদ্ভাবন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (গবেষণা) ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম বাণিজ্যিক কৃষির বিষয়টি মাথায় রেখে সম্প্রতি বিইউ রোজেল ১ নামে চুকুরের একটি জাত উদ্ভাবন করেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে চুকুরের জাতটি অবমুক্ত হয়েছে। 

অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম জানান, জাতটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর গাছ ঝোপালো, খাট আকৃতির এবং গাছের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফল দেয়। তাছাড়া ফলের বৃতি মোটা, বড় ও মাংশাল, ফলন (৩.৫-৪.০ টন) বেশী। যেখানে দেশীয় বা অন্যান্য জাতের চুকুরের অংগজ বৃদ্ধির তুলনায় ফলের সংখ্যা কম, আকৃতি ছোট, বৃতি পাতলা হওয়ায় ফলন কম এবং জীবনকাল ১৮০-২১০ দিন। কিন্তু বিইউ রোজেল ১ জাতটির জীবনকাল ১২০-১৫০ দিন। উঁচু, মাঝারি উঁচু জমিতে, বাড়ির আঙ্গিনায় চাষ করা যায়। চুকুর পাতা ও ফলে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, কেরোটিন, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান রয়েছে। বীজ থেকে ২০% এর বেশী খাবার তেল পাওয়া যায়। এছাড়াও চুকুরে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, উচ্চ রক্তচাপ কমায়, রক্তে চিনির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে, ওজন কমাতে এবং বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে।

জাতটির উদ্ভাবক ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলামের মতে, এই চুকুর শুধু নিজেদের খাবার হিসেবে নয়, কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি চুকুর প্রক্রিয়াজাত করেও ব্যবহার করা যায়। চুকুর দিয়ে উৎপাদিত চা, মেস্তাস্বত্ব, জ্যাম, জেলি, জুস, আচার ইত্যাদি বাজারজাত করা গেলে পাল্টে যাবে দেশের অর্থনীতির চিত্র। এ ছাড়া বিদেশে চুকুরের প্রচুর চাহিদা থাকায় চুকুর থেকে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বাণিজ্যিকভাবে চুকুর চাষ করছে, পাশাপাশি নতুন নতুন খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কলকারখানা স্থাপন করছে। বাংলাদেশেও চুকুরকে ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরণের প্রক্রিয়াজাতকরণ কলকারখানা গড়ে ওঠতে পারে, যার ফলে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। দেশের কৃষক ও জনগণকে এই ফসলের উপকারিতা সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলতে পারলে চুকুর বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিণত হবে। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য