Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ০০:০০

কূল-কিনারা হয়নি মাওলানা ফারুকী হত্যাকাণ্ডের

কূল-কিনারা হয়নি মাওলানা ফারুকী হত্যাকাণ্ডের

কূলকিনারা হয়নি মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, বেশ কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে তারা তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে না পারায় নিহত ফারুকীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমন অবস্থায় রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় ফারুকীর পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল বেলা ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উগ্রপন্থীরা পরিকল্পিতভাবে ফারুকীকে হত্যা করেছে বলে তারা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মাওলানা ফারুকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মাহমুদা খাতুন, শরিফুল ইসলাম ও ইউসুফ মজুমদারকে রিমান্ডে আনা হলেও তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো তথ্য পায়নি। এর আগে তাদের তিনজনকেই ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে আনে পুলিশ। গতকাল মাহমুদা ও শরিফুলের রিমান্ড শেষ হলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অপর সন্দেহভাজন ইউসুফের রিমান্ডে গতকাল শেষ হয়েছে। আজ তাকে আদালতে পাঠানো হবে। এদিকে লিখিত বক্তব্যে নিহত ফারুকীর মেজ ছেলে আহমদ রেজা ফারুকী বলেন, পারিবারিক, ব্যবসায়িক কিংবা ডাকাতির ঘটনায় তার বাবা খুন হননি। তার বাবা সুনি্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। হত্যার আগে তাকে তার মতাদর্শের বিরোধীরা মোবাইল ফোন ও ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেয়। উগ্রপন্থীরা পরিকল্পিতভাবে তার বাবা মাওলানা ফারুকীকে হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মামলায় ৩০২ ধারা সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তিনি বলেন, তার বাবা ডাকাতের হাতে খুন হয়েছেন বলে পুলিশের মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তার বাবার হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। এটা নিছক ডাকাতির ঘটনা নয়। মামলার এজাহারেই মামলাটিকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। তিনি মামলাটিতে দণ্ডবিধি ৩০২ ও ৩৪ ধারা সংযুক্ত করার দাবি জানান। যাতে করে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। মামলার এজাহার লেখার সময় পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাবাকে যখন হত্যা করা হয়, তখন আমার বড় ভাই মাসুদ রেজা ফারুকী নেদারল্যান্ডসে ছিলেন। কিন্তু তড়িঘড়ি করে পুলিশ মামলার এজাহার তৈরি করে তার ছোট ভাই ফয়সাল ফারুকীকে দিয়ে সই করিয়ে নেয়। ফয়সালের বয়স ১৮ হলেও মামলা সম্পর্কে তার ধারণা কম ছিল। রেজা ফারুকী বলেন, দেশে অনেক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হলেও মাঝপথে থেমে যায়। ধীরগতি দেখা যায়। হত্যাকাণ্ডের এ মামলাটিও মাঝপথে থেমে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি সরকারের কাছে দাবি করেন, এ মামলার যেন সুষ্ঠু বিচার হয়। এ প্রসঙ্গে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি আবদুল মোমিন জানিয়েছেন, মামলার এজাহারটি সঠিকভাবেই লেখা হয়েছে। দণ্ডবিধি ৩৯৬ ধারায় খুনসহ ডাকাতির অপরাধের কথা বলা হয়েছে। মামলার এজাহার দুর্বল করে লেখা হয়নি। ইসলামী ছাত্রসেনার ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত ধীরগতিতে চলছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের কাছে পুলিশ কোনো তথ্য পায়নি। তারা যাদের নামের তালিকা দিয়েছিলেন তাদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ফারুকী হত্যা মামলায় কোনো ক্লু উদ্ধার হয়নি। পরিবারের সদস্যরাও সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ করতে পারেনি। তবে ডিবি চেষ্টা করছে।

প্রসঙ্গত, ২৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর ১৭৪, পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর