Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৪

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্পের আর্জি খারিজ

প্রতিদিন ডেস্ক

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্পের আর্জি খারিজ

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছেন সপ্তাহ দুয়েক। এরপর যাচ্ছেতাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এই ধনকুবের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তার সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আদালত। দেশটির আদালতে ধাক্কার ওপর ধাক্কা খেয়েই চলেছেন ডোনালান্ড ট্রাম্প। ‘নিষিদ্ধ’ সাতটি মুসলিম দেশ থেকে অভিবাসীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে দ্রুত পুনর্বহাল করার আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে গতকাল। গত শুক্রবার সিয়াটেল ফেডেরাল কোর্ট ট্রাম্পের ওই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের আইন দফতর রায়ের ওপর জরুরি স্থগিতাদেশ চেয়ে শনিবার আপিল আদালতে আবেদন করে। বাংলাদেশ সময় গতকাল সেই আবেদন খারিজ করে দিল আপিল আদালত। আপিল খারিজ করে দিয়ে আদালত হোয়াইট হাউসকে এবং বিভিন্ন প্রদেশের আইনজীবীদের আরও বেশি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজ পর্যন্ত সময় দিয়েছে। মার্কিন বিভিন্ন প্রদেশের আইনজীবীরা বলছেন, সাতটি দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুরোপুরি অসাংবিধানিক। আর জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি সংক্রান্ত প্রেসিডেন্টের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলার কোনো অধিকার তাদের নেই। শুক্রবার সিয়াটেলের ফেডেরাল বিচারপতি জেমস রবার্ট, ‘নিষিদ্ধ’ সাতটি মুসলিম দেশ থেকে অভিবাসীদের ঢুকতে দেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেন। এই স্থগিতাদেশ জারি করা হয় গোটা আমেরিকা জুড়েই। এই রায়ের পরেই আদালতের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন ট্রাম্প। স্থগিতাদেশকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়ে বিচারপতি জেমস রবার্টের সমালোচনা করে টুইট করেন ট্রাম্প। টুইটারে ট্রাম্প লেখেন, ‘তথাকথিত এই বিচারপতির নির্দেশ অর্থহীন। এতে দেশের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। হাস্যকর এই নির্দেশ বদলাতে বাধ্য।’ কোনো বিচারপতির উপরে  প্রেসিডেন্টের এমন সমালোচনা নজির কমই আছে বলে জানিয়েছে মার্কিন রাজনীতিকরা। এরই সঙ্গে আদালতকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে রায়কে বদলে দেবেন বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেন, ‘কার্যকর হবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা।’ উল্লেখ্য, সিয়াটেলের ফেডেরাল বিচারপতি জেমস রবার্টকে কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিয়োগ দেননি। তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান নেতা জর্জ ডব্লিউ বুশ। মূলত ট্রাম্পের জারি করা নিষেধাজ্ঞা বাতিলের বিরুদ্ধে রিট করেছিল ওয়াশিংটন এবং মিনেসোটা স্টেট। এই দুই  স্টেটকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেন তারা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে তা নথিপত্রসহ আজকের মধ্যেই পেশ করতে। অন্য দিকে ট্রাম্পের বিচার বিভাগকে স্থানীয় সময় আজ বিকাল ৩টা পর্যন্ত সময়  দেওয়া হয়েছে নিজেদের অবস্থানের স্বপক্ষে আরও নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য। গত ২৭ জানুয়ারি ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া ও সুদানের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর ৯০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ দেশগুলোর ভিসা পাওয়া লোকজনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। অনেকে শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে এসে আটক হন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণের কর্মসূচি ১২০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে ওই সাত দেশে দেওয়া প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ভিসা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। সিয়াটল আদালতের রায়ের পর মার্কিন বিদেশ পররাষ্ট্র দফতর ওই সাতটি দেশের নাগরিকদের ভিসায় বৈধতার সিলমোহর দেওয়ার কাজ শুরু করতে বাধ্য হয়েছে। দেশগুলোর নাগরিকদের আমেরিকাগামী বিমানে ওঠার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এএফপি, বিবিসি।


আপনার মন্তব্য