Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৯

ঐক্যফ্রন্ট জিতলে সংখ্যাগরিষ্ঠরা প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবেন

সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঐক্যফ্রন্ট জিতলে সংখ্যাগরিষ্ঠরা প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবেন

সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একাদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে ঐক্যফ্রন্ট সহযোগিতা চেয়েছে। সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানে বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.কমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী প্রশ্ন করেন, আপনারা নির্বাচনে জিতলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? জবাবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে জিতলে জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বসেই ‘প্রধানমন্ত্রী’ কে হবেন তা স্থির করবে। তবে সভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় খালিদী সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এ প্রশ্নের জবাব তিনি পাননি।

গতকাল রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন বর্জন না করার জন্য ঐক্যফ্রন্টকে পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আহ্বান জানানো হয় নির্বাচনী ফল মেনে নেওয়ারও। এই পরামর্শ ও আহ্বানে সাড়া দিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের মালিক জনগণ— এ সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্রের লড়াই করার লক্ষ্যে আমরা সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। সভায় ঐক্যফ্রন্টের ভুলভ্রান্তি তুলে ধরে তার প্রতিকারার্থে করণীয় চিহ্নিত করায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্পাদকদের ধন্যবাদ জানান।

সভায় সম্পাদকদের মধ্যে অংশ নেন— নিউজ টুডের রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, আমাদের নতুন সময়ের নাঈমুল ইসলাম খান, নিউ এজের নূরুল কবীর, বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.কমের তৌফিক ইমরোজ খালিদী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের, দিনকালের রেজোয়ান সিদ্দিকী, ঢাকা ট্রিবিউনের জাফর সোবহান, বাংলাদেশের খবরের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, সাপ্তাহিকের গোলাম মোর্তজা। এ ছাড়া ডেইলি স্টারের প্ল্যানিং এডিটর সাখাওয়াত হোসেন লিটন, যুগান্তরের প্রধান প্রতিবেদক মাসুদ করীম, সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মুন্সী আবদুল মান্নান, ভয়েস অব আমেরিকার আমীর খসরু, রয়টার্সের সিরাজুল ইসলাম কাদির, এএফপির শফিকুল আলমও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জোট নেতাদের মধ্যে বিএনপির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, নির্বাচন বর্জনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসুন। আপনাদের সমস্যাগুলো নির্বাচন কমিশন, রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরুন।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রাম একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া। এ জন্য নির্বাচন করতে হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে চাতুরি করে আওয়ামী লীগকে ৩৯টি আসন দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচন বর্জন করেনি। এরশাদ আমলেও কারচুপি করে নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবুও আওয়ামী লীগ নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছিল। তিনি ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উদ্দেশে বলেন, গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে আপনারা কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন বর্জন করবেন না। নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন তা মেনে নিয়ে গণতন্ত্রের ঐতিহ্য সৃষ্টির জন্যও আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠক শেষে আমাদের নতুন সময় সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, ঐক্যফ্রন্ট নেতারা জাতীয় দিবস নিয়ে কথা বলেন। তারা ক্ষমতায় গেলে জাতীয়ভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালন করবেন কিনা— ফ্রন্ট নেতাদের কাছে এমন প্রশ্ন রেখেছেন তিনি। এ ছাড়া ১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্ট নিয়ে বিএনপির বক্তব্য কী? এর উত্তরে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেছেন, তারা প্রথমে সবার প্রশ্ন শুনবেন, উত্তর পরে দেবেন। নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পথের প্রতিবন্ধকতাগুলো কী তা সাংবাদিকদের কাছে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের জানার দরকার নেই। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন তারা কী কী প্রতিবন্ধকতা করেছিলেন তা তো তাদের মনে থাকার কথা। সে অভিজ্ঞতা থেকে সমস্যাটির প্রতিকার বিধানের আহ্বান জানান তিনি।

বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.কমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরাজ খালিদী সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন— এ প্রশ্নের জবাব আমি পাইনি। তিনি বলেন, প্রতিটি দল এবং জোটের উচিত নির্বাচনের আগেই তাদের নেতা (প্রধানমন্ত্রী) ঠিক করা এবং তা জনগণকে জানানো। ঐক্যফ্রন্টের যদি ড. কামাল হয়ে থাকেন, তাহলে তা স্পষ্ট করা। মতবিনিময় সভা শেষে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে এসে ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে এবং সহযোগিতা করতে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ড. কামাল হোসেন বলেন, বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এটি একটি মূল্যবান সভা ছিল। কেননা তারা (সম্পাদকরা) বিভিন্ন ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন। আমাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের কাছ থেকে তারা কী আশা করেন, তা জানতে চেয়েছেন।

গণফোরাম সভাপতি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের যেমন কর্তব্য আছে, আমরা যারা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি আছি, যারা নির্বাচন করতে যাচ্ছি, তাদেরও কর্তব্য আছে। দলগুলোকে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে যেন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়। তিনি বলেন, সম্পাদকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে কী কী জিনিস দেখেছেন। সম্পাদকরা মনে করেন আমাদের সবাইকে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করতে হবে জনগণ যেন সত্যিকার অর্থে নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. কামাল বলেন, নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অবাধ ও নিরপেক্ষ যেন হয় সেটাই তাদের লক্ষ্য। এটাকেই তারা সত্যিকার অর্থে মূল্যবান মনে করেন। ঐক্যফ্রন্টের সেই চেষ্টা থাকবে। তিনি বলেন, সরকারের আচরণের বিভিন্ন দিক তারা চিহ্নিত করেছেন। ঐক্যফ্রন্ট আশা করে সংবাদপত্র এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখবে। ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যেসব সহযোগিতা দরকার, তার সবই সম্পাদকদের কাছে চাওয়া হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর