Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:৫৫

আইএসের দায় স্বীকার

নিহত বেড়ে ৩২১ । নিউজিল্যান্ডে হামলার প্রতিশোধ নিতে এ আক্রমণ : শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

আইএসের দায় স্বীকার
সমাধিক্ষেত্রে প্রিয়জনকে রেখে যেতেই চাইছিলেন না এই নারী। সারি সারি কফিন গতকাল কলম্বোতে -এএফপি

শ্রীলঙ্কায় কয়েকটি চার্চ ও হোটেলে একযোগে চালানো আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১-এ দাঁড়িয়েছে। গত রবিবার ওই হামলায় আহত পাঁচ শতাধিক মানুষের মধ্যে বেশ কয়েকজন গত দুই দিনে হাসপাতালে মারা যান। হতাহতদের স্মরণে শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে একযোগে আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি দল ইসলামিক স্টেট (আইএস)। আইএসের বার্তা সংস্থা আমাক-এ গতকাল হামলার দায় স্বীকার করে আরবিতে লেখা এ বার্তা প্রচার করা হয়। তবে সেখানে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাভন বিজয়বর্ধনে বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের মসজিদে চালানো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে শ্রীলঙ্কাজুড়ে গির্জায় ও পাঁচতারা হোটেলে বোমা হামলা ঘটানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি বের হয়েছে। হামলায় দুটি স্থানীয় ইসলামী সংগঠন দায়ী- এমন ধারণা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। জমিয়াতুল মিল্লাতু ইবরাহিম (জেএমআই)-এর সঙ্গে মিলে ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত এ হামলা চালিয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কা সরকারের ধারণা, যে সংগঠনই ওই হামলা চালিয়ে থাকুক, তারা শ্রীলঙ্কার বাইরে থেকে সহযোগিতা পেয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তে আন্তর্জাতিক সহায়তাও চাওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকারের তরফ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছেন, হামলাগুলোয় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কিছু বৈশিষ্ট্যের ছাপ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে ভয়াবহ হামলার তদন্তে ইতিমধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল। প্যারিসভিত্তিক এ সংস্থাটি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে তারা একটি দল কলম্বোয় পাঠিয়েছে, যদি আরও কিছু প্রয়োজন হয়, তাও দিতে তৈরি তারা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও ব্রিটিশ কর্মকর্তারাও তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার পুলিশ জানিয়েছে, ওই হামলায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত মোট ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও এর অধিকাংশই শ্রীলঙ্কান ও এদের জিজ্ঞাসাবাদের পর একজন সিরীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কা সরকার ও সামরিক বাহিনীর তিনটি সূত্র। সূত্রের খবর, স্থানীয় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাকে (সিরীয়) গ্রেফতার করা হয়। চ্যানেল নিউজ এশিয়ার খবরে বলা হয়, জরুরি অবস্থা চলতে থাকা ভারত মহাসগারের এই দ্বীপদেশে তিন মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কার্যক্রম শুরু হয়। পুরো দেশে সব সরকারি-আধাসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা রাখা হয় অর্ধনমিত। বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত নেগম্বোর সেইন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায় শেষকৃত্য শেষে নিহতদের কয়েকজনকে শোয়ানো হয় গণকবরে। হতাহতের অধিকাংশই শ্রীলঙ্কান। তবে নিহতের মধ্যে ৩৮ জন বিদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এর মধ্যে অন্তত আটজন ভারতীয়, আটজন ব্রিটিশ, তিনজন ডেনিশ, দুজন তুর্কি, দুজন অস্ট্রেলীয়, একজন চীনা, একজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগালের নাগরিক রয়েছেন। এক দশক আগে বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিল টাইগাররা উৎখাত হওয়ার পর এমন ভয়াবহ হামলা আর দেখা যায়নি শ্রীলঙ্কায়।

আইএস-আলকায়েদাকে সন্দেহ বিশেষজ্ঞদেরও : শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার ধরন দেখে এ হামলা ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) কিংবা আলকায়েদা চালিয়ে থাকতে পারে বলেই ধারণা প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রীলঙ্কায় যেসব হোটেল ও গির্জায় বিদেশি পর্যটকরা থাকেন সেগুলোয় কয়েকটি আত্মঘাতী হামলা হয়েছে। কলম্বোর অভিজাত শাংরি লা হোটেলসহ তিনটি গির্জা ও দুটি হোটেলে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। দক্ষিণ এশিয়া এবং এর বাইরের অঞ্চলগুলোয় এর আগেও এমন গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলগুলো ইসলামী জঙ্গিদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষজ্ঞ জঙ্গিগোষ্ঠী নিয়ে দশকব্যাপী গবেষণা করা অ্যাল্টো লাবেতুবন বলেছেন, শ্রীলঙ্কায় এমন সমন্বিত হামলা সাধারণ কোনো হামলা নয়। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ ধরনের হামলাগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, শ্রীলঙ্কায় হামলার ধরন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আলকায়েদার চালানো হামলার সঙ্গেই মিলে যায়। এশিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এ হামলা এমন একটি জঙ্গিগোষ্ঠী চালিয়েছে যাদের অভিযান পরিচালনার দক্ষতা আছে এবং যাদের দক্ষ কমান্ডার আছে। সিঙ্গাপুরের অন্য এক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলছেন, শ্রীলঙ্কান গ্রুপটি শ্রীলঙ্কার ইসলামিক স্টেটের (আইএস) শাখা এবং শ্রীলঙ্কানদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের যোগ আছে। যারা সিরিয়া ও ইরাকে কট্টর এ গোষ্ঠীটির সঙ্গে যোগ দিতে মধ্যপ্রাচ্যও সফর করেছে।

সমুদ্রে সতর্ক ভারতীয় কোস্টগার্ড : শ্রীলঙ্কার বোমা হামলাকারীদের ভারতে প্রবেশের চেষ্টা রুখতে সমুদ্রসীমান্তে ভারতীয় কোস্টগার্ডকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। স্থানীয় ইসলামী কট্টরপন্থি গোষ্ঠী ন্যাশনাল তওহিদ জামাত শ্রীলঙ্কায় সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, দেশটির কর্তৃপক্ষ এমন কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সতর্কতামূলক এ পদক্ষেপ নেয় দিল্লি। হামলার সঙ্গে জড়িতরা সমুদ্রপথে দ্বীপদেশটি থেকে পালাতে পারে, এমন শঙ্কায় এ পদক্ষেপ। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কয়েকটি সূত্র দেশটির গণমাধ্যম এনডিটিভিকে এ কথা জানিয়েছেন।


আপনার মন্তব্য