শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ মে, ২০১৯ ২৩:১২

র‌্যাঙ্কিংয়ে নেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

এশিয়ার ৪০০ তালিকায় নাম নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, আন্তর্জাতিক তালিকাতেও একই হাল তালিকায় আছে ভারতের ৭৯, পাকিস্তানের ৮, শ্রীলঙ্কার ২ ও নেপালের ১টি

জুলকার নাইন

র‌্যাঙ্কিংয়ে নেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

এশিয়ার ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম নেই বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের। টাইমস হায়ার এডুকেশনের এই র‌্যাঙ্কিং নিয়ে দেশে চলছে তোলপাড়। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকলেও নেপাল, কাজাখিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় সমালোচনার ঝড় তুঙ্গে। অবশ্য শুধু টাইমস হায়ার এডুকেশনের ‘টিএইচই র‌্যাঙ্কিং’ নয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম নেই স্বীকৃত অন্যান্য আন্তর্জাতিক র‌্যঙ্কিংয়েও। এআরডব্লিউইউ র‌্যাঙ্কিং, ওয়েবোমেট্রিকস র‌্যাঙ্কিং এবং ইউএস র‌্যাঙ্কিং-এও স্থান পায়নি বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়। তবে কিউএস র‌্যাঙ্কিং নামের অপর এক গ্লোবাল র‌্যাঙ্কিং-এ বাংলাদেশের এক মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানেও আগের চেয়ে অবনতি হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। জানা যায়, বিশ্বের বেশ কয়েকটি সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর  র‌্যাঙ্কিং করে থাকে। এর মধ্যে আছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান টাইমস হায়ার এডুকেশনের (টিএইচই) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং, চীনের সাংহাই জিয়াওটং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত একাডেমিক র‌্যাঙ্কিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ (এআরডব্লিউইউ) এবং কিউ-এস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের র‌্যাঙ্কিং। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ইন্টারনেটে থাকা তথ্যের ওপরে করা ওয়েবোমেট্রিকস র‌্যাঙ্কিং এবং আমেরিকার ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের র‌্যাঙ্কিংও বিশ্ব স্বীকৃত। গতকাল এসব র‌্যাঙ্কিংয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখা যায়, কিউ এস র‌্যাঙ্কিং ছাড়া কোনোটিতেই বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্থান পায়নি।

লন্ডন-ভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ তাদের পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী এশিয়ার ৪১৭টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠদান, গবেষণা, জ্ঞান আদান-প্রদান এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি-এই চারটি মৌলিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে জরিপটি পরিচালিত হয়। চীনের ৭২টি, ভারতের ৪৯টি, তাইওয়ানের ৩২টি, পাকিস্তানের ৯টি, হংকংয়ের ছয়টি, ইন্দোনেশিয়ার পাঁচটি, মালয়েশিয়ার ১১টি, ফিলিপাইনের তিনটি, কাজাখিস্তানের দুটি, ইরাকের একটি, নেপালের একটি ও শ্রীলঙ্কার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আছে তালিকায়। জরিপে নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আছে। নাম আছে শ্রীলঙ্কার ‘ইউনিভার্সিটি অব কলম্বো’র। এশিয়ার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চীনের ‘সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়’। গত বছর এক নম্বরে থাকা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর এবার আছে দুই নম্বর অবস্থানে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চলছে না। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি ছাত্র থাকবে, বিদেশি শিক্ষক থাকবে, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থাকবে এবং গবেষণা থাকবে। কিন্তু এখানে এসবের নাম গন্ধ নেই। বাংলাদেশের অনেক অধ্যাপক বিদেশে সহকারী অধ্যাপক হতে পারেন না। এ ছাড়া প্রশ্ন আছে বাংলাদেশের আবাসিক হলের পরিবেশ নিয়েও। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো অনেকটা বস্তির মতো। কিন্তু আবাসিক হল হওয়ার কথা টিপটপ হোটেল বা রিসোর্টের মতো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্ন মনোরম পরিবেশ থাকার কথা থাকলেও তা নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। বাংলাদেশে কিছু বিল্ডিং-এ শিক্ষাদান করা শিক্ষকরা রাজনীতি নিয়েই বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের মতে, নেপালের বিশ্ববিদ্যালয়ের একেকটি বিভাগ থেকে যে সংখ্যক শিক্ষার্থী আমেরিকায় যায়, সারা বাংলাদেশ থেকেও অত শিক্ষার্থী আমেরিকায় যায় না। পাকিস্তানে ইমরান খান ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী ভবনকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে দিয়েছেন। সেখানে একটি বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হবে। তা ছাড়া পাকিস্তানের শিক্ষকরা ভারতীয় শিক্ষকদের চেয়েও বেশি বেতন পান। কিন্তু বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন কাঠামো অত্যন্ত নিম্ন। অপর এক শিক্ষকের মতে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা যতটুকুও গবেষণা করছেন সেগুলোরও কোনো তথ্য নেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটে। অনেক ক্ষেত্রে গবেষকরা তাদের গবেষণার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রিপোর্টও করছেন না। অবশ্য এসব গবেষণার অনেকগুলোই বাংলা ভাষায় হওয়ায় এবং ইংরেজিতে ভাষান্তর না হওয়ায় এগুলোর তেমন কোনো মূল্য থাকছে না আন্তর্জাতিক স্তরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের মতে, টাইমস হায়ার এডুকেশন যেসব সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকাটি দিয়েছে, তারা সেগুলো এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পায়নি। কিন্তু আমাদের বক্তব্য হচ্ছে- আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের মান বিশ্বমানের চেয়ে খুব বেশি যে পেছনে তা নয়। বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাচ্ছে। সেখানে তারা প্রতিযোগিতা করে ভর্তি হচ্ছে। সেখান থেকে ভালো রেজাল্ট করে বের হয়ে আসছে। বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েটদের মান যদি র‌্যাঙ্কিংয়ের ক্যাটাগরিতে নিয়ে আসি তাহলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব বলে আমার বিশ্বাস। তবে ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অবকাঠামোর দিক থেকে- বাজেট বরাদ্দ, ল্যাবরেটরি-লাইব্রেরি সুবিধা- এগুলোর দিক থেকে আমরা বিশ্বমানের চেয়ে পিছিয়ে আছি- সেটি অস্বীকার করা যাবে না। এই সীমিত সুযোগ দিয়ে আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের যে পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি সেটি একটি র‌্যাঙ্কিংয়ের দাবি রাখে।

সবেধন নীলমনি কিউএস র‌্যাঙ্কিং : বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত র‌্যাঙ্কিংগুলোতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লজ্জাজনক অনুপস্থিতির মধ্যেই একমাত্র আশার সঞ্চার করেছে কিউএস র‌্যাঙ্কিং। এর গ্লোবাল র‌্যাঙ্কিং-এ ৮০০ থেকে ১০০০ এর মধ্যে অবস্থান আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। অবশ্য পাঁচ বছরে এই অবস্থানও ধারাবাহিকভাবেই পিছনের দিকে চলে গেছে। গত বছরও ৭০০+ তালিকায় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


আপনার মন্তব্য