Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুন, ২০১৯ ২৩:১০

কী থাকছে বাজেটে

আকার ৫,২৩,১৯০ কোটি টাকা সংসদে উপস্থাপন কাল

মানিক মুনতাসির

কী থাকছে বাজেটে

আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বিশাল আকারের বাজেট আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন এই বাজেটে আর্থিকসহ কয়েকটি খাতের সংস্কারের পাশাপাশি নতুন কিছু চমক নিয়ে আসছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আগেই বলেছেন, এটি হবে একটি জনকল্যাণমুখী বাজেট; যা দেওয়া হবে অত্যন্ত সহজ ও সংক্ষিপ্ত ভাষায়। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এবারের বাজেটের মূল আকার হতে পারে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হচ্ছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ধরা হচ্ছে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।  যদিও প্রথম দিকে এটা ৮ দশমিক ২০ শতাংশ ধরার কথা ভাবছিল সরকার। কিন্তু চলতি বছরে জিডিপির উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তা সামান্য বাড়িয়ে ধরা হচ্ছে বলে জানা গেছে। চলতি অর্থবছরের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্জন হবে বলে মনে করছে সরকার। আগামী অর্থবছরের জন্য মোট রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা থাকবে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতির হার ধরা হচ্ছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের জন্য ধরা হয়েছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ধরা হচ্ছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বরাবরের মতো ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। তবে সমস্যা মূলত ঘাটতি অর্থায়নের উৎস নিয়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১১তম, আর তৃতীয় দফা মেয়াদের প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট এটি। সংস্কার : অর্থমন্ত্রী আগেই ঘোষণা দিয়েছেন ট্যাক্স ও ব্যাংকিং খাতের জন্য পৃথক দুটি কমিশন গঠন করা হবে। আর্থিক খাত দেখার জন্য একটি আর রাজস্বের দিকটি দেখার জন্য আরেকটি কমিশন গঠন করা হবে। এ ছাড়া করকাঠামো, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্র, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ আরও কয়েকটি খাতে ব্যাপক সংস্কার আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বাজেটে। তবে জনগণের ঘাড়ে কোনোভাবেই নতুন করে করের বোঝা চাপানো হবে না বলে একাধিকবার গণ্যমাধ্যমকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কিছু নতুন উদ্যোগ : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এবারের বাজেটে এ বিষয়ে সুখবর দিতে যাচ্ছে সরকার। দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ নামে একটি তহবিল নতুন প্রাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। ১০০ কোটি টাকার এ তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন শিক্ষিত বেকাররা। এ ছড়া কৃষকের জন্য ঘোষিত শস্যবীমার পাইলট প্রকল্পও চালু করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। বিদেশে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হন। আবার যারা প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসেন তাদের জন্যও ঝুঁকিবীমার ঘোষণা থাকছে আগামী বাজেটে। মোট আয় : বাজেট প্রস্তাবে বড় আকারের ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ আয় হবে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। চলতি বছর মোট রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে রাজস্বের পরিমাণ ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করা হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০৩ কোটি টাকা, এটি জিডিপির ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে এনবিআর কর রাজস্ব পরিমাণ ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। এনবিআরবহির্ভূত কর রাজস্বের পরিমাণ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। কর ছাড়া আয় হবে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ আগামী বছরে দাঁড়াবে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। বাজেটের ব্যয় : আসন্ন বাজেট প্রস্তাবে মোট ব্যয় চূড়ান্ত করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা; যা জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বাজেটের আকার হচ্ছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ছে ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। এ ব্যয়ের বড় একটি অংশ যাবে পরিচালন খাতে। এতে ব্যয় হবে ৩ লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবর্তক ব্যয় হবে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা; যার একটি বড় অংশ ব্যয় হবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে। আগামী অর্থবছরে এডিপি খাতে ব্যয় হবে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। আবর্তক খাতের আরও একটি অংশ ব্যয় হবে সুদ পরিশোধে। অর্থাৎ বিদেশ থেকে নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করা হবে ৪ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ করা হবে ৫২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। ব্যয়ের আরেকটি খাত হচ্ছে এডিপিবহির্ভূত প্রকল্প। এ খাতে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি স্কিমে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। আর কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি মূলধনী খাতে ব্যয় হবে ৩২ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা, খাদ্য হিসেবে ৩০৮ কোটি টাকা এবং ঋণ ও অগ্রিম খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৯৩৭ কোটি টাকা। সামগ্রিক ঘাটতি : আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ (অনুদানসহ) দাঁড়াবে ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া এ ঘাটতির পরিমাণ হবে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। তবে অন্য বছরের মতো জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই রাখা হয়েছে নতুন ঘাটতি বাজেট। এ ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ব্যাংক খাত থেকেই ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে ৪৭ হাজার কোটি টাকা। জিডিপির আকার : চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে জিডিপির আকার প্রাক্কলন করা হয়েছিল ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই অর্থবছর জুড়ে দেশে যে অর্থনৈতিক কর্মকা- হবে, তার আর্থিক মূল্য হবে এটি। সংশোধিত বাজেটে জিডিপির আকার কমিয়ে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ কোটিতে নামানো হচ্ছে। আর নতুন অর্থবছরের জন্য আকার প্রাক্কলন করা হচ্ছে ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা।

১ জুলাই থেকেই নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন : বহুস্তরবিশিষ্ট ভ্যাটব্যবস্থার প্রবর্তন রেখে নতুন ভ্যাট আইন, ২০১২ অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকেই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এটি কার্যকর হলে আগামী বছর রাজস্ব আদায়ে গতি আসবে। তবে নতুন আইনে কোনো পণ্যের ওপর ভ্যাট ও করহার বাড়বে না- এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নিজেই।


আপনার মন্তব্য