Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৪৯

ফ্রন্ট-জোটে আগ্রহ নেই বিএনপির

খালেদার মুক্তি ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে দলের একক কর্মসূচি,বিভাগীয় সমাবেশে দুই জোটের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, কাদের সিদ্দিকীকে ফ্রন্টে ফেরানোর উদ্যোগ নেই

মাহমুদ আজহার

ফ্রন্ট-জোটে আগ্রহ নেই বিএনপির

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আর আগ্রহ নেই বিএনপির। ক্রমেই ফ্রন্টের কার্যক্রম থেকে সরে আসছে দলটি। দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈঠকও হচ্ছে না। অন্য দলগুলো বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানালেও বিএনপিই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। দলের নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশের মনোভাব হচ্ছে, জোট ফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে বিএনপিকে এককভাবে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকতে হবে। এমনকি ২০-দলীয় জোট নিয়েও ভাবনা নেই বিএনপির। এই জোটে জামায়াত থাকায় বিপাকে আছে দলটি। জামায়াতকে না পারছে ছাড়তে না পারছে রাখতে। সম্প্রতি একবার বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের জন্য দলের নেতা-কর্মীদেরই মাঠে সরব হতে হবে। এ নিয়ে জোট-ফ্রন্টের দ্বারস্থ হয়ে কোনো লাভ নেই। সর্বশেষ দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও দলীয় কর্মসূচি নিয়েই সামনে পথ চলার সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই বিএনপি সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে একক কর্মসূচি ঘোষণা করে।

জানা যায়, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পাশাপাশি নতুন নির্বাচন দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ে দলীয়ভাবে শোডাউন করছে দলটি। সেখানে ঐক্যফ্রন্ট বা ২০ দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি তৃণমূল পর্যায়ে দুই জোটের নেতা-কর্মীদেরও আমন্ত্রণ জানায়নি বিএনপি। এক্ষেত্রে দলটি এখন ‘একলা চলো নীতি’তে সামনে পথ চলছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আমরা দলীয়ভাবে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করছি। এখানে জোট বা ফ্রন্টকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।  ঐক্যফ্রন্ট জাতীয় কোনো সমস্যাকে সামনে তুলে ধরতে পারছে না দাবি করে ফ্রন্ট ছেড়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করে বলেন, ‘জাতীয় কোনো সমস্যাকে ঐক্যফ্রন্ট তুলে ধরতে পারছে না। এরকম একটি জোট যে আছে তা দেশের মানুষ জানেই না।

জানা যায়, বিএনপি বা ড. কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে বঙ্গবীরকে ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি ফ্রন্টের বৈঠক ডাকারও কোনো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি এই বড় দুটি দল। দুই দলই একলা চলো নীতিতে এগোচ্ছে। জেএসডি বা নাগরিক ঐক্য বৈঠকের ব্যাপারে তাগিদ দিলেও বিএনপি বা গণফোরাম কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা জানান, ২০-দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে পথ চলতে গিয়ে বিএনপিই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলা-মামলাসহ নানাভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরই পোহাতে হচ্ছে। এমনকি সংসদ নির্বাচনের সময় আসনের বড় একটি অংশ জোট-ফ্রন্টের নেতাদের জন্য ছাড় দিতে হয়েছে। জোট-ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বাইরে থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াই দেড় বছর ধরে কারাবন্দী। এ নিয়ে জোট-ফ্রন্টের নেতাদের কোনো মাথাব্যথাও নেই। ভাবতে হচ্ছে শুধু বিএনপিকেই। তাই সামনে বিএনপিকে এককভাবেই পথ চলতে হবে।  এদিকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ফলাফল বিপর্যয়ের পর থেকেই দুই জোটে অস্থিরতা চলছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এর আগে ২০-দলীয় জোট ছেড়ে চলে যায় ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের দল বিজেপি। অন্যদিকে আরেক শরিক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সংসদে  যোগদানের বিরোধিতা এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে না- এমন অভিযোগ তুলে গত ২৭ জুন আলাদা ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চের’ ঘোষণা দেন। এই মঞ্চে জোটের শরিক কল্যাণ পার্টি, জাগপাসহ ছোট কয়েকটি দলও যুক্ত আছে। জামায়াত দৃশ্যমান না হলেও কর্নেল অলির জাতীয় মুক্তিমঞ্চের প্রতি সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে জোটের মধ্যে ¯œায়ুযুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই জোটের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার বিএনপির আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দুটি দল বিএনপি ও গণফোরাম। তাদের দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নিয়ে সংসদে গেছেন। এরপর থেকে ঐক্যফ্রন্টের কোনো বৈঠক হয়নি। কেন ডাকা হচ্ছে না তা-ও জানি না। তবে এই দুই দল ভুল করেছে। এটা যখনই বৈঠক হবে তার ব্যাখ্যাও তাদের দিতে হবে।’ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী এই ৭ মাস জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আনুষ্ঠানিকভাবে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের অফিসে একটি অসমাপ্ত বৈঠক ছাড়া কখনো কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি।

 


আপনার মন্তব্য