Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:২২

এবার রাঘববোয়ালদের পালা

ছাত্রলীগ যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগের পর আলোচনায় বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতারাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবার রাঘববোয়ালদের পালা
স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা কাওসারের ওয়ান্ডারার্স ক্লাবেও অভিযান হয় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

ছাত্রলীগ-যুবলীগের পর এবার ব্যবস্থা নেওয়া হবে রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি-অনিয়মে জড়িতদের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অব্যাহত রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বাদ পড়বেন বিতর্কিত নেতারা। যারা ছাত্রলীগ-যুবলীগের গডফাদার সেজে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন। চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও। দল ও সরকারের বদনামকারী, দুর্নীতিবাজদের শায়েস্তা করে সুশাসন নিশ্চিত করার পথেই হাঁটবেন সরকার প্রধান।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে চাঁদাবাজি ও মাদক সেবনের অভিযোগ মাথায় নিয়ে নজিরবিহীনভাবে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে পদ ছাড়তে হয়েছে গত শনিবার। এর আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে ‘চরম বিতর্কিত’ বেশ কয়েকজনের নাম শোভন-রাব্বানীর হাতে তুলে দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তারা বাদ দেননি। বর্তমানে কমিটিতে ৭৮ জন বিতর্কিত বহাল আছেন। এদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, মাদক গ্রহণ ও বিক্রির মামলা, যুদ্ধাপরাধীর সন্তান, বিএনপি-জামায়াতের পরিবারের সন্তান, শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে। নতুন কমিটির দুই শীর্ষ নেতাসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা গতকাল রাতে সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছাত্রলীগ নিয়ে করণীয় কী সেসব দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যেসব নেতা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অপকর্মকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, তাদেরকে ব্যবহার করে কাজ হাতিয়ে নিয়েছেন তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি শেখ হাসিনার। আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর দলের জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হবে না। কেন্দ্রের পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলের যেসব নেতা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করছেন তাদের তালিকা তৈরি করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বিতর্কিতদের দল থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শুধু সহযোগী সংগঠনই নয়, জেলা পর্যায়ের যেসব নেতা গত ১০ বছরে শূন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন, আলিশান বাড়ি করেছেন, বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন তাদের ব্যাপারেও অ্যাকশনে যাবেন দলীয় সভানেত্রী। দলের ভিতরে বিভেদ সৃষ্টিকারী, অনুপ্রবেশকারী আর কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না-এমন নেতাদের আমলনামা সংগ্রহ করছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। এমন নেতা-কর্মীর বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা, বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে সংগৃহীত রিপোর্ট জমা পড়ছে তার টেবিলে। এবার শুদ্ধি অভিযানের পালা। এই অভিযান চলবে আগামী ডিসেম্বরে দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত। অভিযানে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রবাজি, ইয়াবাখোর ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে দলের যেই-ই হোক না কেন রেহাই মিলবে না। আর সর্বোচ্চ এই সিদ্ধান্তে এরই মধ্যে বুকে কাঁপন তুলেছে নানা অপকর্মে জড়িত নেতা-কর্মীদের মনে। এরই মধ্যে দলে খবর ছড়িয়েছে তালিকাভুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণ হলেই শাস্তির আওতায় আনা হবে। দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোভাব অত্যন্ত কঠোর। তিনি আগামী তিন মাসের মধ্যে এ শুদ্ধি অভিযান সম্পন্ন করতে চান। গত বুধবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুইয়াকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। তার নামে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকায় ওয়ান্ডার্রাস ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগ রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে অনেক রাঘববোয়ালদের নাম এসেছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করছেন দলীয় সভানেত্রী। রাজনীতির নামে কোনো চাঁদাবাজি, পেশিশক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন ও যুবলীগের নেতাকে শায়েস্তা করার মধ্য দিয়ে এই কঠোর বার্তা তিনি দিয়েছেন সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতি।

দলটির নেতারা বলছেন, টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার প্রধান হওয়ার পর শেখ হাসিনা দলের গুটিকয়েক কর্মীর জন্য নিজের ও সরকারের অর্জনকে ব্যর্থ হতে দেবেন না। তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকা  বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য নেতা-কর্মীদের কারণে ম্লান হয়ে যাবে- এ ব্যাপারে তিনি তিল পরিমাণ ছাড় দিতেও রাজি নন। আর সে কারণেই দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। এবার রাঘববোয়ালদের ধরবেন তিনি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর