শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ২২:৫৮

নিজের টাকায় ভোট আতিক-তাপসের ধারে খরচ মেটাবেন তাবিথ-ইশরাক

গোলাম রাব্বানী

নিজের টাকায় ভোট আতিক-তাপসের ধারে খরচ মেটাবেন তাবিথ-ইশরাক

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটির নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণ সিটি মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস নির্বাচন করবেন নিজস্ব টাকায়। আর বিএনপির উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন নির্বাচনী খরচ মেটাবেন ধার-কর্জ করে। নির্বাচন কমিশনে মেয়র প্রার্থীদের জমা দেওয়া নির্বাচনের সম্ভাব্য ব্যয়ের তালিকা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 

নিজের টাকায় ভোট করবেন আতিক : নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নির্বাচনী ব্যয়সীমার ৫০ লাখ টাকার পুরোটাই নিজের আয় থেকে খরচ করবেন। ব্যয়ের পরিকল্পনায় ইসিকে তিনি জানিয়েছেন, ৩ লাখ টাকায় তিনি ৩ লাখ পোস্টার ছাপবেন। ৬০ হাজার লিফলেটের জন্য ৩০ হাজার টাকা, দেড় লাখ হ্যান্ডবিলের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ২৫০টি ব্যানারের জন্য দেড় লাখ টাকা এবং ১২৫টি ডিজিটাল ব্যানারের জন্য ১ লাখ টাকা খরচ হবে। তিনি মাইকিংয়ে খরচ করবেন ৩ লাখ টাকা। ২৬টি নির্বাচনী ক্যাম্পের জন্য ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, প্রার্থীর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পের জন্য ৩ লাখ টাকা, যাতায়াতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা, ঘরোয়া বৈঠকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ৭০টি পথসভার জন্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব আতিক দিয়েছেন। এ ছাড়া ৩৫ হাজার পোর্ট্রেটের জন্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ছবি বা প্রতীক তৈরিতে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা, অফিস আপ্যায়নে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪০০ টাকা, কর্মীদের জন্য ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারণার জন্য সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং ভোটার তালিকার সিডি ক্রয় ও ফটোকপির জন্য ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয়ের তালিকা তিনি ইসিতে জমা দিয়েছেন।

তাপসের ব্যয় নিজস্ব টাকায় : দক্ষিণ সিটির আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস ভোটে ৫৩ লাখ টাকা খরচ করতে চান। তিনি ভোটের ব্যয়ের পুরো টাকাই নিজস্ব আয় থেকে ব্যয় করবেন। এর মধ্যে ৪ লাখ পোস্টার ছাপতে খরচ হবে ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়া সাড়ে ৪ লাখ টাকায় তিনি সাড়ে ৪ লাখ লিফলেট এবং সাড়ে ৭ লাখ হ্যান্ডবিল ছাপবেন। ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকায় দেড় হাজার ব্যানার এবং ১ লাখ ২১ হাজার টাকায় ৩৭৫টি ডিজিটাল ব্যানারে প্রচারের ব্যবস্থা করবেন; আর মাইকিংয়ে খরচ করবেন ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কেন্দ্রীয় অফিস ও ২৪টি নির্বাচনী ক্যাম্প মিলিয়ে ২ লাখ ১৪ হাজার, যাতায়াতে ১ লাখ ৪০ হাজার, ঘরোয়া বৈঠক ও সভায় ৩ লাখ ৫০ হাজার এবং পথসভায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হবে বলে ধারণা দিয়েছেন তাপস। এ ছাড়া পোর্ট্রেট তৈরিতে ৭২ হাজার, প্রতীক তৈরিতে ১ লাখ ৫০ হাজার, অফিসে আপ্যায়নে ৯৬ হাজার, কর্মীদের জন্য ১ লাখ, গণমাধ্যমে প্রচারে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং বিবিধ খাতে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন তিনি।

ধার-দানের টাকায় নির্র্বাচন ব্যয় মেটাবেন তাবিথ : উত্তর সিটির বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল নির্বাচনে ব্যয় করবেন ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪০ লাখ টাকা তিনি খরচ করবেন নিজের ব্যবসার আয় থেকে। স্ত্রীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার এবং মায়ের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দান নিয়ে বাকি খরচ মেটাবেন। তিনি পোস্টার ছাপবেন ৫ লাখ, এ জন্য ৮ লাখ টাকা খরচ হবে। আর ৫ লাখ লিফলেটের জন্য ৪ লাখ টাকা, ৪ লাখ হ্যান্ডবিলের জন্য ২ লাখ টাকা, ১০০ ব্যানারের জন্য আড়াই লাখ টাকা, ৩০০ ডিজিটাল ব্যানারের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন ইসিকে। এ ছাড়া মাইকিংয়ের পেছনে তিনি ৩ লাখ টাকা খরচ করতে চান তাবিথ। ২৭টি নির্বাচনী ক্যাম্পের জন্য তার সাড়ে ৩ লাখ টাকা, প্রার্থীর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যাতায়াত খরচ বাবদ ৪ লাখ টাকা, ঘরোয়া বৈঠকের জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। আর তিনি ২০০ পথসভা করতে চান, যেখানে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা লাগতে পারে। এ ছাড়া ১০০ পোর্ট্রেন্ডেটর জন্য ২২ হাজার, প্রতীক তৈরিতে ৩৪ হাজার, অফিস আপ্যায়নে ২ লাখ, কর্মীদের জন্য ২ লাখ ৭০ হাজার, টেলিভিশন বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের জন্য দেড় লাখ এবং ভোটার তালিকা প্রিন্ট, সিডি ক্রয়, পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণের জন্য ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন তাবিথ।

ইশরাকের ভোটের খরচ অর্ধেকই ‘দেবেন’ মা : অবিভক্ত ঢাকার শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে নির্বাচন করতে সম্ভাব্য ব্যয়ের যে হিসাব দিয়েছেন, তাতে ইসির দেওয়া ব্যয়সীমা অনুযায়ী ৫০ লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করতে চান। এই টাকার অর্ধেক তিনি বাড়ি ভাড়ার আয় এবং সঞ্চয়ের টাকা থেকে মেটাবেন। বাকি ২৫ লাখ টাকা মা ইসমত আরার কাছ থেকে ধার হিসেবে নেবেন বলে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন ইশরাক। দক্ষিণ সিটির ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ভোটারের কাছে পৌঁছাতে ইশরাক সাড়ে ৬ লাখ টাকায় সাড়ে তিন লাখ পোস্টার ছাপবেন। তিনি ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় সাড়ে ৫ লাখ লিফলেট ও ৫ লাখ হ্যান্ডবিল বিলি করবেন, ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ১ হাজার ব্যানার এবং ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় ৩০০ ডিজিটাল ব্যানার বসাবেন, সেই সঙ্গে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ করবেন মাইকিংয়ে। সম্ভাব্য ব্যয়ের বিবরণীতে নির্বাচনী ক্যাম্পগুলোতে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, নিজের যাতায়াত বাবদ ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, ঘরোয়া সভা ও বৈঠকে ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, পথসভায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা জানিয়েছেন ইশরাক। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রতীক তৈরিতে ৫৫ হাজার, অফিস আপ্যায়নে ২ লাখ, কর্মীদের জন্য ৪ লাখ ২০ হাজার, গণমাধ্যমে প্রচারণায় ২ লাখ ৫৫ হাজার এবং বিবিধ খাতে ৪ লাখ টাকা সম্ভাব্য খরচের হিসাব দিয়েছেন সাদেক হোসেন খোকার ছেলে।

দক্ষিণের অন্য প্রার্থীরা : দক্ষিণে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন ১০ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি ফর্দ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে। এই ১০ লাখ টাকার মধ্যে ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা মিলন খরচ করবেন দেড় লাখ নির্বাচনী পোস্টার ছাপানোর কাজে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবদুর রহমান ৩০ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন। বড় দুই দলের চার প্রার্থীর বাইরে এটাই সম্ভাব্য খরচের সবচেয়ে বড় অঙ্ক। বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ নির্বাচনে লড়তে ২৫ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন।

উত্তরের অন্যান্য প্রার্থীর ব্যয় : ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল ১২ লাখ টাকা ভোটের পেছনে খরচ করতে চান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ সাকুল্যে ৪ লাখ টাকায় নির্বাচন পার করতে চান। এ ছাড়া উত্তরের মেয়র প্রার্থী শাহীন খান ৫ লাখ টাকা এবং আনিসুর রহমান দেওয়ান ভোটের পেছনে ব্যয় করবেন ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর