শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মার্চ, ২০২০ ২৩:৩২

মন্ত্রিসভার বৈঠক

মুজিববর্ষে বাড়াবাড়ি অর্থের অপচয় না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজামুল হক বিপুল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুজিববর্ষে দেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। সেই লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। মুজিববর্ষের নামে অহেতুক বাড়াবাড়ি বা কোনো অর্থের অপচয় না করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে মুজিববর্ষের নামে দেশের যত্রতত্র বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ না করারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বিরক্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ওপরও। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে বৈঠক শেষে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, মুজিববর্ষে বড় বাজেটের কোনো কর্মসূচি না নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  বৈঠক সূত্র জানায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণবিষয়ক একটি প্রকল্পের প্রস্তাব বৈঠকে উত্থাপন করা হলে সেটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত্রতত্র অর্থের অপচয় না করে মুজিববর্ষে সবার লক্ষ্য থাকা উচিত সারা দেশের গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া। যাতে একজন লোকও গৃহহীন না থাকে। সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন দেশের যেখানে-সেখানে যেনতেনভাবে যেন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন না করা হয়। এতে অর্থের অপচয় হবে। সেই অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে বিকালে সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা নির্দিষ্টভাবে বলে দিয়েছি, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তার একটা নোটেবল প্রোগ্রামকে মুজিববর্ষের প্রোগ্রাম হিসেবে ঘোষণা করবে। তার নরমাল বাজেট থেকে। যদি ভিন্ন কোনো কাজ থাকে তার জন্য অতিরিক্ত টাকা চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু বড় বড় বাজেট দিয়ে নতুন কাজ করার দরকার নেই।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগ মুজিববর্ষ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রোগ্রাম নিল- ডিসেম্বরের মধ্যে ছয় লাখ পেনশনারের বাড়িতে বসে পেনশন দেবে। এ প্রোগ্রামটা তারা মুজিববর্ষের প্রোগ্রাম হিসেবে ঘোষণা করেছে। এরকম ভালো কোনো প্রোগ্রামকে মুজিববর্ষের প্রোগ্রাম হিসেবে ঘোষণা করা যাবে। আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কোনো কোনো প্রোগ্রাম করতে গিয়ে যদি ফান্ড লাগে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী আনবেন, এটার জন্য পেমেন্ট করতে হবে। স্টেজ হবে, এজন্য আলাদা টাকা দেওয়া হবে না। পিডব্লিউডি তার মেইনটেইনেন্স বাজেট থেকে করে দেবে। পেমেন্টের দরকার হলে এএফডি (সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ) তার বাজেট থেকে করে দেবে, এজন্য আলাদা কোনো টাকা দেওয়া হবে না। সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, সবাইকে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রোগ্রাম নিতে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালি বাজেট নয়, সবার নতুন কিছু করার দরকার নেই। আমার যে প্রোগ্রাম আছে মানুষের কল্যাণে বা দেশের উন্নয়নে কনট্রিবিউট করতে পারি ওটা মুজিববর্ষের সঙ্গে মোর সিনোনিমাস। ওই জাতীয় প্রোগ্রাম, নরমাল যে প্রোগ্রামটা আছে সেটাকে আরও ইফেকটিভ করেন। অনেকে বুঝতে পারেন না, মনে করেছেন নতুন প্রোগ্রাম নিতে হবে।

এদিকে মন্ত্রিসভা বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়া পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের বঙ্গবন্ধুর মুখোশ পরা নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি এজন্য শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি এই বিষয়টি জানতেন না। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন এরকম কোনো ঘটনা আর না ঘটে সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে।

সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় : এদিকে মন্ত্রিসভা গতকাল সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এটা প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ। কনসেপ্টটা ওনার কাছ থেকে এসেছে যে, এটা খুব রিমোট এরিয়া। রিমোট এরিয়াতেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থাকা দরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ) সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনটি নিয়ে এসেছে। গত ৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা বৈঠকে খসড়া আইনটি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশে ৪২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ১৭টি, ৬টি কৃষি ও ভেটেরিনারি, ১৯টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া আরও চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভা জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০২০ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে।


আপনার মন্তব্য