শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মার্চ, ২০২০ ২৩:৪৪

আইসিসিবি পরিদর্শনে সেনাবাহিনী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিনিধি দল

পাঁচ হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইসিসিবি পরিদর্শনে সেনাবাহিনী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিনিধি দল
সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিনিধিরা গতকাল ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা পরিদর্শন করেন -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিনিধি দল গতকাল ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা আইসিসিবিতে অবস্থিত  কনভেনশন হল, ট্রেড সেন্টার ও বিভিন্ন স্থাপনা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এরপর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। পরিদর্শন শেষে সেনাবাহিনী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের দুটি টিমই সন্তোষ প্রকাশ করে বসুন্ধরা গ্রুপের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। প্রতিনিধি দল জানান যে, বসুন্ধরার চেয়ারম্যানের প্রস্তাবিত স্থানে ৫ হাজার শয্যার হাসপাতাল তৈরি করা সম্ভব।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. বদরুল হকের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি টিম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপপরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. ইউনুস আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম এবং বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চিফ কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ গোলামের নেতৃত্বে একটি টিমের সমন্বয়ে হাসপাতাল তৈরির পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় প্রতিনিধি দলকে আইসিসিবির জায়গা ও স্থাপনার একটি মানচিত্র দেওয়া হয়।

এর আগে রবিবার করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। এ সময় তিনি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ৫ হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল তৈরির জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের একটি চিঠি দেন। পরে আইসিসিবিতে হাসপাতাল তৈরিতে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আইসিসিবি পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. শফিউর রহমান বলেন, দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে করোনা মোকাবিলায় বসুন্ধরা গ্রুপ এগিয়ে আসায় তাদের সাধুবাদ জানাই। আমরা স্বাস্থ্য অধিদফতর, সেনাবাহিনী, বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আইসিসিবিতে হাসপাতাল তৈরির জন্য যৌথভাবে কাজ করছি। আমরা আইসিসিবি পরিদর্শন করেছি, পর্যবেক্ষণ করেছি। আমরা এখন এটা বিশ্লেষণ করব। তিনি বলেন, আইসোলেশন বেড, হাসপাতাল এবং আইসিইউ কেয়ারের জন্য কতগুলো বেড দেওয়া যেতে পারে তা পর্যালোচনা করব। ফিজিবিলিটি স্টাডি করে কতটুকু আছে আর কতটুকু করতে হবে তা নির্ণয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। ট্রেড সেন্টারে আড়াই হাজার বেডের আইসোলেশন বেড, একটি কনভেনশন সেন্টারে আইসিইউ কেয়ার এবং বাকি তিনটি কনভেনশন সেন্টার হাসপাতালে রূপান্তর করা সম্ভব। আমাদের পর্যবেক্ষণ মূল্যায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান দেশের এই সময়ে এগিয়ে এসে বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি মানবদরদি একজন ধনী মানুষ। দেশের মানুষের বিপদে তিনি এগিয়ে এসেছেন। তাকে স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। দেশের মানুষের কল্যাণে মহামারী করোনা মোকাবিলায় এ হাসপাতালটিকে কাজে লাগাতে পারব। বসুন্ধরা গ্রুপের এ উদ্যোগকে বিশ্ববাসী নজির হিসেবে দেখবে। আশা করি, বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় আমরা দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে এই মহাদুর্যোগের মুহূর্তে দেশবাসীকে নতুন এ হাসপাতালে সার্ভিস দিতে পারব। দেশের মানুষের বিপদে বসুন্ধরা গ্রুপ যেভাবে এগিয়ে এসে উদারতা ও মহানুভবতা দেখিয়েছে অন্যরা এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবেন। বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চিফ কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ গোলাম বলেন, হাসপাতাল তৈরির জন্য যেখানে যে রকম সহযোগিতা প্রয়োজন সবকিছুর জন্য আমরা প্রস্তুত।

আইসিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার এম জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয় করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকারকে সবচেয়ে বড় হাসপাতাল তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ (সোমবার) সেনাবাহিনী এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেব। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপপরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. জয়নাল আবেদিন টিটু, বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মো. আরিফুল হক সোহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য