শিরোনাম
রবিবার, ১৭ মে, ২০২০ ০০:০০ টা

শতভাগ কার্যকর ওষুধ আবিষ্কারের দাবি

প্রতিদিন ডেস্ক

আমেরিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বায়োটেক সংস্থা করোনাভাইরাসের শতভাগ অ্যান্টিবডি আবিষ্কারের দাবি করে বলেছে, তারা এই অ্যান্টিবডি নিয়ে প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর সোরেন্টো থেরোপিউটিকস পরবর্তী কার্যক্রমে এগোচ্ছে। সান দিয়েগোতে অবস্থিত সোরেন্টো থেরাপিউটিক্স নামের এই সংস্থা দাবি করেছে, পেট্রি ডিশ পরীক্ষায় তাদের আবিষ্কৃত এসটিআই-১৪৯৯ অ্যান্টিবডি সুস্থ মানব কোষে করোনাভাইরাসের প্রবেশ আটকে দিতে শতভাগ সফল হয়েছে। সোরেন্টোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. হেনরি জি ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘আমরা জোর দিয়ে বলছি করোনার প্রতিষেধক পাওয়া গেছে, এমন সমাধান যা শতভাগ কাজ কার্যকর। এসটিআই-১৪৯৯ নামক এই অ্যান্টিবডি যদি আপনার শরীরে দেওয়া হয়, তবে আপনার আর সামাজিক দূরত্বের দরকার নেই। আপনি নির্ভয়ে সমাজে চলতে পারবেন।’

খবরে বলা হয়, অ্যান্টিবডিগুলোর একটি ককটেল মানব কোষের জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক জাল’-এর মতো কাজ করতে পারে। এটি ভাইরাসটিকে প্রাথমিক প্রবেশদ্বার থেকে মানুষের কোষ পৃষ্ঠের রিসেপ্টর এসিই-২ রিসেপ্টর থেকে ব্লক করে। ডা. হেনরি জি বলেন, ‘এসটিআই-১৪৯৯ অ্যান্টিবডি মানবদেহে থাকা ভাইরাসটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে এবং সেটিকে আটকে ফেলে দেহ থেকে বিতাড়িত করে।’

এ ছাড়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সোরেন্টো জানিয়েছে, তারা মাসে দুই লাখ ডোজ পর্যন্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম। এ ছাড়া সংস্থাটি ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) থেকে জরুরি অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে, তবে এখনো অনুমতি পায়নি।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মানবদেহে এখনো সোরেন্টোর অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়নি। সুতরাং এটি কীভাবে শরীরের অভ্যন্তরে আচরণ করবে এবং এর সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো সম্পূর্ণ অজানা। জানা গেছে, সোরেন্টোর ঘোষণার পরই তাদের স্টকের মূল্য প্রায় ২২০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

মডার্নার ভ্যাকসিন দ্রুত আসতে পারে বাজারে : করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরিতে যে কয়েকটি দেশ এগিয়ে আছে তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। দেশটির ওষুধ কম্পানি মডার্নার তৈরি ভ্যাকসিনটি প্রথম ধাপ পার করে এখন দ্বিতীয় ধাপে পরীক্ষার ছাড়পত্র পেয়েছে মার্কিন ওষুধ প্রশাসনের কাছ থেকে। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার কাজ দ্রুতই শুরু হবে। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

মডার্নার প্রধান নির্বাহী স্টিফেন হোজে বলেছেন, গ্রীষ্মেই তারা ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু করবেন। কারণ এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শেষ হবে বলে ধরে নেওয়া যায়। প্রসঙ্গত, তৃতীয় ধাপে সাধারণত মানবশরীরে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়। তার ফল ইতিবাচক হলে শুরু হয় পরের ধাপ। মডার্না কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রথম ধাপে পরীক্ষায় খুব আশা জাগানিয়া ফল পাওয়া গেছে। এখন দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা দ্রুতই শুরু হবে। মানবদেহে প্রয়োগের জন্য এই ধাপে অন্তত ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের প্রয়োজন হবে; যাদের শরীরে সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে দেখা হবে যে তা কতটা কার্যকরী ও নিরাপদ। এই ভ্যাকসিনটি দ্রুতগতিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্রুতগতি বা ‘ফাস্টট্র্যাক’ অনুমোদনের অর্থ হলো, টিকার অনুমোদনের প্রক্রিয়া সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হবে। এর মূল বিষয়টি হলো, এফডিএ টিকার পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করবে বলেও কর্তৃপক্ষ জানায়। তবে একেবারে সর্বশেষ উপাত্ত পাওয়া বা বিশ্লেষণের জন্য তারা বসে থাকবে না।

যুক্তরাজ্যে আরও এক প্রতিষ্ঠানকে অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমতি : যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যান্টিবডি টেস্টে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের (পিএইচই) অনুমোদন পেল অ্যাবোট ল্যাবরেটরিজ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাজ্যকে ৫০ লাখ টেস্টিং কিট দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এরইমধ্যে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচকে) ল্যাবে কিছু সংখ্যক কিট পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে অ্যাবোট কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার অ্যাবোটের ল্যাবভিত্তিক অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমোদন দেয় পিএইচই। এর আগে, গত সপ্তাহে এ পরীক্ষায় সবুজ সংকেত পায় সুইস ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান রশ।

সর্বশেষ খবর