শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মে, ২০২০ ২৩:৫৭

মৃত্যুতে শীর্ষে ইউরোপ, পরে যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিদিন ডেস্ক

মৃত্যুতে শীর্ষে ইউরোপ, পরে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ হাজার বেড়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৩১ হাজার। পরে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। ওই সময় পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫১ লাখ ২১ হাজার। সবমিলে এখনো মৃত্যুতে শীর্ষে রয়েছে ইউরোপ মহাদেশ। এরপর রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন মৃত্যু ছিল এক হাজার ৪০৩ জন, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ১৪০ জন। ব্রাজিলে মৃত্যু ছিল ৯১১ জন ও আক্রান্ত ছিল ২১ হাজার ৪৭২ জন। যুক্তরাজ্যে নতুন মৃত্যু ছিল ৩৬৩ জন। মেক্সিকোতে মৃত্যু ছিল ৩৩৪ জন, নতুন আক্রান্ত ২ হাজার ৭১৩ জন। ইতালিতে মৃত্যু ছিল ১৬১ জন ও আক্রান্ত ছিল ৬৬৫ জন। ভারতে মৃত্যু ছিল ১৩২ জন ও নতুন আক্রান্ত ছিল ৫ হাজার ৫৫৩ জন। রাশিয়ায় মৃত্যু ছিল ১৩৫ জন ও আক্রান্ত ৮ হাজার ৭৬৪ জন। কানাডায় নতুন মৃত্যু ছিল ১১৯ জন ও আক্রান্ত ছিল এক হাজার ৩০ জন। পেরুতে মৃত্যু ছিল ১১০ জন ও আক্রান্ত ছিল ৪ হাজার ৫৩৭ জন। ফ্রান্সে নতুন মৃত্যু ছিল ১১০ জন ও আক্রান্ত ছিল ৭৬৬ জন। এদিন ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বব্যাপী নতুন মৃত্যু ছিল ৪ হাজার ৬৮৫ জন ও আক্রান্ত ছিল ১ লাখ ৪৭৪ জন। তবে ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে এদিনও কোনো মৃত্যু ছিল না, নতুন আক্রান্ত ছিল মাত্র পাঁচজন। মহাদেশগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইউরোপে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ও আক্রান্ত ১৮ লাখ ৪৪ হাজার, উত্তর আমেরিকায় মৃত্যু ১ লাখ ৮ হাজার ২৭৫ ও আক্রান্ত ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪, দক্ষিণ আমেরিকায় মৃত্যু ২৭ হাজার ও আক্রান্ত ৫ লাখ ২১ হাজার ৩২১, এশিয়ায় মৃত্যু ২৬ হাজার ৬৪ ও আক্রান্ত ৮ লাখ ৮০ হাজার, আফ্রিকায় মৃত্যু ৩ হাজার ২২ ও আক্রান্ত ৯৮ হাজার, ওশেনিয়ায় মৃত্যু ১২১ ও আক্রান্ত সাড়ে ৮ হাজার। ব্রিটেনে মৃতদের ৯৫ ভাগই অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন : যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনধারণের ওপর ভিত্তি করে করোনা ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। এই গবেষণা প্রতিবেদনে স্থূলতা, লিঙ্গ জাতিভেদে করোনায় প্রাণহানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়েছে। গবেষকরা বলেন, করোনায় প্রাণহানি হওয়া তিনজনের মধ্যে একজনই ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও অনিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম সম্পর্কিত কারণে মারা গেছেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৯৫ শতাংশই পূর্বে কোনো না কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ রোগী ডায়াবেটিস, ১৫ শতাংশের বেশি ডিমনেশিয়া, ১৫ শতাংশ সিওপিডি, ১০ শতাংশের বেশি কিডনি রোগ, ১০ শতাংশ হৃদরোগ ও ৫ শতাংশের বেশি অ্যাজমায় ভুগছিলেন। গবেষণায় উঠে আসে, টাইপ-১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর সম্ভাবনা দুই থেকে তিনগুণ বেশি থাকে এবং একই সঙ্গে স্থূলতায় ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে এটি আরও মারাত্মক ঝুঁকি বহন করে। হৃদরোগের সমস্যার কারণে যারা এরই মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় চারগুণ। করোনার রূপ বদল চীনে : চীনের উত্তরাঞ্চলে গুচ্ছাকারে নতুন বিস্তারে সংক্রমিত রোগীদের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের পৃথক আচরণ লক্ষ্য করছেন চিকিৎসকেরা। এর আগে উহানে এ ভাইরাস ছড়ানোর সময় যে ধরনের উপসর্গ দেখা দিয়েছিল, জিলিন ও হ্লেংজিনের উপসর্গ এর চেয়ে আলাদা। চিকিৎসকেরা ধারণা করছেন, অজানা কোনো উপায়ে ভাইরাসটি পরিবর্তিত হচ্ছে, যা এটিকে দূর করার প্রচেষ্টা আরও জটিল করে তুলছে। সিঙ্গাপুরের দ্য বিজনেস টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির জটিল রোগ বিশেষজ্ঞ কিআইয়ু হাইবো বলেন, চীনের উত্তরাঞ্চলে যেসব রোগী পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের শরীরে ভাইরাস বেশি দিন অবস্থান করছে এবং পরীক্ষায় নেগিটিভ দেখাতে সময় বেশি লাগছে। সংক্রমণের পর উহানের পরিস্থিতির চেয়ে এখানে উপসর্গ প্রকাশ পেতেও এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় বেশি লাগছে। তাই ভাইরাস ছড়ানোর আগে তা শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। কিআইয়ু হাইবো বলেন, এ ক্ষেত্রে রোগীর উপসর্গ প্রকাশ পেতে পেতে ভাইরাসটি গুচ্ছাকারে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। গত দুই সপ্তাহে তিনটি শহরজুড়ে ৪৬ জন এমন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে ওই অঞ্চলে ১০ কোটি মানুষকে আবার লকডাউনের আওতায় আনতে হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখনো ভাইরাসটি উল্লেখযোগ্য উপায়ে পরিবর্তিত হচ্ছে কি-না, তা পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না। চীনা চিকিৎসকেরা পার্থক্যগুলো দেখছেন। এর কারণ উহানের চেয়ে রোগীদের আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তবু এ ধরনের অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে, ভাইরাসটি কীভাবে উদ্ভূত হয়, সে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এতে এর বিস্তার রোধে সরকারের চেষ্টা এবং অর্থনীতি পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করবে। ফক্সনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে চীনের হাংঝোতে ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভাইরাসটি কমপক্ষে ৩০টি ভিন্ন ভিন্ন জিনগত সংস্করণে রূপান্তরিত হয়েছে। ওষুধ ও ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে এসব রূপান্তরের বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সম্ভাব্য সমস্যাগুলো এড়াতে এসব বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী গবেষকরা ভাইরাসটি রূপান্তরের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রামক হয়ে ওঠার জন্য উল্লেখযোগ্য উপায়ে পরিবর্তিত হচ্ছে কি-না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে প্রাথমিকভাবে গবেষণার এই সম্ভাবনাটিকে উড়িয়ে দেওয়া হয়। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ স্কুলের পরিচালক ও ক্লিনিকাল অধ্যাপক কেইজি ফুকুদা বলেন, ‘তত্ত্ব অনুসারে, জিনগত কাঠামোর কিছু পরিবর্তন ভাইরাসের কাঠামোতে বা ভাইরাসের আচরণের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে অনেক মিউটেশন কোনো বিবেচনামূলক পরিবর্তন আনে না। চীনা মিউটেশনের ক্ষেত্রে পরিষ্কার প্রমাণ নেই।’ কিআইয়ু হাইবো বলেন, চিকিৎসকেরা লক্ষ্য করেছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গুচ্ছাকারে সংক্রমিত রোগীদের বেশির ভাগ ফুসফুসই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে উহানের রোগীদের হৃৎপি-, কিডনি ও অন্ত্রসহ একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়া থেকে সংক্রমিত হয়ে আসা রোগীদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদের সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটা দেখা গেছে। জিনেটিক সিকোয়েন্সিংয়ে উত্তর-পূর্বের রোগীদের সংক্রমণ এবং রাশিয়া ফেরত রোগীদের সংক্রমণে মিল পাওয়া গেছে। ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মার্কিন গবেষকেরা করোনাভাইরাসের ১৪ ধরনের রূপান্তর খুঁজে পেয়েছেন। লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এসব রূপান্তরের মধ্যে ভাইরাসটিকে আরও সংক্রামক করে তুলতে পারে।


আপনার মন্তব্য