শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জুন, ২০২০ ০০:০৬

১৪ দিনে সুস্থ হচ্ছে না করোনা রোগী

জয়শ্রী ভাদুড়ী

করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির মৃদু লক্ষণ থাকলে ১৪ দিনে সুস্থ হওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে চিকিৎসা গাইডলাইনে। কিন্তু রোগী সুস্থ বোধ করে ২০ দিনে পার হলেও শরীরে ভাইরাস অকার্যকর হচ্ছে না। শারীরিক জটিলতা থাকলে সুস্থ হতে আরও বেশি সময় লাগছে। রূপ বদলে করোনাভাইরাস জটিল হওয়ার আভাস দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি নির্ভর করে রোগীর অসুস্থতার ওপর। অনেেেক সামান্য উপসর্গ নিয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, কিন্তু অন্যদের  জন্য এটা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। মৃদু উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হলেও অনেকের সেরে উঠতে ১৪ দিনের বেশি সময় লাগছে। এতে আভাস পাওয়া যায় রূপ বদলে জটিল হচ্ছে করোনা। করোনা চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া এক চিকিৎসক বলেন, কভিড-১৯ আক্রান্তদের বেশির ভাগের ক্ষেত্রে কাশি বা জ্বরের মতো প্রধান উপসর্গগুলো দেখা গেছে। তবে তারা শরীরের ব্যথা, ক্লান্তি, গলাব্যথা এবং মাথাব্যথা অনুভব করতে পারেন। প্রথমদিকে শুষ্ক ধরনের কাশি হতে পারে। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ভাইরাসের খেয়ে ফেলা ফুসফুসের মৃত কোষযুক্ত শ্লেষ্মা কাশি শুরু হতে পারে। মূলত বিশ্রাম, বেশি করে তরল পান এবং প্যারাসিটামলের মতো ব্যথানাশক ব্যবহার এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। হালকা লক্ষণ যাদের থাকে, তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে জ্বর চলে যায়, তবে কাশি আরও কিছুদিন থাকতে পারে। সিঙ্গাপুরে মৃদু উপসর্গের রোগী সেরে উঠতে ৩৭ দিন পর্যন্ত সময় লেগেছে বলে জানা গেছে। চীনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ক্ষেত্রে সুস্থ হয়ে উঠতে গড়পড়তা দুই সপ্তাহ সময় লাগে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশে প্রণীত নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত মৃদু উপসর্গের রোগীদের ১৪ দিনে করোনা নেগেটিভ বলে ধরে নেওয়া হয়। এরকম রোগী ৮০ শতাংশ। বাকি যাদের জটিলতা আছে কিংবা বয়স বেশি সেক্ষেত্রে বেশি সময় লাগবে। শারীরিক পরিস্থিতি ও বয়স দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগটি অনেকের জন্য গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। এটি সংক্রমণের ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ঘটে থাকে। এই পরিবর্তন অনেক সময় হঠাৎ হয়ে থাকে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং ফুসফুস ফুলে যায়। এজন্য বলা হয় করোনা রোগীর অবস্থা যে কোনো সময় খারাপ হতে পারে। এর কারণ হলো, শরীরের ভিতরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার চেষ্টা করে। এটা আসলে শরীরের প্রতিক্রিয়া তৈরির চেষ্টা, যার ফলে শরীরের ভিতরের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। এই সময়ে অনেক মানুষকে অক্সিজেন সহায়তা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠতে দুই থেকে আট সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ধারণা করছে, প্রতি ২০ জন রোগীর ভিতরে একজনের নিবিড় পরিচর্যার দরকার হয়ে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে ভেন্টিলেটর দেওয়ার ব্যবস্থা। আইসিইউ থেকে ফিরে সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বেশ সময় লাগে। বাড়ি যাওয়ার আগে রোগীদের নিয়মিত ওয়ার্ডে পাঠানো হয়ে থাকে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর