শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জুন, ২০২০ ২৩:৪৬

সানেমের তথ্য

হাজার রোগীর জন্য হাসপাতালে একটি বেডও নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে প্রতি এক হাজার রোগীর জন্য হাসপাতালে বেডের সংখ্যা ০.৮টি। অর্থাৎ পরিপূর্ণ একটি বেডও নিশ্চিত নয় এক হাজার রোগীর জন্য।  অথচ পার্শ্ববর্তী শ্রীলঙ্কায় প্রতি হাজারে ৩.৬টি, মালয়েশিয়ায় ১.৯টি এবং থাইল্যান্ডে ২.১টি বেড রয়েছে হাসপাতালে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবাজনিত ব্যয়ের ৭৪ শতাংশ নিজেকে বহন করতে হয়। শ্রীলঙ্কায় ব্যক্তিকে ব্যয় করতে হয় ৫০ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৩৮ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডে মাত্র ১১ শতাংশ।

শনিবার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত ‘কভিড-১৯ এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা’ শীর্ষক ওয়েবভিত্তিক সেমিনারে (ওয়েবিনার) এসব তথ্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অর্থনীতির শিক্ষক বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সরকার জিডিপির মাত্র ০.৪ শতাংশ ব্যয় করে, যেখানে শ্রীলঙ্কা ব্যয় করে ১.৬ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ২ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডে ৩ শতাংশ। ড. রায়হান বলেন, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে কোনো বিকল্প নেই, তা বর্তমান মহামারীর কালে ফলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন,  বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহির ও দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে। তিনি পরিকল্পনা তৈরি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য অসৎ ও দুর্নীতিবাজদের দমন করতে হবে, এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনায় যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যবিদদের নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিশেষজ্ঞ গঠিত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহ মনির  হোসেন,  জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আবদুস সবুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রুমানা হক। ডা. শাহ মনির হোসেন বলেন, কোনো ক্যাডার সার্ভিসের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করা উচিত নয়, বরং একে আলাদা রাখা উচিত। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাত বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ার পেছনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সবচেয়ে বড় কারণ। ড. মোহাম্মদ আবদুস সবুর বলেন, উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে মহামারী মোকাবিলায় সহায়তা দ্রুত এলেও তা ব্যবহারে দেরি হচ্ছে। ব্যবস্থাপনা অদক্ষতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অসৎ ঠিকাদারদের দমন না করা গেলে স্বাস্থ্য খাতে ক্রয় প্রক্রিয়ার সমস্যা মিটবে না। কভিড-১৯ মোকাবিলায় সময় পাওয়া সত্ত্বেও ঠিকমতো প্রস্তুতি নেওয়া যায়নি বলে তার আলোচনায় মন্তব্য করেন ড. রুমানা হক। তিনি বলেন, মহামারী মোকাবিলা পরিকল্পনায় দেরি হয়েছে এবং এর ফলে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতার অভাব স্পষ্ট।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর