শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২০ ০০:১৯

সঠিক পন্থা নিলে আগস্টেই করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

-অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী

শামীম আহমেদ

সঠিক পন্থা নিলে আগস্টেই করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

করোনা নিয়ন্ত্রণে শুরু থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতায় গাফিলতি দেখা গেছে। এখনো আছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তো কমিটি করার জন্য মনে হয় নোবেল প্রাইস পাবে! তারা একের পর এক কমিটি করছে। কিন্তু কমিটির উপদেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই। একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সবকিছু সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে একের পর এক নির্দেশনার কারণে কাজগুলো এখনো একটা পর্যায়ে আছে। সব কাজ প্রধানমন্ত্রীর করতে হলে অন্যদের দরকার কী? তবে সময় শেষ হয়ে যায়নি। এখনো সঠিক পন্থা নিলে আগস্টের মধ্যেই বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে আমি মনে করি। সেক্ষেত্রে আমলা ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কৌশল গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে রাজনীতিবিদদের। কারণ দিনশেষে রাজনীতিবিদরাই দেশ চালায়। গতকাল এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে কথাগুলো বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। তিনি বলেন, চাইলেও পুরো দেশকে এখন লকডাউন করা যাচ্ছে না। কারণ জীবিকা বন্ধ হয়ে গেলে জীবনও বাঁচবে না। তাই দেশ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার শুরুতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা বিষয় মাথায় রেখেছেন যে, জীবন ও জীবিকা দুটোই বাঁচাতে হবে। আমার ধারণা, এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী লকডাউন বা অন্যান্য বিষয়ে একটা ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অনেক দেশ এটা না করে বিপদে পড়েছে। আমাদের ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। স্বাভাবিকভাবেই এখানে যে কোনো মহামারী অন্যদের চেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি করবে। ছয় ফুট কেন, মানুষকে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে বললেও সেটা মানানো দুঃসাধ্য। লকডাউন করেও দেখা গেছে মানুষ সেটা মানছে না। নানা অজুহাতে লকডাউন ভাঙার চেষ্টা করছে। বাজারে মাছ বিক্রেতা মাস্ক নামিয়ে কথা বলছেন। টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিতে এসে বক্তা মাস্ক নামিয়ে রাখছেন। অধিক জনসংখ্যা আর অসচেতনতার কারণেই এখানে নিয়ম কাজ করছে না। এ জন্য মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে স্বাস্থ্যবিধি না মানাটা লজ্জার বিষয়ে পরিণত হয়। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক ছোট ছোট আকারে লকডাউন করতে হবে। সেটা বাস্তবায়নে স্থানীয়দের কাজে লাগাতে হবে। আমাদের এখানে মৃত্যুর হার এখনো কম আছে। ঘনবসতি হওয়া সত্ত্বেও সংক্রমণ হার অন্য দেশের মতো জ্যামিতিক হারে বাড়ছে না। উদ্যোগগুলো নিতে পারলে এখনো এখানে করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলী বলেন, ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেসারের মতো করোনা একটা লাইফস্টাইল ডিজিজ। জীবনযাপন প্রণালির ওপরে এটার বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করে। সরকারের পলিসি বৃহৎ পরিসরে। তারা কেউ বিদেশ থেকে এলে বিমানবন্দরে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে। কিন্তু তাপমাত্রা তো একজন আক্রান্ত হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে যে কোনো সময় হতে পারে। অনেকের কোনো উপসর্গই দেখা যায় না, কিন্তু সে আক্রান্ত ও রোগ ছড়াচ্ছে। তাই এটা থেকে বাঁচার প্রধান উপায় প্রত্যেকের নিজস্ব সচেতনতা। লাইফস্টাইল বদলাতে হবে। মাস্ক পরতে হবে, সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, ভালো খাওয়া-দাওয়া করতে হবে, বাইরে খাওয়া বন্ধ করতে হবে। সবাইকে নিজের দায়িত্ব বুঝতে হবে। আমি একটা মাস্ক পরার অর্থ নিজেকে রক্ষা করছি, চারপাশের মানুষগুলোকে রক্ষা করছি, পরিবারকে নিরাপদ রাখছি। দেশকে রক্ষা করছি। মাস্ক না পরার অর্থ আমি সবার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুবাদে ১৯৯৭ সাল থেকে আমি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করছি। এখনকার মতো বিশৃঙ্খল নেতৃত্ব এই সংস্থায় আমি কখনো দেখিনি। শুরু থেকে করোনা নিয়ে স্থির কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। আজ বলছে মাস্ক জরুরি না, কাল বলছে মাস্ক পরতেই হবে। আইসোলেশন, লকডাউন শব্দগুলোও আমাদের জন্য নতুন। প্রথমদিকে সুনির্দিষ্ট করণীয় জানতে পারলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হতো। তবে দীর্ঘদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করার সুবাদে সংক্রমণের ধরন দেখে বুঝতে পারছি, এখানে ভাইরাসটি জনগণের মধ্যে অনেক বেশি সংক্রমিত হয়ে গেছে। আর গ্রামের চেয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে সংক্রমণ অনেক বেশি। কিন্তু যে বড় শহরগুলোতে এখন লকডাউন দিলে সবচেয়ে বেশি ফল আসত, সেগুলো আবার আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু। সরকার তিন সপ্তাহের খাবারের ব্যবস্থা করে সবকিছু বন্ধ রাখলেও আগে যে ফল পেতাম এখন আর পাব না। উল্টো এটা করতে যে খরচ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে, তাতে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হবে। ওষুধের পার্শ¦প্রতিক্রিয়া বেশি হলে তো রোগের সঙ্গে রোগীও মারা যাবে। এ কারণে এখন আমাদেরকে বাছাই করে স্থানীয় পর্যায়ে ছোট ছোট এলাকা লকডাউন করতে হবে। সেটা স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে করতে হবে। আর লাইফস্টাইল ডিজিজ নিয়ন্ত্রণে মানুষকে সচেতন করার বিকল্প নেই। কেউ মাস্ক না পরলে আশপাশের মানুষগুলো যাতে প্রতিবাদ করে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এটাই এখন একমাত্র পথ।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর