শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:১৯

সিদ্ধান্ত সঠিক, এখন মিয়ানমারে ফেরতের প্রক্রিয়া চালানো উচিত

-লে. জে. (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর

গোলাম রাব্বানী

সিদ্ধান্ত সঠিক, এখন মিয়ানমারে ফেরতের প্রক্রিয়া চালানো উচিত

কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের পাশাপাশি তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চালানো উচিত বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবর। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের  ফেরত পাঠাতে আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য ইন্টারন্যাশনাল ফোরামকে জাগ্রত করতেই হবে। রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায়  তিনি এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা স্থানান্তরের বিষয়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর বলেন, এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই ভালো। বাংলাদেশ সরকার মানবিক দিক চিন্তা করেছে। অনেকেই অনেক কিছু চাইবে না। আমাদের তো নিজেদের দিক দেখতে হবে। আমরা রোহিঙ্গাদের মানবিকভাবে গ্রহণ করেছিলাম। এটা তো ওদের ল্যান্ড নয়। আমাদের সামাজিক বা পরিবেশের ওপর অ্যাটাক করছে। পৃথিবীতে শরণার্থীরা যখন সেটেল হয়, তখন সবখানে সংকট হয়। সবাই জায়গা ছেড়ে চলে যায়নি। আমাদের দেশ তথা প্রধানমন্ত্রী যখন তাদের নিয়েছেন। তখন আর কোনো উপায় ছিল না। তারা নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছিল। তাদের অন্যায়ভাবে হত্যা করা হচ্ছিল। তাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছিল। আমরা গরিব দেশ হতে পারি। মানবিক দিক তো এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হয়েও অনেক বড় আত্মার পরিচয় দিয়েছি। কিন্তু আমাদের কোনো সংকট হয়নি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচার হবে এটা আমি আশা করছি না। কিন্তু অন্যান্য দেশ জাগ্রত হয়েছে। সচেতন হয়েছে। এই ইস্যুটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব সংস্থাগুলোর কিছু কিছু এজেন্ডা থাকে। তারা হয়তো চাইবে একটা জায়গা পুরোপুরি নিরাপদ হোক। রোহিঙ্গা কেন্দ্রিক বড় একটা সংকট হতে পারত। নিরাপত্তা সমস্যা হয়, সন্ত্রাসবাদের ইস্যু থাকে। মাদক ও মানব চোরাচালানের সমস্যা হয়। কিন্তু আমাদের বড় ধরনের কোনো সংকট হয়নি। শরণার্থী কেন্দ্রিক পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যা হয়েছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার তো রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতেই চাইছে না। তবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফোরামকে আমাদের জাগ্রত করতেই হবে, যে তাদের ফেরত নিতেই হবে। এ জন্য আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য প্রচারণা চালাতে হবে। আগামী ১০ বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন করতে পারবে কিনা? তা নিয়ে আমি সন্দিহান। তবে আমাদের সব দিকে ব্যালেঞ্চ করতে হবে। তবে অস্থায়ীভাবে কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক। কক্সবাজার আমাদের টুরিস্ট প্লেস। এটা আমাদেরর দামি জায়গা। কেননা রোহিঙ্গাদের আমরা মেইন ল্যান্ডে থাকতে দিতে পারি না। তাদের প্রত্যাবর্তনে দীর্ঘ সময় লাগবে। তবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে, প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ফজলে কবির বলেন, অনেকেই অনেক কিছু বলবেন। আমরা যখন রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করেছি। তখনো অনেকেই আমাদের সমর্থন করেননি। অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। এখনো অনেকেই অনেক কথা বলবেন। কিন্তু আমাদের দেশের জন্য যেটা ভালো। যেটা ওদের জন্য মঙ্গলময়, সেটাই হওয়া উচিত। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে না গেলে, তাদের অধিকার তারা ফিরে পাবে না। পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। নিরাপত্তা সমস্যা হতে পারে। সন্ত্রাসবাদের জন্য ব্লেডিংগ্রাউন্ড। আমরা যদি আস্তে আস্তে তাদের সেটেল করতে পারি, তবে এই সমস্যার সমাধান হবে। একই সময়ে আমাদের ক্যাম্পগুলোর ভিতরে-বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্ট্রং মনিটরিং করতে হবে। কেননা আমাদের বড় ধরনের কোনো সংকট হয়নি। যাতে সংকট না হয়, এ জন্য আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর এবং তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে একটা সেল থাকা উচিত। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, পরিবেশবিদ, যারা শরণার্থী নিয়ে কাজ করেছেন। তাদের সবাইকে নিয়ে সরকার একটা সেল করতে পারে। যারা সরকারকে পরামর্শ দিতে পারবেন। কেননা এটা দেশের জন্য একটা বড় ইস্যু।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর