শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫০

এলপিজির দাম বেড়েই চলেছে বিশ্ববাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এখন আর ভোগ্যবস্তু নয়। এখন এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে টানা সাত মাস ধরে সর্বোচ্চ হারে এলপিজির দাম বেড়েই চলেছে। গত বছর জুন থেকে চলতি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা নয় মাসে এলপিজির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। গত বছরের জুনে প্রতি টন এলপিজির মূল্য ছিল ৩৩৬ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে তা পৌঁছেছে প্রায় ৬০০ ডলারে। সে হিসাবে বিশ্ববাজারে প্রতি টনে প্রায় ২৬৪ ডলার দাম বেড়েছে এলপিজির। সাত বছরের মধ্যে এলপিজির দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন বছরের শুরুতেই দাম বাড়িয়েছে এলপিজি আমদানিকারক সব প্রতিষ্ঠান। এ খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম প্রতি টনে প্রায় ২৬৪ ডলার দাম বেড়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাহক পর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়াতে হচ্ছে। আমদানিকারক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববাজারে এলপিজির যে দাম তা গত সাত বছরে সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছরের জুনে প্রতি টন আমদানি করা এলপিজির মূল্য ছিল ৩৩৬ ডলার, জুলাইয়ে ৩৪৬ ডলার, আগস্টে ৩৫১ ডলার, সেপ্টেম্বরে ৩৫৮ ডলার, অক্টোবরে ৩৭৮.৫ ডলার, নভেম্বরে ৪৩৭ ডলার, ডিসেম্বরে ৪৫৭ ডলার, এ বছর জানুয়ারিতে ৫৩৬ ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬০০ ডলার। নয় মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২৬৪ ডলার।

করোনা পরিস্থিতির শুরুর দিকে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম ব্যাপক হারে হ্রাস পায়। গত বছর এপ্রিলে পণ্যটির দাম টনপ্রতি ২৫০ ডলারে নেমে গিয়েছিল। দামের এ নিম্নমুখিতার প্রভাব পরবর্তী সময়ে পড়ে দেশের বাজারেও। ওই সময় দেশেও গ্রাহক পর্যায়ে পণ্যটির দাম কমিয়েছিলেন আমদানিকারকরা। তবে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন আবারও গ্রাহক পর্যায়ে পণ্যটির দাম বাড়িয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে এ গ্যাসের ৯৮ শতাংশই আমদানি হয়, যার পুরোটা আসে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। যেহেতু আমদানিনির্ভর পণ্য তাই বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি মাসে এলপিজি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করতে হয়।

চাহিদা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশের বাজারেও দাম বাড়ছে। গত বছর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। চলতি বছর জানুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আরও ৫০ টাকা করে বাড়িয়েছে। দেশে ২৮টি এলপিজি গ্যাস কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে বসুন্ধরা এলপিজি। কোম্পানিটির মার্কেট শেয়ার ২৫ শতাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস কোম্পানির হেড অব ডিভিশন (সেলস) প্রকৌশলী জাকারিয়া জালাল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। এ ঊর্ধ্বমুখিতার কারণ বিশ্বে শীতকালে এলপিজির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। চাহিদাও বেড়ে যায় অনেক গুণ। গত নয় মাসে প্রতি টনে ২৬৪ ডলার দাম বেড়েছে এলপিজির, যা প্রায় দ্বিগুণ। ২০২০ সালের জুনে টনপ্রতি দাম ছিল ৩৩৬ ডলার, তা এখন পৌঁছেছে প্রায় ৬০০ ডলারে। বিশ্ববাজারে যদি এমন চড়া মূল্য থাকে এর একটা প্রভাব দেশের বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে পড়বেই। তবে আমরা আশা করছি দাম দু-তিন মাসের মধ্যে সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। তখন আমরাও ভোক্তাদের কাছে সহনীয় পর্যায়ে সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে পারব।’ তিনি বলেন, দাম বাড়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ বিশ্ববাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের এলপিজির ৯৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর। সেটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমদানি করে থাকে। যেহেতু আমদানিনির্ভর তাই এর দাম নির্ধারণ করা হয় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লে আমদানিকারক বা সিলিন্ডার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কিছু করার থাকে না। কারণ এটি আমদানিনির্ভর। এলপিজির দাম বাড়ার ফলে মানুষের মধ্যে কিছু প্রভাব অবশ্যই পড়বে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে আনুপাতিক হারে যেন দাম বাড়ানো হয়, সেটাই আমরা চাই।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর