শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৬

তরুণদের মধ্যে প্রবণতা বেশি

-ড. মাহফুজা খানম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন ড. মাহফুজা খানম বলেছেন, বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। আজকের তারুণ্য খুব হতাশ হয়ে পড়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, করোনা মহামারী শুরুর আগে তরুণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই ছোটখাটো কাজ বা টিউশনি করে নিজের হাতখরচসহ পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করত। কিন্তু মহামারী শুরুর পর কারও কাজ আর নেই। এ অবস্থায় তারা নিজেও চলতে পারছে না আবার পরিবারকেও সহায়তা করতে পারছে না। এসব ছেলেমেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছে। শনিবার বাংলাদেশ  প্রতিদিনকে তিনি এসব কথা বলেন। এ অধ্যাপক বলেন, মহামারীতে আত্মহত্যার পেছনে যেমন ‘সাইকোলজিক্যাল’ কারণ আছে তেমনি এর পেছনে বড় একটি কারণ অর্থনৈতিক। করোনা সংক্রমণের এই সময়ে অনেকেরই চাকরি ছিল না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের কোনো কাজ ছিল না। মানুষজন লকডাউনে অনেক দিন ঘরে আটকা ছিল। এ কারণে তখন অনেকের মধ্যেই হতাশা তৈরি হয়। ‘সাইকোলজিক্যাল’ কারণের মধ্যে হতাশা একটি বড় কারণ। মাহফুজা খানম বলেন, করোনা সংক্রমণ শুরুর আগে তরুণ শিক্ষার্থীদের অনেকের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের বিয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও মহামারী শুরুর পর এ সম্পর্কগুলোর কোনো কোনোটি ভেঙে যায়। এতে তরুণদের অনেকের মধ্যে হতাশা জন্ম নিয়েছে।  তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ শুরুর পর সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মানুষ জানত না ভবিষ্যতে কী হবে। তবে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ঘরে আটকে থাকা এবং কাজ না থাকা, অনেক কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এসব কিছুই মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। আর মানুষ কিন্তু বেশিক্ষণ চাপের মধ্যে থাকতে পারে না। মানুষ যে কোনোভাবেই হোক এই চাপ থেকে মুক্ত হতে চায়। তিনি আরও বলেন, চাপ থেকে দুভাবে মুক্তি পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে আত্মহনন। যারা ঘটনার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখে যায় তারা বেঁচে যায় কিন্তু যারা এই মানসিক চাপ সহ্য করতে পারে না তারা চাপমুক্ত হতে আত্মহত্যাকে বেছে নেয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর