শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মার্চ, ২০২১ ২৩:২৮

ভারতের সাত রাজ্যে চোখ বাংলাদেশের

সম্ভাবনাময় পাঁচ পণ্য রপ্তানিতে জোর

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

ভারতের সাত রাজ্যে (সেভেন সিস্টার্স) পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের কৌশল হিসেবে এ রাজ্যগুলোয় প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি আরও কিছু সম্ভাবনাময় পণ্যের তালিকা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যেগুলো রপ্তানির বিষয়ে ভারতের সহায়তা চাওয়া হবে।

জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সেভেন সিস্টার্সে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ইস্যুটি উপস্থাপন করা হবে। স্থলবন্দরগুলো দিয়ে যাতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় সহজে পণ্য রপ্তানি করা যায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে জোর দেওয়া হবে।

সূত্রগুলো জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকটি হবে ৮ মার্চ। এর আগে প্রস্তুতিমূলক আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হতে যাচ্ছে আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। এ বৈঠকে বাংলাদেশের ইস্যুগুলোয় নিজেদের কৌশল চূড়ান্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে বেশ উষ্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। মুজিব জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এ মাসের শেষের দিকে ঢাকায় আসার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনা চলছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ইস্যুগুলো নিয়েও। আর সে কারণেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেভাগেই সচিব পর্যায়ের বৈঠকটি হতে যাচ্ছে, যাতে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে সুস্পষ্টভাবে তাঁর দেশের সহায়তার খাতগুলো উল্লেখ করতে পারেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সচিব পর্যায়ের বৈঠকে যে ইস্যুগুলো আলোচনায়          আসবে তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সিপা (কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট) চুক্তি, অ্যান্টি ডাম্পিং, ভারতের নতুন কাস্টম আইন, বর্ডারহাট পর্যালোচনা ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ। এ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণেই সেভেন সিস্টার্সে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ইস্যুটি তোলা হবে।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর্যায়ে রয়েছে। এ মুহূর্তে সম্ভাবনাময় রপ্তানি বাজারগুলোয় যাতে আরও বেশি পণ্য রপ্তানি বাড়ানো যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। আর এ পরিকল্পনায় সেভেন সিস্টার্সে রপ্তানি সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হচ্ছে। সচিব বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে হলে ভারতে আমাদের পণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সেভেন সিস্টার্সে বাংলাদেশি পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। তবে কিছু শুল্ক ও অশুল্ক বাধা রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের নতুন যে কাস্টমস আইন হয়েছে তার ফলে স্থলবন্দরগুলোয় বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। এসব সমস্যা দূর করার বিষয়ে দাবি জানাব আমরা।’ কর্মকর্তারা জানান, ভারতের শিল্পোন্নত রাজ্যগুলোর সঙ্গে সেভেন সিস্টার্স বলে পরিচিত রাজ্যগুলোর সড়কপথে যোগাযোগ ব্যয়বহুল। এ রাজ্যগুলো হচ্ছে আসাম, অরুণাচল, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড। প্রায় ৪ কোটি লোক বসবাস করে এসব রাজ্যে। অন্যান্য রাজ্য থেকে পণ্য আনতে যে খরচ পড়ে বাংলাদেশ থেকে পণ্য কিনলে পরিবহন খরচ অনেক কমে যায়। এর ফলে সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত সীমান্তবর্তী সাত ভারতীয় রাজ্যে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির যেমন সম্ভাবনা রয়েছে তেমন গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের বিপুল চাহিদাও রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় যেমন বাড়বে তেমন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতেও অবদান রাখবে। উপরন্তু সেভেন সিস্টার্সের অধিবাসীরাও সাশ্রয়ী দামে পণ্য কিনে লাভবান হবেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক, টিস্যু পেপার, প্লাস্টিক পণ্য, পাটজাত পণ্য, কোমল পানীয়, ঢেউটিন, মেলামাইন ও সিরামিক সামগ্রী, ওষুধ, শুঁটকি, তাতের কাপড়, শাড়ি, লুঙ্গি, মিনারেল ওয়াটার, ইট, রড, সিমেন্ট, পাথর, পিভিসি পাইপ, টয়লেট ফিটিংস, ব্যাটারি, বাইসাইকেল, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, প্যাকেটজাত ফলের রস এবং প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য ও মাছ রপ্তানি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে সেভেন সিস্টার্সে। বিশেষ করে প্রাণ গ্রুপের প্যাকেটজাত খাদ্য ও ফলের জুসের একটি বড় বাজার হচ্ছে সেভেন সিস্টার্স। এ ছাড়া সিমেন্ট, ভোজ্য তেল, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, টয়লেট্রিজ, এলপিজি এ পাঁচটি পণ্যকে এখন রপ্তানির জন্য সম্ভাবনাময় পণ্য বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকেও বাংলাদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানির বিষয়ে চাহিদা দেখানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের নদীপথ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে ভারতের ত্রিপুরায় সিমেন্ট রপ্তানি শুরু হয়েছে গত আগস্টে। গোমতী নদী দিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি হয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সড়কপথের তুলনায় ব্যয় কমেছে। এ ছাড়া দীর্ঘ ৫৫ বছর পর নীলফামারীর চিলাহাটি ও ভারতের কোচবিহারের হলদিবাড়ীর মধ্যে রেল যোগাযোগের পথ চালু হয়েছে। এর ফলে রেলপথে নেপাল-ভুটান ছাড়াও সেভেন সিস্টার্সে পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর