শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৪০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনায় পুলিশকে দুষলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনায় পুলিশকে দুষলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী
Google News

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা তান্ডবের রূপ নেবে, এত বড় একটা বিষয় জানল না। তিনি বলেন, পুলিশের এত গাড়ি পোড়াচ্ছে তবু উনারা ঘুমাচ্ছেন মনে হয়। আজ আমি শহরে ঢোকার আগেই পুলিশ আমার গাড়ি আটকিয়ে খোঁজ নিচ্ছে আমি কোথায় যাব, না যাব। এত সচেতন পুলিশ, তান্ডব আসন্ন জানতে পেল না?

ডা. জাফরুল্লাহ শনিবার বেলা দেড়টায় ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দেখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন।  এ সময় তিনি পরিদর্শনকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। এতে আমরা মর্মাহত। এখন পর্যন্ত যা হয়েছে একদিকে পত্রিকায় বের হয়েছে রামদা নিয়ে, আবার আপনাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছি প্যান্ট-শার্ট পরা। এদিকে অন্যদের কাছে তথ্য পাচ্ছি, আওয়ামী লীগের অন্তঃদ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা কিছু বুঝতে পারছি না।

তিনি বলেন, এমপি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী যা বলেছেন, তাতে সরাসরি পুলিশকে দায়ী করেছেন। এই মুহূর্তে আমরা কোনো মন্তব্য না করে ঢাকায় গিয়ে সব জানাব। সাংবাদিক হিসেবে আপনাদের কাজ সত্য তুলে ধরা, আপনারা অনেকে তা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সংঘর্ষের সময় ১৫ জন যে নিহত হয়েছে সে ঘটনার যেমন নিন্দা জানাই, তেমনি সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের যে ঘটনা ঘটেছে তারও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি বলেন, আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষতিগ্রস্ত সব স্থাপনা পরিদর্শন করে ঢাকায় গিয়ে এ বিষয়ে প্রেস বিফ্রিং করব। তিনি বলেন, প্রেস ক্লাব খুই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, সাংবাদিকরা জনগণের জন্যই কাজ করে। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংবাদিকরা সমাজের জন্য কাজ করেন। তাদেরকেই যদি হামলা করা হয়, সাধারণ জনগণ তথ্য পাওয়া থেকে বাধাগ্রস্ত হবে। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, নারীপক্ষের শিরিন হক, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ উলফত, পাখি বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল, রাষ্ট্র চিন্তার দিদারুল ভুইয়া, ব্যারিস্টার সাদিয়া আরফান প্রমুখ। উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা।