শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ মে, ২০২১ ২৩:১৪

চীন-রাশিয়ার টিকা দ্রুত আমদানিতে জোর

জয়শ্রী ভাদুড়ী

Google News

রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি ও চীনের সিনোফার্মের টিকা বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব সম্পূর্ণ খোঁজখবর নিয়ে আমদানি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চাচ্ছে বাংলাদেশ। গতকাল করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় পরামর্শক কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম।

এদিকে দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৪ ডোজ ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে তৈরি হয়েছে সিদ্ধান্তহীনতা। সভার আলোচনার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, টিকার বিকল্প উৎসসংশ্লিষ্ট আলোচনার জন্য আজকের (বুধবার) মিটিং করা হয়েছে। চীন উপহার হিসেবে সিনোফার্মের যে টিকা দেবে তা দ্রুততম সময়ে দেশে নিয়ে আসার বিষয়ে মিটিংয়ে আলোচনা হয়। চীন-রাশিয়ার টিকার দাম নির্ধারণ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিনোফার্ম কিংবা স্পুটনিক কেউই এখনো টিকার দাম জানায়নি। ওরা আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অন্য তথ্যগুলো সরবরাহ করেছে। আমরা সার্বিক প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে টিকা নিয়ে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। কমিটিতে অন্য কোনো সদস্য নেওয়া যায় কি না সে বিষয়েও মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা সংগ্রহ এবং নিরাপদ ও কার্যকর টিকা নির্বাচন, চাহিদা নিরূপণ, বিতরণ ও দরকষাকষির মাধ্যমে টিকার যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের জন্য ৩ মে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে সরকার। এ কমিটি দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বর্তমান ধারা ও ভবিষ্যৎ প্রক্ষেপণের আলোকে টিকার চাহিদা নিরূপণ করবে। টিকার মূল্য, প্রাপ্যতা, কার্যকারিতা ইত্যাদি বিবেচনায় নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত টিকার সম্ভাব্য সব উৎস থেকে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী টিকা নির্বাচন করবে। ইমারজেন্সি ইউজ অথরাইজেশন টিকার মূল্য দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারণ করবে। এ কমিটি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেবে। এদিকে বাংলাদেশকে দেওয়া চীনের উপহারের ৫ লাখ টিকা ১২ মে আসছে বলে সাংবাদিকদের বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পরই সরকার চীন থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা শুরু করে।

১৪ লাখ ডোজ টিকা ঘাটতি, দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে সিদ্ধান্তীনতা : দেশে করোনাভাইরাসে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৪ ডোজ ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ে অক্সফোর্ডের টিকা না এলে দেশে টিকা সংকট সৃষ্টি হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথম ডোজ নেওয়াদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার বিষয়ে কী করা হবে তা এখনো ঠিক করতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদফতর। গতকাল দুপুরে কভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, টিকা সংকটের কারণে ২৬ এপ্রিল থেকে প্রথম ডোজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে এখনো দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া বাকি ২৭ লাখ ১৩ হাজার ৪৮ জন। দেশে এখন মজুদ টিকা আছে ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৩৪ জনের। এ কারণে টিকার দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৪ জন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার বিষয়ে আমরা সময়মতো সিদ্ধান্ত নেব। পৃথিবীব্যাপী জরুরি পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য যে সিদ্ধান্ত সেটাই নেওয়া হবে। শঙ্কার কোনো কারণ নেই।

রোবেদ আমিন বলেন, এর আগে জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে অন্যান্য কোম্পানির টিকা দিয়ে অন্য রোগের টিকা কর্মসূচি চলমান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশ যদি অন্য কোম্পানির টিকা দিয়ে দ্বিতীয় ডোজ শুরু করে তাহলে আমরাও এ সিদ্ধান্ত নেব। তবে চীন ও রাশিয়ার টিকা দ্রুত আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।