বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মানুষের উন্নয়নই হলো সরকারের দর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানুষের উন্নয়নই হলো সরকারের দর্শন

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের উন্নয়নই হলো বর্তমান সরকারের দর্শন। দেশব্যাপী জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন থেকে শুরু করে ডিজিটালাইজেশন, সবই সম্ভব হয়েছে আমাদের সরকারের উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য বেগম সুলতানা নাদিরার প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কল্যাণেই দেশে সংঘটিত হয়েছে আমূল পরিবর্তন। সব মানুষের উন্নয়নের মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০২১ সালের মধ্যে ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ’ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ‘উন্নত বাংলাদেশ’ গঠনে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগর ও গ্রামের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশ্যে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক সুবিধা সম্প্রসারণে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী, কার্যকর ও স্বাবলম্বী করা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ অনুযায়ী স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী, কার্যকর ও স্বাবলম্বী করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, গ্রামের দিকে নজর দিতে হবে। কেননা গ্রামই সব উন্নয়নের মূল কেন্দ্র। গ্রামের উন্নয়ন আর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যখন বেগবান হবে তখন গোটা বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে দেশের প্রতিটি গ্রামে উন্নত রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুচিকিৎসা, মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ বৃদ্ধি, কম্পিউটার ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মানসম্পন্ন ভোগ্যপণ্যের সম্প্রসারণের মাধ্যমে আধুনিক শহরের সব সুবিধাদি পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ৩-৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের অন্যতম প্রধান ও ভিত্তিস্তর। ইউনিয়ন পরিষদকে আরও শক্তিশালী, স্বাবলম্বী, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও নারীর ক্ষমতায়নসহ মানুষের জীবনযাত্রার সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগসমূহ হলো, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাধারণ জনগণকে সব ধরনের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে একটি ছাতা পরিষেবা প্রদান ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার চালুসহ জুলাই ২০১১ থেকে জুন ২০২১ পর্যন্ত মেয়াদে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) চলমান। যার মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ২ হাজার ৪০৭টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮৮৭টি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বর্তমানে ১৪৪টি ভবন নির্মাণকাজ চলমান। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন আরও আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়) চলমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে জন-অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য ৮ বিভাগের ৯ জেলার (ফরিদপুর, চাঁদপুর, রাজশাহী, খুলনা, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ, রংপুর, নেত্রকোনা ও কক্সবাজার) পিছিয়ে পড়া ১৮টি উপজেলা এবং ২৫১টি ইউনিয়ন পরিষদে জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত মেয়াদে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার (ইএএলজি) প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম নাজমা আকতারের প্রশ্নের লিখিত জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকার টেকনিক্যাল মোড় থেকে মিরপুর-১ পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটিতে শিক্ষার্থী ও পার্শ¦বর্তী এলাকার জনসাধারণের নিরাপদ রাস্তা পারাপারের জন্য সরকারি বাঙলা কলেজ সংলগ্ন একটি ফুটওভার ব্রিজ বিদ্যমান রয়েছে। এ ছাড়া প্রয়াত স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হকের চাহিদার আলোকে মডেল একাডেমি স্কুল ও বিএডিসি স্কুল সংলগ্ন প্রধান সড়কে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যা এ মাসের মধ্যে সমাপ্ত হবে।

নভেম্বরে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন : সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের নভেম্বরে একটি ‘আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন’ আয়োজন করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এ সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে সভাপতি এবং অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদকে আহ্বায়ক করে ৪২ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী নভেম্বরের ৪-৫ তারিখে ঢাকায় এই সম্মেলন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবতার কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদান ব্যাপকভাবে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস। সংসদ নেতা জানান, অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান ব্রতে নিয়োজিত বরেণ্য ব্যক্তি ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে ও অংশগ্রহণে একাধিক প্যানেল আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া এই সম্মেলনের মাধ্যমে ‘ঢাকা শান্তি ঘোষণা’ নামক একটি ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা হবে। অপর প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পুরস্কার’ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।