শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০২১ ২৩:০৭

ঈদের দুই দিন চামড়া যাবে না ঢাকায়

লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে চামড়া পরিবহন

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

ঈদের দুই দিন চামড়া যাবে না ঢাকায়
Google News

কোরবানির পশুর চামড়া ঈদের দুই দিনের (ঈদ-পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা) মধ্যে ঢাকায় পাঠানো যাবে না। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সব জেলায় এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর পোস্তগোলায় আড়তদারদের কাছে একই বার্তা পাঠানো হয়েছে। ফলে ঈদের পরদিন লকডাউন শিথিল থাকলেও কোনো চামড়ার ট্রাক ঢাকায় আসতে পারবে না। এ পরিস্থিতিতে ঈদ-পরবর্তী লকডাউনের সময় কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আজ চিঠি পাঠাবে শিল্প মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদুল আজহায় কোরবানির চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ, নিরবচ্ছিন্নভাবে লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। ঈদের দিন থেকে এই কন্ট্রোল রুমে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এই কন্ট্রোল রুম থেকে এরই মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই ঈদ-পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা না পেরোলে কোরবানির পশুর চামড়া ঢাকায় না পাঠানো হয়। কর্মকর্তারা জানান, এবার ঈদের দুই দিন পর থেকে আবার লকডাউন শুরু হওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেই ঈদের দিন অথবা ঈদের পরদিন দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর চেষ্টা করবেন। এতে বেশির ভাগ চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কারণ, কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের পর সেটিতে লবণ দিয়ে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হয়। এ কাজটি করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কোরবানির পশুর চামড়া সংক্রান্ত কন্ট্রোল রুমের তদারককারী কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা এরই মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও পোস্তগোলায় আড়তদারদের বলে দিয়েছি যাতে কোনোভাবেই ঈদ-পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পেরোনোর আগে ঢাকায় চামড়া না আনা হয়। তবে এবার যেহেতু ঈদের ৪৮ ঘণ্টা পর আবারও লকডাউন শুরু হবে, সে জন্য, চামড়া পরিবহনকারী ট্রাক যাতে লকডাউনের আওতামুক্ত থাকে সে বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারির জন্য আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি লিখব।

সাত বিভাগে তদারকি কমিটি : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান,  কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার পর্যবেক্ষণ, চামড়া সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তদারকি করতে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষকে প্রধান সমন্বয়ক করে ১৭ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয়  যৌথ সমন্বয়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ ও মজুদ পরিস্থিতি, ক্রয়-বিক্রয়সহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সার্বিক সমন্বয় ও তদারকি করবে। এ ছাড়া পৃথকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রংপুর রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য পৃথক ৭টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম কাঁচা চামড়ার সংরক্ষণ ও ক্রয়-বিক্রয়সহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

চামড়া সংরক্ষণে লবণ সরবরাহ : কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহের জন্য পৃথক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক)। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য নিয়ে এবারের ঈদে কী পরিমাণ পশু কোরবানি হবে তার  একটি আনুমানিক ধারণা নিয়েছে বিসিক। সে হিসাবে তারা জেনেছে এবার কোরবানি পশুর চামড়া সংরক্ষণে ১ লাখ মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হবে। বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী এবার ঈদে সম্ভাব্য কোরবানির পশুর সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ। এর মধ্যে গরু-মহিষ ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার এবং ছাগল ভেড়ার সংখ্যা ৭২ লাখ ৫৬ হাজার। প্রতিটি গরু মহিষের চামড়ায় ১০ কেজি এবং প্রতিটি ছাগল- ভেড়ার চামড়ার জন্য ৫ কেজি ধরে মোট ৮১ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হতে পারে। সে হিসাবে কিছুটা বাড়তি ধরে ১ লাখ মেট্রিক টন লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর, লবণ মিল মালিক ও ডিলারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিসিক জানায়, চলতি মৌসুমে ১৬ লাখ ৫১ হাজার ক্রুড লবণ উৎপাদন হয়েছে। পুরনো মজুদ রয়েছে আরও সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন। ফলে দেশে এখন প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ আছে। এ অবস্থায় কোরবানির পশুর চামড়ার জন্য লবণের কোনো ঘাটতি হবে না বলে জানিয়েছেন বিসিকের কর্মকর্তারা।