শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ জুলাই, ২০২১ ২২:২১

বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস আজ

লিবিয়া উপকূলে হাজার হাজার বাংলাদেশি

মাহবুব মমতাজী

Google News

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ইউরোপে যেতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন অন্তত ১০ হাজার বাংলাদেশি। ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার হয়ে ফেরত আসাদের সঙ্গে কথা বলে আনুমানিক এ সংখ্যা জানতে পেরেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

৪ জুলাই ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার হয়ে তিউনিসিয়ায় আইওএমের ক্যাম্পে দেড় মাস থাকার পর দেশে ফেরেন ১৭ বাংলাদেশি। তাদের সবার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর ও মাদারীপুরে। সবার সঙ্গে কথা বলে লিবিয়া ও ভূমধ্যসাগর পার করানোর চক্রের সম্পর্কে তথ্য নিয়েছেন সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তারা।

ফিরে আসা আব্বাস আলী দেওয়ান নামে এক ভুক্তভোগীর বড় ভাই রবিন দেওয়ানের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, ১৩ এপ্রিল ভ্রমণ ভিসায় দুবাই হয়ে তিনি লিবিয়ায় যান। সেখান থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে তাদের নৌকা ডুবে যায়। এরপর তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করে আইওএম ক্যাম্পে রাখে। সেখানে দুই মাস থাকার পর দেশে ফেরেন। লিবিয়া উপকূলে বিভিন্ন ক্যাম্পে আনুমানিক ১০ হাজার বাংলাদেশিকে দেখেছেন আব্বাস, যারা ইতালি কিংবা ইউরোপে যেতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

এ বিষয়ে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম অ্যান্ড হোমিসাইডাল স্কোয়াডের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) সাইদুর রহমান খান জানান, উপকূলে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়াদের কতটি ক্যাম্প আছে বা কতজন বাংলাদেশি সেখানে আছেন সে সম্পর্কে তাদের কাছে সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে আছে। যারা ফিরে আসেন তারা তাদের পারসেপশন থেকে ১০ হাজার লোক থাকার কথা বলছেন।

তিউনিসিয়া ক্যাম্প থেকে ফিরে আসা বাবু ছৈয়াল জানান, তিনি ভ্রমণ ভিসায় ৪ এপ্রিল দুবাই যান। সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ার বেনগাজি যান। লিবিয়াপ্রবাসী সফিক শেখের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি যেতে মাহবুব পাঠানের ক্যাম্পে রাখা হয়। এখানে ১০-১২ দিন থাকার পর মনিরের ক্যাম্পে রাখা হয়। এরপর ১৬ জুন ৬৪ বাংলাদেশিসহ ১০৪ জনকে একটি ফাইবারের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইতালির দিকে পাঠায়। ১৬ ঘণ্টা চলার পর ঝড়ে নৌকা ফেটে গেলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে তাদের কান্নাকাটি শুনে তিউনিসিয়া নৌবাহিনীর একটি জাহাজ এসে তাদের উদ্ধার করে।

সূত্র জানান, চলতি বছরে ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হানান অন্তত ৯৭০ জন। এর উল্লেখযোগ্যসংখ্যকই বাংলাদেশি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪১৭। ২০১৯ সালে ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৮৮৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়। এর আগের বছর সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ২৯৯ অভিবাসনপ্রত্যাশী ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে মারা যান।

জানা গেছে, চলতি বছরের মে পর্যন্ত লিবিয়ার কোস্টগার্ড ৯ হাজার ২১৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার সময় উদ্ধার করে। গত বছরের একই সময়ে উদ্ধার হয়েছিলেন ৭ হাজার ১০০ জন।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন ইউএনএইচসিআরের তথ্যানুসারে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ পৌঁছেছেন; যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেশি।

সিআইডি-সূত্র জানান, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে বাংলাদেশি পাঠানোর ঘটনায় গত দুই বছরে সারা দেশে ৯২৯টি মানব পাচার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মহানগরে (ডিএমপি) ২৬৪টি। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম মহানগরে (সিএমপি) ৬৭, মাদারীপুরে ৪৪, নরসিংদীতে ৬, কিশোরগঞ্জে ৪ আর ঢাকা জেলায় মামলা হয়েছে ২০টি।

এই বিভাগের আরও খবর