রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

বাড়িতে মৃত্যু বেড়েছে ৩২ গুণ

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৮ হাজার ১৩৬, মৃত্যু ২৬১

শামীম আহমেদ

বাড়িতে মৃত্যু বেড়েছে ৩২ গুণ

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে লাগাম ছাড়াচ্ছে মৃত্যু। শুধু হাসপাতালে নয়, বাড়িতে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যু হু হু করে বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারির তুলনায় আগস্টে এসে বাড়িতে রোগী মৃত্যু বেড়েছে ৩২.৫৯ গুণ। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫০.৮৪ গুণ, মার্চের তুলনায় ৪৩.৮৩ গুণ, এপ্রিলের তুলনায় ৫.৫৩ গুণ, মে মাসের তুলনায় ৮.৩৬ গুণ বেড়েছে বাড়িতে মৃত্যু। আর গত মাসের তুলনায় বেড়েছে ৮.৫৪ শতাংশ। বাড়িতে মারা যাওয়া অধিকাংশই সংকটাপন্ন মুহূর্তে স্থানীয় পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসা না পাওয়ায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন বলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

এদিকে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার গত ৮ দিন ধরে টানা নিম্নমুখী থাকলেও কমছে না মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৭১৪টি নমুনা পরীক্ষায় ৮ হাজার ১৩৬ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৫.৬৫ শতাংশ, যা আগের দিনের চেয়ে দশমিক ৬০ শতাংশ কম। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৩ জন বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৭ জন হাসপাতালে ও ৩ জন বাড়িতে মারা গেছেন। ১ জনকে মৃতাবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই দিন বাড়িতে কম মৃত্যু হলেও আগস্টের ৭ দিনে মারা গেছেন ৮৯ জন। এর আগে ২৬ জুলাই এক দিনেই সর্বোচ্চ ২৬ জনের মৃত্যু হয় বাড়িতে।

দেশে গত ৮ মে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পর জুন থেকে বাড়ছে মৃত্যু। ৮ মে থেকে গতকাল পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ১০ হাজার ৫৭৮ জন মারা গেছেন। গড়ে প্রতি ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪.৭৯ জন। অথচ গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর থেকে গত ৭ মে পর্যন্ত মারা গেছেন ১১ হাজার ৮৩৩ জন। প্রতি ঘণ্টায় গড় মৃত্যু ১.১৬ জন। এ ছাড়া গত জুন থেকে বাড়িতে ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হু হু করে বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে বাড়িতে মৃত্যু হয় ১৪৪ জনের। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭ জন, মার্চে ৯ জন, এপ্রিলে ৬৯ জন ও মে মাসে ৪৭ জন মারা যান। জুনে এসে এক মাসেই মারা যান ১২৪ জন। জুলাইয়ে বাড়িতে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬৩ আর আগস্টের ৭ দিনেই বাড়িতে মারা গেছেন ৮৯ জন। এ ছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে এপ্রিলে ১১ জন, জুনে ৬ জন, জুলাইয়ে ১৩ জন ও আগস্টের ৭ দিনে ৫ জন মারা গেছেন। বাড়িতে ও পথে পথে মৃত্যু এক করলে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে হাসপাতালের বাইরে দৈনিক গড় মৃত্যু ১ জনের মতো। জুনে সেটা বেড়ে হয় ৪.৩৩ জন, জুলাইয়ে ১২.১৩ জন ও আগস্টে ১৩.৪৩ জন। মহামারীর ১৭ মাসে বাড়িতে মোট মারা গেছেন ৬৪৮ জন, যার মধ্যে গত ২ মাস ৭ দিনেই মারা গেছেন ৫৭৬ জন। এদিকে বাড়িতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে যাওয়ায় শুরু থেকেই ৯৩ শতাংশের বেশি করোনা রোগী নিজ বাড়িতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিয়ে আসছেন। ফলে চলতি বছরের শুরুতেও করোনা হাসপাতালগুলোর বেশির ভাগ শয্যা খালি পড়ে থাকত। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়ায় গত জুন থেকে হাসপাতালগুলোয় সংকটাপন্ন রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। শয্যা বাড়ানোর পরও ঠাঁই মিলছে না হাসপাতালে। মহামারীর ১৭ মাসেও বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় রোগীকে ভর্তি করাতে ছুটতে হচ্ছে জেলা, বিভাগীয় শহর বা রাজধানীতে। ঢাকায় এসেও তাৎক্ষণিক মিলছে ভর্তির সুযোগ। এসব কারণে অনেক দরিদ্র রোগী বাড়িতেই ধুঁকে ধুঁকে প্রাণ হারাচ্ছেন। আবার কেউ উপজেলা, জেলা বা বিভাগীয় শহর ঘুরে রোগী ভর্তি করাতে পারলেও দীর্ঘ যাত্রাপথে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। কারও মৃত্যু হচ্ছে পথেই। গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ২২ হাজার ৪১১ জন। সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৮২০ জন। গতকাল চিকিৎসাধীন থাকা ১ লাখ ৩২ হাজার ১৬৫ রোগীর মধ্যে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৪ জন (৮৯.৯০ শতাংশ)। আইসিইউ, এইচডিইউ ও সাধারণ শয্যা মিলে গতকাল সারা দেশে সাড়ে ৫ হাজারের মতো শয্যা খালি থাকলেও ঢাকার ৪টিসহ মোট ১৫টি হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি ছিল।