বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

সবকিছু খুলছে আজ

মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিনোদন কেন্দ্র ও জনসমাগম

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আজ থেকে উঠে যাচ্ছে  বেশির ভাগ বিধিনিষেধ। ফলে আজ থেকে খোলা থাকবে সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট ও গণপরিবহন। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার বা বিনোদন কেন্দ্র খোলার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। ঈদের পর গত ২৩ জুলাই থেকে শুরু হয়েছিল এই দফার লকডাউন। এর মধ্যে গত ১ আগস্ট থেকেই শিল্পকারখানা খোলা রয়েছে। সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও সর্বোচ্চ মৃত্যুর পরও অর্থনীতি ও জনমানুষের উপার্জনের কথা চিন্তা করে সব কিছু খুলে দিচ্ছে সরকার। তবে সব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তাও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সরকারের দায়িত্বশীলরা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সর্বশেষ জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসারে, সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে আসন সংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন, যানবাহন চলাচল করতে পারবে। সড়কপথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন (সিটি করপোরেশন এলাকায়  বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক) নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দফতর-সংস্থা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চালু করতে পারবে। শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খোলা রাখা যাবে। সব প্রকার শিল্প-কলকারখানা চালু থাকবে। খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সরকারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। গণপরিবহন, বিভিন্ন দফতর, মার্কেট ও বাজারসহ যে কোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে জুলাই মাসের এক তারিখ থেকে দুই দফায় ১৪ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন দেয় সরকার। কোরবানির ঈদ উদযাপনের জন্য ২৩ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন শিথিল করা হয়। এর আট দিন বিরতির পর আবারও ১৪ দিনের লকডাউন দেওয়া হয় এবং তা আরও পাঁচ দিন, ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। অবশ্য শুরুর দিকে লকডাউন কঠোর থাকলেও এই লকডাউন কয়েকদিনের মধ্যে ঢিলেঢালা হয়ে আসে। কারণ টানা লকডাউনের কারণে বিরক্ত হচ্ছিল বেশির ভাগ মানুষ। উপার্জন বন্ধ বা কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে বিপদের মুখে ছিল নিম্নআয়ের লোকজন।

গণপরিবহনে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না : লকডাউন ওঠার পর চালু হওয়া গণপরিবহনে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। এ ছাড়া কোনো বাসে দাঁড় করিয়ে যাত্রী বহন না করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ। সোমবার রাতে এক নির্দেশনায় বিআরটিএ বলছে, গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চালু করতে পারবে। সরকার নির্ধারিত আগের ভাড়ায় গণপরিবহন চলবে। ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া নেওয়ার নিয়ম আর কার্যকর থাকছে না। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত সব নিয়ম মেনে চলতে হবে। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রী, চালক, সুপারভাইজার, কন্ডাক্টর, হেলপার কাম ক্লিনার এবং টিকিট বিক্রয় কেন্দ্রের কর্মীদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করতে হবে। বাস যাত্রার শুরু ও শেষে যানবাহন পরিচ্ছন্ন করতে হবে। জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া যাত্রীদের হাতব্যাগ, মালপত্র জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে মালিকদের।

আদালত চলবে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে : বিধিনিষেধ শিথিল করায় আজ (বুধবার) থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে হাই কোর্টের সব বেঞ্চে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে সোমবার হাই কোর্টে ৫৩টি ভার্চুয়াল বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। অন্যদিকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চের স্বাভাবিক কার্যক্রমও চলবে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে গত রবিবার থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে নিম্ন আদালতে স্বাভাবিক বিচার কাজ শুরু হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়া জামিনসহ বিভিন্ন আবেদনের শুনানি নিয়ে আদেশ দিচ্ছেন বিচারকরা।

লকডাউনের ১৯ দিনে ঢাকায় গ্রেফতার সাড়ে ৭ হাজার :  ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন থেকে চলা কঠোর লকডাউন বা বিধিনিষেধের ১৯ দিনে ৭ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার ৮৪৩ জনকে ৩১ লাখ ১১ হাজার ৯৩৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে আরও জানা গেছে, বিধিনিষেধ চলাকালে যান চলাচলের নিয়ম অমান্য করায় ৮ হাজার ৩৫০টি গাড়িকে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা করে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ ১৫ আগস্ট পর্যন্ত : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত বন্ধের মেয়াদ আরও পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থলসীমান্ত বন্ধ থাকবে। এরপর সীমান্ত খুলে দেওয়া হতে পারে। গতকাল পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

করোনার ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা রোধে গত ২৬ এপ্রিল ভারতের সঙ্গে প্রথম দফায় সব স্থলসীমান্ত বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর আরও কয়েক দফায় সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ আরও এক দফা বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর