বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

টানা তৃতীয় সিরিজ জয়ে ইতিহাস টাইগারদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টানা তৃতীয় সিরিজ জয়ে ইতিহাস টাইগারদের

উইকেট পতনের পর উল্লাস টাইগার শিবিরে -রোহেত রাজীব

জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়ার পর নিউজিল্যান্ড। টানা তিন সিরিজ জয়। নিজেদের টি-২০ ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম বাংলাদেশ টানা তিনটি সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়ল। এই প্রথম নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতল টাইগাররা। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষটি আগামীকাল। গতকাল চতুর্থ ম্যাচে টম লাথামের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে টাইগাররা অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং ম্যাচসেরা নাসুমের ঘূর্ণি ও ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজের বিধ্বংসী বোলিংয়ে। টানা তিন সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ র‌্যাঙ্কিংয়ে পেছনে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২৪২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ৬ নম্বরে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২-১, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ এবং পাঁচ ম্যাচ সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে মাহমুদুল্লাহ বাহিনী। টানা তিন সিরিজ জিতে মাহমুদুল্লাহ এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টি-২০ অধিনায়ক। ২৬ ম্যাচে তার অধিনায়কত্বে জয় ১৩টি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় ছিল ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। ব্ল্যাক ক্যাপসদের মাত্র ৬০ রানে গুটিয়ে  দিয়েছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে ১৪১ রান করেও জয় পেতে ঘাম ঝরেছিল মাহমুদুল্লাহদের। ৪ রানের কষ্টার্জিত জয়ে সিরিজ জেতার পথে এগিয়েছিল। তৃতীয় ম্যাচে পুরোপুরি ‘ইউটার্ন’ পারফরম্যান্স কিউইদের। জিতে নেয় ৫২ রানে। ফলে জমে উঠে সিরিজ। গতকালের ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের এবং ব্ল্যাক ক্যাপসদের সমতা আনার। এমন সমীকরণের ম্যাচে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামে টাইগাররা। মিরপুরের ধীরলয়ের উইকেটে বরাবরের মতোই ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস উঠেছে গতকালও। দুই টাইগার বোলার নাসুম ও মুস্তাফিজের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে ১৯.৩ ওভারে ৯৩ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ম্যাচসেরা নাসুম প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন। ১২ নম্বর ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে জোড়া আঘাত হেনে হ্যাটট্রিকের আশাও জগিয়েছিলেন। কিন্তু হয়নি। ৪ ওভার স্পেলে বিস্ময়করভাবে দুটি মেডেন নেন নাসুম। যা টি-২০ ক্রিকেটে বিরল। নাসুমের ম্যাচসেরা স্পেল ৪-২-১০-৪। ১৩ ম্যাচ ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ৪ উইকেট নিয়েছিলেন ১৯ রানের খরচে। গত ম্যাচের মতো ব্যর্থ ছিলেন সাকিবও। অথচ একটি উইকেট পেলেই সাকিব স্পর্শ করতেন ল্যাসিথ মালিঙ্গাকে। ২ উইকেটে পেলে টপকে এককভাবে টি-২০ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হতেন। কিন্তু হয়েও হচ্ছে না। নাসুমের সাফল্যের দিনে উজ্জ্বল ছিলেন মুস্তাফিজও। ৩.৩ ওভারের স্পেলে ১২ রানের খরচে নিয়েছেন ৪ উইকেট। এর মধ্যে ১৬ নম্বর ওভারের শেষ বলে ম্যাককঞ্চিকে ফিরতি ক্যাচে সাজঘরে ফেরান। যা ছিল দুর্দান্ত এক ক্যাচ। টার্গেট ৯৪। ওভার প্রতি ৪.৭ টার্গেটে দুই ওপেনার নাঈম ও লিটন মাত্র ৮ রানের ভীত দেন। এজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণিতে এক পর্যায়ে ৩২ রানে লিটন, সাকিব ও মুশফিককে হারিয়ে কোণঠাসা টাইগাররা। চতুর্থ উইকেট জুটিতে নাঈম ও মাহমুদুল্লাহ ৩৫ রান যোগ করে জয়ের পথে টেনে তুলেন। নাঈম রান আউটের শিকার হলেও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে। ৪৮ বলের ইনিংসটিতে ছিল ১টি চার ও ২টি ছক্কা। চারটিই ছিল উইনিং শট।