শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

বিএনপির মধ্যম সারির নেতারা চান যুগপৎ আন্দোলন

রুদ্ধদ্বার সিরিজ বৈঠকের দ্বিতীয় দিন

মাহমুদ আজহার

সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন চান বিএনপির মধ্যম সারির নেতারা। গতকাল বিকালে দলের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নেতারা এ দাবি করেন। বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার আদায়ে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা। বিএনপির হাইকমান্ডকে নেতারা বলেন, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কখনোই সুষ্ঠু ভোট হতে পারে না। তাই নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে নিরপেক্ষ সরকার দাবি আদায় করতে হবে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিকাল ৪টায় এই বৈঠক শুরু হয়। যুক্তরাজ্য থেকে স্কাইপির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের মূলমঞ্চে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল ঠিক করতে ধারাবাহিক বৈঠকের প্রথমদিন গত মঙ্গলবার দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের মতামত নেওয়া হয়। সাড়ে ৪ ঘণ্টার ওই বৈঠকে ২৮ জন নেতা তাদের মতামত দেন। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে তিন দিনের ধারাবাহিক বৈঠক শেষ হবে। সূত্রমতে, বৈঠকে অংশ নেওয়া অধিকাংশ নেতাই হাইকমান্ডকে জানান, দলকে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। তারা মনে করেন, এই দাবি আদায়ে কোনো রকম ছাড় দেওয়া যাবে না। সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। আন্দোলনে নামার আগে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের মাঝে একটি আত্মিক বন্ধন গড়ে তুলতে হবে। দেশের কোথাও কোনো নেতা-কর্মী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকারের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হলে একযোগে প্রতিবাদে ফেটে পড়তে হবে। দলকে শক্তিশালী করতে বিএনপি এবং তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ে যোগ্য ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কমিটিতে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। প্রতিটি কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে হবে।

জানা যায়, মধ্যম সারির নেতারা বলেন, যুবদল, স্বেছাসেবক দল, ছাত্রদল ও মহিলা দলকে সক্রিয় রাখতে পুনর্গঠন করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিকে জনগণের দাবিতে পরিণত করতে ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে অটুট রেখে ডান-বামসহ সরকার বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পেশাজীবীসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। জোটগত এবং যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অটুট রেখে বৃহত্তর ঐক্য কীভাবে সৃষ্টি করা যায়-তা নিয়ে এখনই কাজ শুরু করে দিতে হবে। সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএনপির জলবায়ু বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অথবা দলীয় কোনো সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই। আর আন্দোলনের জন্য দল এবং সংগঠনকে গোছাতে হবে। দল এবং অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠনের কাজ শেষ করে সর্বশক্তি নিয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে নামতে হবে। আবার যেসব রাজনৈতিক দল নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়, ভোটের অধিকার চায় তাদেরসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোক নিয়ে এক প্ল্যাটফরমে অথবা যুগপৎভাবে আন্দোলনে নামতে হবে।

আরেক নেতা বলেন, দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে বিগত সময়ে যে যে পর্যায়ে ফেল করেছে তাদের জবাবদিহিতায় আনতে হবে। বিএনপির সাবেক যেসব এমপি, মন্ত্রী বা নেতা আন্দোলন-সংগ্রামে সামিল হয়নি, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর নেননি তাদেরকে প্রয়োজনে অব্যাহতি দেওয়া হোক। সেক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাদের যোগ্য স্থানে জায়গা করে দেওয়া জরুরি। গতকাল দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে দলের যুগ্ম মহাসচিব-সাংগঠনিক সম্পাদক-সহ সম্পাদক মিলে ৯৫ জন অংশ নেন। এদের মধ্যে রয়েছেন- যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন অর রশীদ, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মাহবুবের রহমান শামীম, বিলকিস জাহান শিরিন, আসাদুল হাবিব দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, ডা. সাওয়াত হাসান জীবন, মোস্তাক মিয়া, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সম্পাদকদের মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শিরিন সুলতানা, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, লুৎফুর রহমান কাজল, আনিসুজ্জামান খান বাবু, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, জয়নাল আবেদীন, নূরী আরা সাফা, ডা. রফিকুল ইসলাম, খালেদ মাহবুব শামল, এ এম এ নাজিম উদ্দিন, সোহরাব উদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জিকে গাউস, গৌতম চক্রবর্তী, আবুল কালাম আজাদ, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, আসাদুজ্জামান আজাদ, মীর সরফত আলী প্রমুখ। সহ সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন- এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান, আমিরুল ইসলাম আলীম, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, রুমিন ফারহানা, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত নির্বাহী কমিটির বর্তমান সংখ্যা ৫০২। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এটি তারেক রহমানের প্রথম বৈঠক।