শিরোনাম
শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

ছুটির দিনেও সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আজ লাল কার্ড দেখানোর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপদ সড়কের দাবিতে গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও রাজধানীর রামপুরায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার দুপুর ১২টায় রামপুরা ব্রিজে সড়কে অনিয়মের প্রতিবাদে লাল কার্ড দেখানোর ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছেড়ে চলে যান তারা। এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী।

নিরাপদ সড়ক ও বাসে অর্ধেক ভাড়াসহ কয়েকটি দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত কয়েক দিন ধরে তারা রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরছেন। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ৩০ নভেম্বর রাজধানীতে শর্ত দিয়ে বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তবে শিক্ষার্থীরা মালিকদের শর্ত প্রত্যাখ্যান করে সারা দেশে অর্ধেক ভাড়া কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল বেলা ১১টায় খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, রামপুরা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পশ্চিম খিলগাঁও উচ্চবিদ্যালয়, ফয়েজুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউটসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রামপুরা ব্রিজের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। ফলে ছুটির দিনেও সড়কে যানজট দেখা দেয়। দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সরে গেলে ওই এলাকায় যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় তারা নিরাপদ সড়কসহ ১১ দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রী সোহাগী সামিয়া বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। সড়কের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা সড়কে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শনের কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেই চিন্তা মাথায় নিয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

রামপুরায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী পুলিশের বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার অভিযোগ করেছেন। রামপুরা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইমন হোসেন নামে ওই শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানান, তিনি রাইদা পরিবহনের একটি বাসের কাগজপত্র যাচাই করতে গেলে পুলিশ তাকে বাধা দেয়। পুলিশ তার গায়ে হাত তোলে। তার গলায় চাপ দিয়ে পুলিশ বলেছে- ‘রাস্তার পাশে চল, তোকে রিমান্ডে নেওয়া হবে’।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার্থীরা যে অভিযোগ করেছেন, তা সঠিক নয়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গত ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে বাসের ভাড়া ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ বাড়ানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ নভেম্বর অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যেই ২৯ নভেম্বর রাতে রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। এর আগে ২৪ নভেম্বর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন নটরডেম কলেজের এক ছাত্র। এরপর থেকে নানা দাবিতে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিচারের পাশাপাশি অন্যতম দাবি ছিল বাসভাড়া অর্ধেক করা। রামপুরায় গতকালকের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করতে রাজধানীর জুরাইন থেকে আসেন মিজানুর রহমান নামে এক অভিভাবক। তিনি জানান, তার তিন মেয়ে। দুজন অনার্স ও একজন স্কুলে পড়ে। সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে তিনি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

আদালতে সুপারভাইজার হেলপারের স্বীকারোক্তি : রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় নিহত একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়কে চাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন দুই আসামি। অনাবিল পরিবহনের সুপারভাইজার গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চান মিয়া গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দি দেন। এর আগে ১ ডিসেম্বর এ দুই আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই মোহাম্মদ আল আমিন মীর। এ সময় সড়ক পরিবহন আইনের মামলায় দুই আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন আদালতসূত্র।

জানা গেছে, বাসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় শহীদ বেপারী নামে এক আসামির আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে একই আদালত। এক দিনের রিমান্ড শেষে শহীদ বেপারীকে গতকাল আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই তৌহিদুল ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, ২৯ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে রামপুরায় অনাবিল সুপার পরিবহনের বাসের চাপায় মাইনুদ্দিন নিহত হন। এ ঘটনায় রাতে সড়ক অবরোধ করে উত্তেজিত জনতা। এ সময় অভিযুক্তটিসহ আটটি বাসে আগুন ও চারটি ভাঙচুর করা হয়। মাইনুদ্দিন নিহতের ঘটনায় তার মা রাশিদা বেগম রামপুরা থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। আর আটটি বাসে আগুন ও চারটিতে ভাঙচুর করায় পৃথক মামলা করে রামপুরা থানা পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাত ৫ শতাধিক মানুষকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে একই ঘটনায় হাতিরঝিল থানায়ও আরেকটি মামলা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর