সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ টা

কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ শ্রীলঙ্কায় বন্ধ সব সামাজিক মাধ্যম

প্রতিদিন ডেস্ক

শ্রীলঙ্কায় কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নামা শুরু করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। গতকাল জরুরি অবস্থা ও কারফিউয়ের মধ্যেই বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমে আসেন বিরোধী দলের শতাধিক আইনপ্রণেতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সারা দেশে সেনা মোতায়ানে করেছে। বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, টুইটার, আইএমও, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। চলছে ঢালাও গ্রেফতার অভিযান। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি।

খবরে বলা হয়, গতকাল বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নামেন বিরোধী দলের শতাধিক আইনপ্রণেতা। তারা বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসার বাড়ির সামনে থেকে মিছিল নিয়ে রাজধানীর ইন্ডিপেনডেন্স স্কয়ার অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সেনা সদস্যরা তাদের থামিয়ে দেন। এখানে বিক্ষোভ সমাবেশে এসজেবির আইনপ্রণেতা হর্ষ দে সিলভা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের বোঝা উচিত, তার কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণ ক্ষুব্ধ।’ ফেলো এসজেবি আইনপ্রণেতা ইরান বিক্রমারতেœ বলেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সামরিক আইন জারির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দখল করতে দিতে পারি না। তাদের জানা উচিত, আমরা এখনো একটি গণতান্ত্রিক দেশ।’ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, রাজধানী কলম্বোর বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় গতকাল বিপুল সেনা উপস্থিতি দেখা গেছে। ইন্ডিপেনডেন্স স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে বিক্ষুব্ধ মানুষ কারফিউ ও জরুরি অবস্থা প্রত্যাখ্যান করে রাস্তায় নামেন। এ সময় অনেককে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চালিয়েও লোকজনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এদিকে শ্রীলঙ্কার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন বলেছে, ‘গতকাল থেকেই ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইউটিউব,  হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, টুইটার, আইএমও, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটক বন্ধ থাকবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।’ জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ ঘোষণার পরপরই ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান পদত্যাগ করেছেন। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হওয়ার পর ৭৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকট পার করছে শ্রীলঙ্কা। ২ কোটি ২০ লাখ অধিবাসীর দেশ শ্রীলঙ্কা প্রচ- অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিরও ক্ষমতা হারিয়েছে দেশটি। মারাত্মক অর্থনৈতিক ও জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে। হাজারো মানুষ ফিলিং স্টেশনের সামনে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। মুদ্রা বিনিময় সংকটের কারণে আমদানি বিধিনিষেধ থাকায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভ দমনে গত শনিবার পুরোদমে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে তাদের দেওয়া হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা। শনিবার থেকেই কারফিউ ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। তিনি বলেন, ‘সড়ক, রেলপথ, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র কিংবা অন্য জনসমাগমস্থল ও সমুদ্রতীরে কারও উপস্থিতি ঘটতে দেওয়া হবে না।’ এক খবরে বলা হয়, কারফিউ ভাঙার অভিযোগে গতকাল ৬৬০ জনের বেশি লোককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও সেনারা।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর