শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ টা

সুইস ব্যাংকে জমা অর্থ নিয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির তথ্য চায়নি বাংলাদেশ

সুইস রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুইস ব্যাংকে জমা অর্থ নিয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির তথ্য চায়নি বাংলাদেশ

ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাতালি চুয়ার্ড বলেছেন, সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জমা করা অর্থের  বেশির ভাগ অবৈধ পথে আয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত সুইস ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষের কাছে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য চায়নি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টকে’ এ কথা জানান তিনি। বাংলাদেশ-সুইজারল্যান্ড বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন রাষ্ট্রদূত নাতালি চুয়ার্ড। তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক বা এসএনবির ২০২২ সালের জুন মাসে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরে বাংলাদেশিরা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা করেছেন। বাংলাদেশিরা কত টাকা জমা  রেখেছেন ওই তথ্য প্রতি বছর সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক দেয়, তবে ওই অর্থ অবৈধ পথে আয় করা হয়েছে কি না, এটি আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তথ্য পেতে হলে কী করতে হবে,  সে সম্পর্কে আমরা সরকারকে জানিয়েছি, কিন্তু আলাদাভাবে অর্থ জমা করার বিষয়ে কোনো অনুরোধ আসেনি। আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এ ধরনের তথ্য  কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময়ের জন্য আমাদের কিছু নিয়ম এবং চুক্তি আছে। দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া বের করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পারি। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সাল শেষে সেখানকার ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রা, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সুইজারল্যান্ডের আইনে ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকের তথ্য প্রকাশে বাধ্য নয়। টাকার উৎসও তারা জানতে চায় না। এ কারণে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমা রাখায় আগ্রহ ধনীদের। তবে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে কোন দেশের গ্রাহকের কী পরিমাণ অর্থ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা আছে, তার একটি ধারণা প্রকাশ করা হয় প্রতি বছর। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের বাধ্যবাধকতা মেনে ওই তথ্য প্রকাশ করা হলেও সেখানে গ্রাহকের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকে না। অভিযোগ রয়েছে, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের যে টাকা জমা রয়েছে, তার  বেশির ভাগটাই অবৈধভাবে উপার্জিত এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে।  দেশে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতির পেছনে ‘এলসির আড়ালে টাকা পাচার’ একটি কারণ হতে পারে বলে সম্প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তথ্য গোপন রেখে সুইজারল্যান্ড অবৈধ অর্থ জমা করার বিষয়টিতে উৎসাহিত করছে কি না এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত নাতালি চুয়ার্ড বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে এটা উৎসাহিত করি না। সুইস ব্যাংকিং ব্যবস্থার খ্যাতি বিশ্বব্যাপী। এটা অনেক বড় ব্যাপার। এটা আমাদের দেশের জিডিপির ১০ শতাংশের মতো। সুতরাং এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ খবর