শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ আগস্ট, ২০২০ ১৩:০৮
আপডেট : ৬ আগস্ট, ২০২০ ১৫:৫০

দীর্ঘক্ষণ গরমে রেখেও যে শিশুর শরীর থেকে ঘাম ঝরাতে পারলেন না ডাক্তাররা!

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘক্ষণ গরমে রেখেও যে শিশুর শরীর থেকে ঘাম ঝরাতে পারলেন না ডাক্তাররা!

এখনও মুখে কথা ফোটেনি ভাল করে। হামাগুড়ি দিয়েই বাথরুমে চলে যায় একা। গামলা থেকে মগে করে পানি নিয়ে ঢালতে শুরু করে। এক দু’বার নয়। দশ-বারো বার। সারাক্ষণ গা ভিজিয়ে না রাখলে থাকতে পারে না এই ছোট্ট শিশু। কারণ, ভারতের পশ্চিম মেদিনীপুরের নোনা নারায়ণচকের তিন বছরের তুষার দাস এক বিরল অসুখে আক্রান্ত।

জানা গেছে, জন্মের পরই মৃত্যু হয়েছে ওই শিশুর মায়ের। ফুফুর কোলেপিঠেই বড় হচ্ছে। একরত্তি ভাতিজার অদ্ভুতুরে কাণ্ড দেখে হতবাক তিনি। তার কথায়, “সামান্য গরম পড়লেই অদ্ভুত আচরণ করে তুষার। বাথরুমে গিয়ে এক বালতি পানিতে নেমে দাঁড়িয়ে থাকে।” 

গ্রীষ্মকাল এলেই মাথায় হাত। দুপুর হলেই প্রচণ্ড জ্বর ওঠে তার শরীরে। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত এই জ্বর থাকে। 

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিশান্তদেব ঘটকের কাছে যায় শিশুটির পরিবার। জ্বরের সময় শুনে প্রথমটায় হতবাক হয়ে পড়েন চিকিৎসকও। তার কথায়, “আমার কাছে যখন আনা হয় তার আগে টানা তিন মাস ধরে ওর জ্বর ছিল। জ্বরের স্থায়িত্বকালের সময়টা শুনেই আমার সন্দেহ হয়। শুধু দিনেরবেলা কেন? তবে কি শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে?” 

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে কিছু পরীক্ষার দরকার ছিল। তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে আরজিকর মেডিকেল কলেজে পাঠান তিনি। সেখানেই চিকিৎসকরা প্রথমে স্টার্চ আয়োডিন টেস্ট করেন। সারা গায়ে আটা আর আয়োডিন মাখিয়ে দীর্ঘক্ষণ গরমে রেখে দেওয়া হয় বাচ্চাটিকে। দীর্ঘক্ষণ গরমে থাকলেই লোমকূপ থেকে ঘাম বেরিয়ে আসবে। আয়োডিন ঘামের সংস্পর্শে আসলেই বেগুনি রং নেবে। কিন্তু তুষারকে বসিয়ে রেখে লাভ হয়নি। ছিটেফোঁটা ঘাম বের হয়নি শরীর থেকে। ঘর্মগ্রন্থি না থাকার প্রাথমিক প্রমাণে সিলমোহর পড়ে। 

এরপর ত্বকের বায়োপসি করতেই পরিষ্কার হয়ে যায় বিষয়টি। বিরলতম অসুখ ‘এনহাইড্রোসিসে’ আক্রান্ত ওই শিশু। জিনঘটিত অসুখ। 

ডা. ঘটক জানিয়েছেন, অ্যাক্রাইন গ্ল্যান্ড নেই। তাই ঘাম বের হতে পারছিল না বলেই শরীর ভেতর থেকে গরম হয়ে যাচ্ছিল। এই জন্যই শুধু দিনের বেলা জ্বর আসছিল। 

পরিবারের লোকেদের জানানো হয়, এটি জিনঘটিত বিরল অসুখ। স্কিন বায়োপসিতে ধরা পড়ে শিশুটির সিবেসিয়াস গ্ল্যান্ডও নেই। এই গ্রন্থি থেকে একধরনের তৈলাক্ত তরল পদার্থ বের হয়, যা ত্বককে কোমল রাখে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, এ কারণেই তুষারের চামড়া খসখসে হয়ে গেছে।

সাধারণত জিনঘটিত এমন অসুখে অন্যান্য উপসর্গও দেখা যায়। অনেক সময় বয়সের সঙ্গে মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশ ঘটে না। কারও কারও ব্যথার অনুভূতি থাকে না। কিন্তু তুষারের এসব কিছুই নেই। শুধু ঘাম হয় না এতটুকু। তবে কি এটা আইসোলেটেড এনহাইড্রোসিস? 

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তা যদি হয় তবে এটি বিরলের মধ্যে বিরলতম। পৃথিবীতে আইসোলেটেড এনহাইড্রোসিস নিয়ে চার, পাঁচজন বাচ্চার খোঁজ মিলেছে। 

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিশান্তদেব ঘটকের কথায়, “গরমকালে বাচ্চাটিকে রাখা অসম্ভব। কারণ গরমে আমাদের ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঘাম বেরিয়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখে। এই প্রক্রিয়া কাজই করছে না। পরামর্শ দিয়েছি যে করে হোক ওর জন্যে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবস্থা করতে হবে।”

নিম্নবিত্ত পরিবার কিনে উঠতে পারেনি এসি। শিশুটির ফুফু জানিয়েছেন, দুটো টেবিল ফ্যান সব সময় ওর মাথার কাছে রাখতে হয়। গরম একটুও সহ্য করতে পারে না। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর