শিরোনাম
৫ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৯:০১

হামাস যোদ্ধা ভেবে ইসরায়েলিকে গুলি, সেই সেনা সদস্য গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক

হামাস যোদ্ধা ভেবে ইসরায়েলিকে গুলি, সেই সেনা সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ সার্জেন্ট অ্যাভিয়াদ ফ্রিজা

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধা মনে করে এক ইসরায়েলি ইহুদিকে গুলি করেছিল দেশটির এক সেনা সদস্য। এতে ঘটনাস্থলেই দাপাতে দাপাতে প্রাণ যায় তার। নিহতের ইসরায়েলির নাম ইয়োভাল দোরোন ক্যাসেলম্যান।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই সেনা সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলের মিলিটারি পুলিশ। তার নাম স্টাফ সার্জেন্ট অ্যাভিয়াদ ফ্রিজা। তিনি ছিলেন একজন রিজার্ভ সৈনিক।

তাকে গ্রেফতার করে ওই ঘটনা নিয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’। 

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দখলকৃত জেরুজালেমের একটি বাস স্টপেজে ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় ফিলিস্তিন প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের দুই যোদ্ধা।

জেরুজালেমের ওই হামলার সময় গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন ইয়োভাল দোরোন ক্যাসেলম্যান নামের ওই ইসরায়েলি। তিনি তখন গাড়ি থেকে নেমে হামাসের ওই দুই যোদ্ধার ওপর নিজের হ্যান্ডগান দিয়ে গুলি ছোড়া শুরু করেন। ওই সময় সেখানে উপস্থিত হন দুই সেনা সদস্য। তারা ইয়োভাল দোরেনকে হামাসের সদস্য মনে করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই দাপাতে দাপাতে প্রাণ যায় ইয়োভাল দোরেনের।

সেদিনের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ইয়োভাল দোরেন বুঝতে পারেন তাকে সেনারা হামাসের সদস্য ভেবে গুলি করতে পারেন। তাই তিনি তৎক্ষণাৎ নিজের দুই হাত ওপরে তুলে ফেলেন। এছাড়া নিজের জ্যাকেট খুলে দেখান তার শরীরে কোনও বিস্ফোরক নেই। এছাড়া তিনি চেঁচিয়ে বলতে থাকেন ‘আমি ইহুদি, আমি ইসরায়েলি; আমাকে গুলি করবেন না।’ এমন আর্তনাদের পরও তাকে গুলি করেন স্টাফ সার্জেন্ট অ্যাভিয়াদ ফ্রিজা।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যদিও প্রথমে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছিল, তারা এ ঘটনার তদন্ত করবে না। কিন্তু সাধারণ ইসরায়েলিদের চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয় তারা।

জেরুজালেমে বৃহস্পতিবারের সেই হামলায় চার ইসরায়েলি ও দুই হামলাকারী নিহত হন।

সেনাদের ভুলে নিহত ওই ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, এমন দুঃখজনক ঘটনায় তাদের প্রিয়জন নিহত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এ বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে সোমবার ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট তার বাড়িতে যান। পরবর্তীতে ওই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, সিএনএন

বিডি প্রতিদিন/আজাদ

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর