ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পেছনে কারণ হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো অভিযোগ করেছেন—ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে আসা ডলার ব্যবহার করে রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কিনছে এবং তা শোধন করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, নাভারোর দাবি—এইভাবে রাশিয়া বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে, যা ব্যয় হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধে। তাঁর মতে, তাই ভারতীয় পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ একেবারেই ন্যায্য পদক্ষেপ।
নাভারোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল ১ শতাংশেরও কম। কিন্তু যুদ্ধের পর এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশে। নাভারোর অভিযোগ, ভারত শুধু নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে নয়, বরং সস্তায় রুশ তেল কিনে চড়া দামে বিক্রি করার লোভেই আমদানি বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত এখন কার্যত রাশিয়ার তেল শোধনাগার। প্রতিদিন দেশটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি শোধিত পেট্রোলিয়াম রপ্তানি করছে, যা মূলত রাশিয়া থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের অর্ধেকেরও বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গ টেনে নাভারো বলেন, “আমরা ইউক্রেনকে অস্ত্র দিই, আর ভারত রাশিয়াকে ব্যাংকরোল করে। ভারতীয় উচ্চ শুল্ক আমাদের রপ্তানিকারকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি এখন ৫০ বিলিয়ন ডলার।”
গত বুধবার ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাভারো আরও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এটা শুধু পুতিনের যুদ্ধ নয়, এটা মোদির যুদ্ধ।” তাঁর দাবি অনুযায়ী, ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা সরাসরি মস্কোর যুদ্ধযন্ত্রকে শক্তিশালী করছে, অথচ এর খেসারত দিতে হচ্ছে আমেরিকার ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের।
ভারত অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির যুক্তি, ১.৪ বিলিয়ন মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যেখানে সবচেয়ে সস্তায় তেল পাবে, সেখান থেকেই কিনবে এবং রাশিয়া থেকেও কেনা অব্যাহত থাকবে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক