শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৫

মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর গড়েই ছাড়ব

স্টেট অব দি ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প

মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর গড়েই ছাড়ব

সংসদের উভয় কক্ষে বার্ষিক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে অনেক বিষয় তুলে ধরেছেন। সীমান্তে প্রাচীর গড়ার প্রশ্নে এখনো অটল রয়েছেন তিনি। ট্রাম্প মঙ্গলবার তার ‘স্টেট অব দি ইউনিয়ন’ ভাষণে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে কী বলতে চলেছেন, আগেই তার কিছুটা আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। তার মধ্যে বেশ কিছু বিষয় সত্যি কংগ্রেসের দুই কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ৮২ মিনিটের ভাষণে উঠে এসেছে। ট্রাম্প বলেন, যেমন মেক্সিকো সীমান্তে তিনি প্রাচীর গড়ে তোলার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা তার অর্থায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করা সত্ত্বেও তিনি এই প্রাচীর নির্মাণের অঙ্গীকার করেন। বেআইনি অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার রুখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এই সমস্যা জরুরি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। এখনই জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করলেও আগামী ১৫ ফেব্র“য়ারির মধ্যে তিনি দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য অর্জনের ডাক দেন। তা সম্ভব না হলে তিনি এই প্রাচীর নির্মাণ করেই ছাড়বেন বলে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। ট্রাম্প বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যেভাবে তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হচ্ছে, এর ফলে মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি হবে।

ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, ‘তার এ ভাষণ রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য নয়। এই ভাষণ মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে। কেননা, যুক্তরাষ্ট্র দুই দলের নয়, বরং এক জাতি হিসেবে পরিচালিত হবে। তার ভাষায়, ‘কোনো দলের জন্য জেতাটা বিজয় নয়, দেশের জন্য বিজয় হচ্ছে প্রকৃত বিজয়।’ ভাষণ চলাকালে কংগ্রেসে উপস্থিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তিন যোদ্ধাকে পরিচয় করিয়ে দেন ট্রাম্প। ৫০ বছর আগে চাঁদে অবতরণকারী নভোচারী বাজ অলড্রিনকেও পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিজের প্রশাসনের সাফল্যও তুলে ধরেন ট্রাম্প। গত ৫ দশকে বেকারত্বের সর্বনিম্ন হারের কৃতিত্ব দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে উৎপাদন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখার কোনো উদ্যোগ সম্পর্কে ট্রাম্প কিছু বলেননি। পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও ট্রাম্প কিছু সাফল্য ও পরিকল্পনার ঘোষণা করেন। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের অভাব সত্ত্বেও তিনি আগামী ২৭ ও ২৮ ফেব্র“য়ারি ভিয়েতনামে সে দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, চীন প্রকৃত কাঠামোগত পরিবর্তনে রাজি হলে সে দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্ভব। সে ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের অবসান ঘটবে। আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে বোঝাপড়ার উদ্যোগেরও উল্লেখ করেন তিনি। এএফপি

সেটা সম্ভব হলে অনেক মার্কিন সৈন্যকে দেশে ফেরানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাফল্যের ফলে সেই অঞ্চল থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, ‘মহান দেশগুলো কখনো অনন্তকাল ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যায় না।’

বলাবাহুল্য, বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক দল প্রেসিডেন্টের ভাষণের বেশির ভাগ বিষয় মেনে নিতে নারাজ। বিশেষ করে প্রাচীর তৈরির প্রয়োজনীয়তা মানতে তারা নারাজ।


আপনার মন্তব্য