শিরোনাম
শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

নেপালে রাজতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ

নেপালে রাজতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ

নেপালের মানুষ আবার রাজতন্ত্র চায়। ১৫ বছর আগে যে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে গণতন্ত্র চালু হয় সেটি আর তারা চায় না। এই দাবিতে গতকাল কাঠমান্ডুতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করেছে।

বিক্ষোভকারীরা এই আন্দোলনের নাম দিয়েছে, ‘নাগরিকদের প্রচারাভিযান’ বিক্ষোভকারীরা বলছেন যে রাজতন্ত্র বাতিল হওয়ার পর থেকে মাওবাদী বিদ্রোহের অবসান ঘটানো চুক্তির অংশ হিসেবে সরকারগুলো বিশ্বের অন্যতম দরিদ্রতম দেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, বিক্ষোভকারীরা নেপালের সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্রর সমর্থক। এ সময় তারা নেপালকে হিন্দু রাষ্ট্রের মর্যাদাও ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা। বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে এমন বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এতে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পতাকা দোলাতে থাকেন। সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্রপন্থি স্লোগান দিতে থাকেন। তারা কাঠমান্ডুর পাশেই সমবেত হন। চেষ্টা করেন শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে প্রবেশের। কিন্তু দাঙ্গা পুলিশ তাদেরকে আটকে দেয়। বাঁশের লাঠি প্রয়োগ করে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছে। এই র‌্যালির আগে থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ। তা সত্ত্বেও বিক্ষোভ থেকে স্লোগান দেওয়া হয়- আমাদের জীবনের চেয়ে রাজা ও দেশকে বেশি ভালোবাসি। রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আন। প্রজাতন্ত্র বাতিল কর।

২০০৬ সালে কয়েক সপ্তাহে রাজপথে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তখনকার রাজা জ্ঞানেন্দ্র কর্তৃত্ববাদী রাজতন্ত্র বাতিল করতে বাধ্য হন। দেশে প্রচলন করেন গণতন্ত্র। দুই বছর পরে দেশটিতে একটি নির্বাচিত পার্লামেন্ট আসে। তারাই ভোটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৮ সালে রাজতন্ত্রকে বিলুপ্ত   করেন এবং নেপালকে একটি প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন। এর প্রধান করা হয় প্রেসিডেন্টকে। তখন থেকেই  সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র বসবাস করছেন একজন সাধারণ নাগরিকের মতো। তার কোনো ক্ষমতা নেই। কোনো নিরাপত্তা নেই। তবু জনগণের মধ্যে এখনো তার কিছু সমর্থন আছে। কিন্তু সেই সমর্থনকে পুঁজি করে     ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ নেই বললেই চলে। আবার দেশকে সেই রাজতন্ত্রে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য   সারাদেশে তার সমর্থকরা গতকাল সমবেত হন। সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে দুর্নীতি এবং ব্যর্থ প্রশাসন বলে অভিযুক্ত করেন তারা।

সর্বশেষ খবর