শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:৩৮
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:০০
প্রিন্ট করুন printer

বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মমতা বললেন, 'খেলা হবে'

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মমতা বললেন, 'খেলা হবে'
মমতা ব্যানার্জি

অমর একুশের মঞ্চ থেকে ভারতের কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে নিশানা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বিজেপিকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বললেন ‘...খেলা হবে।' কিন্তু খেলা শেষে তাকে যদি কারাগারেও প্রেরণ করা হয়, তবে কারাগার থেকেই বঙ্গবন্ধুর মতো ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেবেন তিনি।

রবিবার কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই মন্তব্য করেন মমতা ব্যানার্জি। সাম্প্রতিককালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতাসহ দলের সকলের মুখেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে। এমনকি নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমানের ‘খেলা হবে’ স্লোগানটিকেও এবারের নির্বাচনী প্রচারণার হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। আর দুইটি স্লোগান নিয়েই ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলকে বিরোধী বিজেপিও কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না। তাদের অভিযোগ আসলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান আমদানি করেই বাংলাকে `বাংলাদেশ' বানানোর চক্রান্ত করছে মমতার সরকার। আর সেই ইস্যুতেই পাল্টা বিরোধীদের নিশানা করতে ভাষা দিবসের মঞ্চকে বেছে নিলেন মমতা।
  
তিনি বলেন ‘আজ একুশ, তাই এই একুশেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি। দেখা যাক, কার জোর কতটা বেশি। একুশে খেলা হবে। আমি থাকবো গোল রক্ষক। এই খেলাতে কারা হারে, আর কারা জেতে আমি দেখতে চাই। আর তাতে যদি আমাকে যদি জেলেও পাঠায় তবে জেল থেকেই বঙ্গবন্ধুর মতো ডাক দেবো ‘জয় বাংলা, জয় হিন্দ, জয় বন্দেমাতারাম’। আমরা হারতে শিখিনি, হারাতে আমাদের পারবে না। ভাষা দিবসে এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’ 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন ‘এই দিনটা আমাদের কাছে কেবলমাত্র ঐতিহাসিকই নয়, আমাদের মনের আবেগের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’  
  
বাংলা ভাষার প্রতি শদ্ধা জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান বলেন ‘আমি বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি। তাই অন্য ভাষাকে অশ্রদ্ধা করি না। আমি বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি বলেই অন্য ভাষাকে সম্মান দেই। এটাই বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় গৌরব এবং ঐতিহ্য।’ 

ভাষা দিবসের মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনে বিলম্ব নিয়েও কেন্দ্র সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে মমতা বলেন ‘আমি বাংলা ভাষাকে ভালবাসি। কিন্তু আমি বাংলাকে ‘বঙ্গাল’ বলব কেন? বাংলা আমার মা। বাংলাকে আমরা বাংলা বলবো। আমরা বাংলা রাজ্যটাকে বাংলা করতে চেয়েছিলাম, কেন? আমাকে বলা হল হিন্দিতে আগে ‘বঙ্গাল’ বলা হতো। তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যখন আমাদের জানানো হলো যে সবটাই একনাম হবে, কোথাও বেঙ্গলও লেখা যাবে না। তখন আমরা বিধানসভায় নতুন নাম পাস করিয়ে ফের দিল্লিতে নাম পাঠালাম। ‘বাংলা’ নামটাই হিন্দি, ইংরেজি ও বাংলাতে পাঠানো হলো। কিন্তু কেনো জানিনা, চার বছর হয়ে গেল...বাংলা নামটা এখনও পর্যন্ত হয়ে উঠল না। যারা বাংলাকে সুড়সুড়ি দেয়, বাংলাকে নিয়ে গড়াগড়ি দেয়, বাংলাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেন তারা কিন্তু একবারও ভেবে দেখলেন না যে, বাংলা রাজ্যাটার নামটার সাথে ‘বাংলা’ শব্দটা ওতপ্রোত ভাবে মিশে আছে।’ 
 
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম ‘বাংলা প্রদেশ’ করার প্রস্তাব দিয়ে মমতার অভিমত ‘আজ যদি উড়িয়া নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ওড়িষা হতে পারে, মারাঠীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মহারাষ্ট্র হতে পারে, তবে কেন বাংলার নামে ‘বাংলা’ হবে না? কেউ যদি বলে যে ‘বাংলাদেশ’ আছে বলেই ‘বাংলা’ নাম দেওয়া যাবে না, কারণ এতে বাংলাদেশের মতো শোনাবে। তবে আমি বলব সেটা তো একটা দেশ। আমাদেরটা তো রাজ্য। তবে তো পাকিস্তানেও একটা প্রদেশ আছে, যার নাম পাঞ্জাব। সেক্ষেত্রে ভারতে পাঞ্জাব থাকল কি করে? আমরা তো ‘বাংলাদেশ’ বলছি না ‘বাংলা’ রাজ্য বলছি। ‘বাংলা প্রদেশ’ হতে পারে, সেখানে ‘দেশ’ বলার তো কোনো প্রয়োজন নেই। যেমন অন্ধপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ বা হিমাচল প্রদেশ আছে। ওদের মধ্য, নিম্ন বা ঊর্ধ্ব থাকলে হবে কিন্তু ‘বাংলা’ হলে হবে না।’ 

তার অভিযোগ ‘বাংলা রাজ্যের প্রতি বঞ্চনা হচ্ছে, একটা বিমাতৃসুলভ আচরণ দেখানো হচ্ছে। ওদের (বিজেপি) লক্ষ্য হল যদি বাংলার কেউ বড় হয়ে যায, তাকে নিচে টেনে নামানো। এমনকি এক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, রাজা রামমোহন রায়, রামকৃষ্ণ পরমহংসকেও রেয়াত করা হয়নি। এই জিনিস কেন হবে?’

মমতার হুঁশিয়ারি ‘আমি তো এমনও শুনেছি যে, দিল্লি­র কোন কোন নেতা বলছেন বাঙালির মেরুদন্ড কিভাবে ভেঙে দিতে হয়, আমরা জানি। আমি বলবো, একটু চেষ্টা করে দেখুন! আপনাদের ধমকানি চমকানি বা জেল দেখিয়ে আমাদের আর ভয় দেখাবেন না।’ 
তিনি আরো বলেন ‘আজকে ভাষা দিবসের দিন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে একটা কথা বলছি আমার দেহে যতক্ষণ প্রাণ থাকবে, আমি কোন ধমকানি চমকানি কে ভয় পাইনি, পাবো না। আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া অত সহজ নয। বাংলা আমার মাতৃভাষা। এই ভাষা আমার অলংকার। এই ভাষা আমাকে শিখিয়েছে, বীরের মতো, বাঘের বাচ্চার মত লড়বি। বাঘের বাচ্চা যেন বিড়াল-ইঁদুরকে দেখে ভয় না পায়।" 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:১৫
প্রিন্ট করুন printer

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা

কলকাতা প্রতিনিধি:

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা
সংগৃহীত ছবি

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচণের দিনক্ষণ ষোষণা দিল দেশটির নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভোট হবে আসাম, কেরালা তামিলনাড়ু ও একটি মাত্র কেন্দ্রীয় শাসিত রাজ্য পডুচেরিতে। আগামী মার্চ-এপ্রিল মাস জুড়ে চলবে এই নির্বাচন। ভোট শুরু হচ্ছে ২৭ মার্চ, চলবে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। গণনা আগামী ২ মে। 

শুক্রবার বিকালে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। 

পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ টি বিধানসভার আসনের জন্য মোট আট দফায় ভোট নেওয়া হবে। প্রথম দফার ভোট হবে ২৭ মার্চ (৩০ আসন), দ্বিতীয় দফা ১ এপ্রিল (৩০ আসন), তৃতীয় দফায় ৬ এপ্রিল (৩১ আসন), চতুর্থ দফায় ১০ এপ্রিল (৪৪ আসন), পঞ্চম দফায় ১৭ এপ্রিল (৪৫ আসন), ষষ্ট দফায় ২১ এপ্রিল (৪৩ আসন), সপ্তম দফায় ২৬ এপ্রিল (৩৬ আসন), অষ্টম দফায় ২৯ এপ্রিল (৩৫ আসন) এ ভোট নেওয়া হবে।

আসামে ১২৬ বিধানসভার আসনের জন্য ভোট নেওয়া হবে তিন দফায়। প্রথম দফার ভোট ২৭ মার্চ, দ্বিতীয় দফা ১ এপ্রিল, তৃতীয় দফা ৬ এপ্রিল।

তামিলনাড়ু (২৩৪), কেরালা (১৪০) ও কেন্দ্রীয় শাসিত রাজ্য পডুচেরিতে (৩০) একটি মাত্র দফায় আগামী ৬ এপ্রিল ভোট নেওয়া হবে। 

নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সাথে সাথেই রাজ্যে নির্বাচনী আচরণ বিধি চালু হয়ে গেল। 
দেশজুড়ে কোভিড-১৯ অতিমারির মধ্যেই সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই গত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বিহারেও বিধানসভার নির্বাচন হয়েছিল। ঠিক একইরকম স্বাস্থ্য বিধি অবলম্বন করা হবে দেশটির পাঁচটি রাজ্যের আসন্ন বিধানসভার নির্বাচনেও। 

নির্বাচন কমিশনার জানান ‘করোনাকালে ভোট, তাই কমিশন সদা সতর্ক আছে। নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় জোর দেওয়া হবে।’ বিহারের মতোই পশ্চিমবঙ্গসহ অন্য রাজ্যগুলিতে ভোটগ্রহণের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নির্বাচনী প্রার্থীসহ সর্বোচ্চ পাঁচ জন ব্যক্তি প্রচারণা করতে পারবেন। এবার অনলাইনের মাধ্যমেও প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারবেন। 

তবে এবারের নির্বাচনে গোটা দেশের নজর থাকবে বাংলার দিকে। দুই বারের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জিকে এবার প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপির বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করতে হবে। সেই সাথে সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতারা বা দলের একাংশের বিরুদ্ধে যেভাবে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে- মমতা একা তা কিভাবে সামাল দেয় সেটাও দেখার। সেই সাথে রয়েছে বাম-কংগ্রেস জোট। 

গত ২০১৯ সালের লোকসভার নির্বাচনে রাজ্যের ৪২ টি আসনের মধ্যে ১৮ টি আসনে জয় পায় গেরুয়া শিবির। এপর দিন যত এগিয়েছে এরাজ্যে বিজেপির শক্তি ততই বেড়েছে। রাজ্যে ২০০ টির বেশি আসন পেয়ে বিজেপি সরকার গড়বে বলেও বিভিন্ন সভা-মিছিল থেকে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিজেপির শীর্ষ স্তরের নেতৃত্ব। আর সেলক্ষ্যে বাংলা জয়ের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের নেতা-কর্মীদের। 

পাশাপাশি সহিংসতা এড়িয়ে বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন করাটাও রীতিমতো চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে চলে এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটারদের মধ্যে থেকে ভয়ের পরিবেশ দূর করতে একাধিক জায়গায় রুট মার্চ করেছে তারা। 

তামিলনাড়ুতে লড়াই হবে মূলত ক্ষমতাসীন দল এআইএডিএমকে ও বিরোধী দল ডিএমকে’এর মধ্যে। পাশাপাশি প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার বন্ধু শশীকলা ও অভিনেতা কমল হাসানও এক্স-ফ্যাক্টর হতে পারে এই নির্বাচনে। 

অন্যদিকে আসামে দ্বিতীয় বারের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি। যদিও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি), সংশোধিত নাগরিকত্ব (সিএএ) ইস্যুতে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে ক্ষমতাসীন দল। 

একমাত্র পডুচেরিতে কংগ্রেসের সরকার ক্ষমতায় থাকলেও চলতি সপ্তাহেই দলের একাধিক বিধায়ক ইস্তফা দেওয়ায় সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় আস্থা ভোট প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কিন্তু আস্থা ভোটের আগেই ইস্তফা দেয় ভি. নারায়ণস্বামীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। বর্তমানে পডুচেরিতে রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে। 

অন্যদিকে কেরালায় প্রতিটি নির্বাচনেই লড়াই মূলত সীমাবদ্ধ থাকে বাম নেতৃত্বাধীন জোট (এলডিএফ) ও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট (ইউডিএফ)-এর মধ্যে। এবং রাজ্যের ভোটাররা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সেখানে সরকার বদল ঘটিয়ে আসছেন। 

আগামী ৪ মে থেকে শুরু হতে চলেছে দেশজুড়ে সিবিএসই বোর্ডের পরীক্ষা। তাই মে মাসের আগেই ভোট পর্ব মিটিয়ে নিতে চায় নির্বাচন কমিশন। এবং সেক্ষেত্রে ১ মে’এর আগেই প্রতিটি রাজ্যে বিধানসভা গঠন হয়ে যাক-সেটাও চায় কমিশন। 

এদিকে নির্বাচনের দিন ঘোষণার ঠিক আগেই শুক্রবার দুপুরে কালীঘাটে নিজের বাড়িতে ভগবান জগন্নাথ দেবের পূজা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের প্রধান পুরোহিত জগন্নাথ দ্বৈতপতি। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পূজার ভিডিও পোস্ট করেন মমতা। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:৩৪
প্রিন্ট করুন printer

এবার ভারতের টি-শার্টে শামীম ওসমানের ‘খেলা হবে’!

অনলাইন ডেস্ক

এবার ভারতের টি-শার্টে শামীম ওসমানের ‘খেলা হবে’!
সংগৃহীত ছবি

নারাণগঞ্জের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের একটি জনপ্রিয় বক্তব্য ‘আসো খেলা হবে’। এই জনপ্রিয় বক্তব্যটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন ভারতের ভোটের সুপারহিট স্লোগানে রূপ নিয়েছে। তার প্রমাণ হিসেবে এবার ভারতের বাজারের টি-শার্টে লেখা উঠেছে ‘খেলা হবে’।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যে ভোটের উত্তাপ বাড়ছে। এর মধ্যেই ‘খেলা হবে’ স্লোগানটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সবার কাছে। রাজনীতির ময়দান এবং অরাজনৈতিক ময়দান সব জায়গায় সকলেই বলছে, ‘খেলা হবে’। এবার সেই ‘খেলা হবে’ স্লোগান ঢুকে পড়েছে ভারতের ফ্যাশন জগতেও। দেশটির পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে বিক্রি হচ্ছে ‘খেলা হবে’ লেখা টি শার্ট।

রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে দলগুলো ভোটপ্রচারের অস্ত্র হিসেবে প্রতিবছর নতুন-নতুন কৌশল নিয়ে থাকে। সেই সঙ্গে দেওয়াল লিখনেও থাকে নানা চমক। কোনো রাজনৈতিক দল দেওয়াল লিখনে কী চমক দিবে তার দিকে তাকিয়ে থাকে আমজনতা। 

তবে এ বছর ভোটপ্রচারে ‘খেলা হবে’ স্লোগানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আর তাই তো ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে ব্যবসার হাতিয়ার করছেন ভারতের পোশাক ব্যবসায়ীরা। তার অংশ হিসেবে কাটোয়া শহরে ‘খেলা হবে’ প্রিন্টের টি শার্ট কেনার হিড়িক পড়েছে নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের মধ্যে। 

কাটোয়া শহরের পানুহাটের পোশাক ব্যবসায়ী রিপন দেবনাথ বলেন, ‘বাজারে যখন যেটা বেশি চলে সেটাকে ডিজাইনের মধ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করি। এতে তরুণদের কাছে বিষয়টি আকর্ষিত হয়। তাই এবার ‘খেলা হবে’ এই স্লোগানটি বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ, সম্প্রতি ‘খেলা হবে’ শব্দটি ব্যপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।’

রিপন আরও জানান, ইতোমধ্যেই এই টি-শার্টের জন্য অনলাইনে প্রচুর অর্ডার আসছে। কাটোয়া ছাড়াও অন্যান্য শহর থেকেও এই টি শার্টের অর্ডার দিচ্ছেন বিক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন এই ভোটের মৌসুমে ‘খেলা হবে’ টি-শার্টের চাহিদা আরও বাড়বে। ২০০-৩০০ টাকা খরচ করলেই পাওয়া যাচ্ছে এই টি-শার্টটি।

উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের একটি জনসভায় একটি ডেডলাইনকে সামনে রেখে শামীম ওসমান বলেছিলেন, ‘২৪ তারিখের পরে আসো খেলব, খেলা হবে।’ তারপর এই ‘খেলা হবে’ সংলাপটি দেশের সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড হয়ে যায়।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৮:২৯
প্রিন্ট করুন printer

মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা, মাঠে চেয়ারগুলো ফাঁকা!

অনলাইন ডেস্ক

মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা, মাঠে চেয়ারগুলো ফাঁকা!

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য অভিনেত্রী নুসরাত জাহান একটি ছবি টুইটারে শেয়ার করেছেন। শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে,

মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন বিজেপির এক নেতা। তার পাশে আরও অনেক নেতা। কিন্তু যাদের উদ্দেশে বক্তব্য তারা নেই। চেয়ারগুলো ফাঁকা। গোটা মাঠে একজন মাত্র দর্শক। আরেকজন মঞ্চের পাশে। তিনি মাইক সার্ভিসের লোক।

আলোচিত এই ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাল হয়েছে। নুসরাত জাহান গেরুয়া শিবিরকে লক্ষ্য করে এ দৃশ্য শেয়ার করেন। ছবির ক্যাপশনে জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী লেখেন, ‘ইয়ে বিজেপি ফর বেঙ্গল হ্যায়। ইয়ে উনকি জনসভা হ্যায়। ঔর ইঁহা ইনকি পাওরি হো রহি হ্যায়।’

হিন্দিতে ক্যাপশন লেখার কারণ হলো-অধিকাংশ বিজেপিই হিন্দি ভাষার লোক। কিছু দিন আগে পাকিস্তানি মডেল দানানীর একটি ভিডিওতে একদম বিদেশি উচ্চারণে পার্টিকে ‘পাওরি’ উচ্চারণ করে বলেছিলেন, ‘এই আমি। এটা আমার গাড়ি। আর এখানে পার্টি চলছে।’

রাতারাতি ভাইরাল সেই ভিডিওতে ইউটিউবার যশরাজ মুখাটে ‘ফান এলিমেন্ট’ যোগ করতেই রমরমিয়ে চলছে ‘পাওরি ভার্সান’।

যুব সম্প্রদায়ের নজর টানতে তাই শাসকদলের হাতিয়ার নতুন ‘পাওরি ভার্সান’। ঠিক যেভাবে বাম দল ২৮ ফেব্রুয়ারির বিগ্রেড মিটিংয়ের প্রচারে দ্বারস্থ হয়েছে ‘টুম্পা সোনা’র।

সূত্র: আনন্দবাজার।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৪:৫৩
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৩৭
প্রিন্ট করুন printer

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ই-স্কুটারে নবান্নে গেলেন মমতা

অনলাইন ডেস্ক

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ই-স্কুটারে নবান্নে গেলেন মমতা

পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে অভিনব কর্মসূচি পালন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। এদিন তিনি ইলেকট্রিক বাইকে করে নবান্নে যান। গন্তব্যে পৌঁছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন স্টেডিয়ামের নাম বদল নিয়েও।

আজ বৃহস্পতিবার হাজরা মোড় থেকে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ইলেকট্রিক বাইকের পিছনে বসে যাত্রা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার গলায় ঝোলানো ছিল জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ সংক্রান্ত পোস্টার। দুপুর ১২টা নাগাদ নবান্নে পৌঁছে যায় বাইক। সফরের সঙ্গে অন্য বাইকে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা।

নবান্নের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটের সময় এলেই বলে বেড়ান গ্যাস দেব। ওটা সত্যি সত্যি গ্যাস। মানে গ্যাস বেলুনের মতো। কিন্তু সেই রান্নার গ্যাসের দাম ৮০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এটা ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আম জনতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন?’’

বুধবারই গুজরাটের মোতেরা স্টেডিয়ামের নাম পাল্টে প্রধানমন্ত্রীর নামে হয়েছে ‘নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম’। এই নিয়ে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘স্টেডিয়ামের নামও পাল্টে দিয়েছে। কোনওদিন হয়তো দেশের নামটাও পাল্টে দেবেন।’ এই প্রসঙ্গেই বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেসরকারিকরণের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন মমতা।

যেভাবে নবান্নে গিয়েছেন, ফিরবেনও সেই ইলেকট্রিক স্কুটারেই, নবান্নে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, আগেও প্রতিবাদ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তিনি নিজে শামিল হয়েছেন প্রতিবাদে। শুক্রবার থেকে আরও জোরালো প্রতিবাদে রাস্তায় নামবেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:২৫
প্রিন্ট করুন printer

'মোদির জন্য ট্রাম্পের চেয়ে খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে'

অনলাইন ডেস্ক

'মোদির জন্য ট্রাম্পের চেয়ে খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে'
মমতা ব্যানার্জি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের সবচেয়ে বড় দাঙ্গাবাজ। বিধানসভা নির্বাচনে আমি থাকবো গোলকিপার আর বিজেপি একটা গোলও করতে পারবে না। নরেন্দ্র মোদির জন্য সদ্য পরাজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে।

বুধবার হুগলির নির্বাচনী জনসভায় ক্ষমতাসীন বিজেপির কঠোর সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন।  

মমতা বলেন, কথায় কথায় বলে, তৃণমূল কংগ্রেস তোলাবাজ। আর আপনি কী? আপনি তো সব থেকে বড় দাঙ্গাবাজ। 

তোলা কী? তোলা তো তাকে বলে যারা ৫ টাকা, ১০ টাকা তোলে তাকে বলে তোলাবাজ। আর যারা কোটি কোটি টাকা তোলে তাদের কী বলে?

দুদিন আগে হুগলির সাহাগঞ্জের সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ব্যাপক কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার সেই জায়গা থেকেই জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা বলেন, ‌এই যে সবাই বলছে খেলা হবে। ২০২১ সালে একটাই খেলা হবে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে সিপিআইএম–কংগ্রেস–বিজেপি। আমি থাকব গোলরক্ষক। একটা গোলও করতে পারবে না।  

তবে বাংলার এই খেলায় যদি বিজেপি হেরে যায়, তাহলে বুঝে নিতে হবে সারা ভারত থেকেই ওদের বিদায় নিতে হবে।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই বিভাগের আরও খবর