শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:৪৩

দুই মামলায় ১২ জনের ফাঁসি

চাঁদপুরে কৃষক লীগ সভাপতি খুন গাজীপুরে স্কুলছাত্র হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর প্রতিনিধি

Google News

গাজীপুরে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্র হত্যার দায়ে ছয়জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং এক ইউপি সদস্য ও তার স্বামী-ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতিকে হত্যার দায়ে ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। গাজীপুরে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগুটিয়া গ্রামের মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম ও আতিকুল ইসলাম, একই এলাকার সামসুদ্দিন শেখের ছেলে আনার হোসেন ও আলম শেখ, নিজাম উদ্দিন শেখের ছেলে সেলিম এবং বাশির উদ্দিন শেখের ছেলে নয়ন। এ ছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন একই এলাকার মৃত হাসেম আলী শেখের মেয়ে ঘাগুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ারা বেগম ও তার স্বামী আবদুল মোতালেব এবং ভাই শেখ সামসুদ্দিন। দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই পরস্পর আত্মীয়।

গাজীপুর আদালতের অতিরিক্ত পিপি মকবুল হোসেন কাজল ও কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. রবিউল ইসলাম মামলার বরাত দিয়ে জানান, কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগুটিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে ঘাগুটিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছানাউল্লাহ সরকার ২০০১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে বাড়ি থেকে রিকশায় পাশের নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নারান্দী গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আসামিরা ছানাউল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরদিন সকালে স্থানীয় সিঙ্গুয়া ফকির সাহাব উদ্দিন বালক উচ্চবিদ্যালয়ের একটি কক্ষে গলায় মাফলার পেঁচানো অবস্থায় তার লাশ দেখতে পান এলাকাবাসী। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে পরদিন কাপাসিয়া থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১২ জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৩১ আগস্ট অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার বিচার চলাকালে তিন আসামির মৃত্যু হয়। দীর্ঘ শুনানিকালে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ফজলে এলাহী ভূঁইয়া মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি অলিউল্লাহ মৃধাকে (৫২) খুনের দায়ে ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইবুন্যালের পিপি অ্যাডভোকেট আইয়ুব খান বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন হারুন মৃধা ও তার ছেলে আবদুল কাদের মৃধা, আবদুল হামিদ মৃধা, নাজমুল হাসান, মো. গৌরব ও মেহেদি হাসান। এদের মধ্যে হারুন মৃধা নিহত অলিউল্লাহর চাচাতো ভাই। আর আবদুল কাদের ও আবদুল হামিদ তার ভাতিজা। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন আবু তাহের, আক্তার হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন ও জাকির হোসেন। আসামিদের মধ্যে আবু তাহের কারাগারে আছেন। বাকি সবাই জামিনে বেরিয়ে পলাতক। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টায় চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শংকরপুর গ্রামে উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি অলিউল্লাহ মৃধাকে কুপিয়ে খুন করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী জয়নাব বেগম বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে কচুয়া থানায় মামলা করেন। ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেয়।

এই বিভাগের আরও খবর