Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:৪৫

গৃহকর্মীদের ওপর নৃশংসতা বাড়ছে

পাঁচ বছরে মারা গেছে ১৮২ জন

জয়শ্রী ভাদুড়ী

গৃহকর্মীদের ওপর নৃশংসতা বাড়ছে

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের তোফাজ্জল আলীর মেয়ে সুমাইয়া খাতুন। অভাবের সংসারে আট বছর বয়সে বাবা মারা গেলে পথে বসে পরিবার। তখন পেটের দায়ে গ্রামের মোয়াজ্জেম আলীর কথায় কাজ নেয় রাজধানীর বাড্ডা এলাকার রফিকুল ইসলামের বাসায়। কয়েকদিন যেতেই কথায় কথায় শুরু হয় অকথ্য গালিগালাজ। কয়েক মাস পার হতেই গরম খুন্তি, বেলনা ছাড়াও হাতের কাছে যা পায় তা দিয়েই সুমাইয়াকে মারধর করেন গৃহকর্ত্রী। একদিন রাত ১১টায় ডিম ভাজি করতে বলে সুমাইয়াকে। ভাজতে গিয়ে একটু পুড়ে যাওয়ায় গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দিলে বাঁচার জন্য চিৎকার দেয় সে। তার আর্তচিৎকার শুনে পাশের বাড়ির প্রতিবেশী পুলিশে খবর দিলে তারা এসে গ্রেফতার করে রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে। এ রকম নির্যাতন হরহামেশাই চলছে রাজধানীসহ সারা দেশের গৃহকর্মীদের ওপর। কমেনি গৃহকর্মী নির্যাতন। সে কারণে করা হয় নীতিমালা। মানবতা বা নীতিমালা কোনো কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না গৃহকর্মী নির্যাতন। বরং দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে নির্যাতনের ধরন ও নৃশংসতা। শিশু গৃহকর্মী থেকে শুরু করে বয়োজেষ্ঠ্যরাও পার পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) হিসাব অনুযায়ী, গত বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে ৩৭ জন গৃহকর্মী (শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক)। আর গত পাঁচ বছরে মারা  গেছে ১৮২ জন গৃহকর্মী। সম্প্রতি উন্নয়ন অন্বেষণের ‘ডমেস্টিক ওয়ার্কার্স : ডিভ্যালুয়েশন অ্যান্ড ডিসক্রিমিনেশন’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা যায়, ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ শিশু গৃহকর্মী দৈনিক ৯ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করে। ১২ শতাংশ শিশু গৃহকর্মীর কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। অথচ একজন শিশু গৃহকর্মী মাসে গড়ে ১ হাজার ১৮৫ টাকা মজুরি পায়। কারও কারও কপালে তাও জোটে না। পায় না ঠিকমতো খাবার, পোশাক, থাকার জায়গা এবং চিকিৎসা। প্রাপ্তবয়স্ক গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রেও একই দশা।

জানা যায়, দেশে বিভিন্ন বয়সী গৃহকর্মীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। কাজে মন নেই অজুহাতে মারধর, যৌন হয়রানি, খেতে না দেওয়া গৃহকর্মী নির্যাতনের পুরাতন চিত্র। কিন্তু এখন এসব নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নৃশংসতা। এমনকি মারতে মারতে মেরে ফেলার ঘটনা এখন প্রায় উঠে আসছে গণমাধ্যমে। গত ২৮ মার্চ মিরপুরের একটি বাসা থেকে বুলি (১৭) নামের এক গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে শাহ আলী থানা পুলিশ। গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রীর মারপিটে গুরুতর আহত হয়েছিল সে। পরবর্তীতে ওসিসিতে তাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সে জানায়, আড়াই বছর ধরে গৃহকর্তা এবিএম হাসানুজ্জামান ও গৃহকর্ত্রী  রেহেনা আক্তারের বাসায় কাজ করতো সে। দীর্ঘ দিন ধরে তাকে নির্যাতন করে আসছিলেন তারা। এমনকি বাইরের কারও সঙ্গে কথা বলতে দিত না। নানা কারণে তাকে মারধর করা হতো। তার শরীরে রয়েছে অনেক নির্যাতনের চিহ্ন। এ ঘটনায় নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে বুলি। এ ব্যাপারে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের ভাইস-চেয়ারম্যান শিরিন আক্তার এমপি বলেন, সমাজে শোষণ, বঞ্চনা থাকলে নীতিমালা করেও নির্যাতন বন্ধ করা যাবে না। সমাজব্যবস্থাকে পাল্টাতে গৃহকর্মী নির্যাতন বন্ধ করতে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মানুষ হয়ে মানুষের ওপর এরকম নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না।  


আপনার মন্তব্য