শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০১

ঐতিহ্য

দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে মজিদপুর জমিদারবাড়ি

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে মজিদপুর জমিদারবাড়ি

মজিদপুর। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। এই গ্রামে রয়েছে ২০০ বছরের প্রাচীন জমিদারবাড়ি। দিন দিন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে এটি। ভবনের কোথাও পরগাছা জন্মেছে। লতা-পাতায় ঢাকা পড়ছে ২০০ বছরের প্রাচীন ইতিহাস। সংরক্ষণ করা হলে এখানে দর্শনীয় একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে বলে অভিমত স্থানীয়দের। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এখানে জমিদারবাড়ির দেয়ালে রয়েছে নানা কারুকাজ। এতে জড়িয়ে আছে ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার গৌরীপুর বাস স্টেশন থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে তিতাসের কড়িকান্দি বাজার। এই বাজার থেকে পশ্চিমদিকে ৫ কিলোমিটার পরে কালের সাক্ষী মজিদপুর জমিদারবাড়ি। 

ইতিহাস ও স্থানীয়দের সূত্র জানায়, তিতাসের মজিদপুরে জমিদারবাড়ির মোট ১৭টি ভবনের মধ্যে ৪টি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাড়ির পাশে একটি দীঘি এবং ছোট-বড় মিলে ২০টি পুকুর রয়েছে। যদিও দীর্ঘদিন যাবৎই জমিদারদের প্রাসাদোপম অট্টালিকাগুলো বিভিন্নজনের দখলে রয়েছে। বর্তমানে জমিদারদের কোনো উত্তরাধিকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পাকিস্তান সৃষ্টির পরই হিন্দু জমিদাররা তাদের সবকিছু রেখে ভারতে চলে যান। বর্তমানে সব ভবনই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জমিদারি শাসনের শুরুর দিকে মজিদপুর জমিদারবাড়ির প্রথম পুরুষ শ্রী রামলোচন রায় মজিদপুরে এসে বসতি স্থাপন করেন। মেঘনা, তিতাস, হোমনা ও মুরাদনগর পর্যন্ত তাদের জমিদারি ছিল। শ্রী রামলোচন রায়ের তিন ছেলে শ্রী কালীচরণ রায়, ব্রজেন্দ্র কুমার রায় এবং শিবচরণ রায়। জমিদারি আইন বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত বংশপরম্পরায় তাদের জমিদারি চলে। শ্রী কালীচরণের পাঁচ ছেলে যথাক্রমে পিয়ারী মোহন রায়, বিহারী মোহন রায়, শশী মোহন রায়, শরত্চন্দ্র রায় এবং মোহিনী মোহন রায়। ব্রজেন্দ্র কুমার রায়ের তিন ছেলে হলেন ক্ষিতীশ চন্দ্র রায়, যিনি মজিদপুর ইউনিয়নের প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন, গিরিশ চন্দ্র রায় এবং শিরিশ চন্দ্র রায়। শিবচরণ রায়ের দুই ছেলে হররাল রায় এবং যোগেশ চন্দ্র রায়। শিরিশ চন্দ্র রায় গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যা করে উন্মাদ হয়ে যান। তাকে জমিদারবাড়ির একটি প্রকোষ্ঠে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। এ অবস্থায়ই তার মৃত্যু হয়। ক্ষিতীশ চন্দ্র রায়ের দুই ছেলে শ্রী নারায়ণ চন্দ্র রায় এবং শ্রী দুর্গাচরণ রায়। শ্রী দুর্গাচরণ রায়ের তিন ছেলের মধ্যে ক্ষেত্র মোহন রায় তিতাস উপজেলার প্রথম গ্রাজুয়েট এবং প্রথম আইনজীবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। অপর ছেলে কুঞ্জ মোহন রায় মজিদপুর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। শরৎ চন্দ্র রায়ের ছেলে উপেন্দ্র চন্দ্র রায় তিতাস উপজেলার প্রথম গ্রাজুয়েট ডাক্তার। রামলোচন ছাড়াও তাদের বংশের আরও যারা জমিদারি করেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাম সুন্দর রায় এবং রামগতি রায়। এদের মধ্যে রামগতি রায়ের ছেলে নলিনী ভূষণ রায় মজিদপুর ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিতাসের মজিদপুর জমিদারবাড়িতে গেলে খানিকটা সময়ের জন্য আপনি চলে যেতে পারেন অতীতে। হয়তো চোখের সামনে এবং কানে ভেসে আসবে জমিদারবাড়ির আগের কোলাহল। কিছুক্ষণের জন্য হলেও মনটা ভালো হয়ে যাবে। স্থানীয় কামাল হোসেন নামের একজন জানান, এখানে অনেকে ভুয়া দলিল তৈরি করে দখল করেছে। প্রশাসন সঠিকভাবে খোঁজ নিলে সত্যটা বেরিয়ে আসবে। স্থানীয় সংবাদকর্মী নাজমুল করিম ফারুক বলেন, ‘প্রতিদিন লোকজন জমিদারবাড়িটি দেখতে আসে। এ এলাকায় কোনো দর্শনীয় স্থান নেই। সংরক্ষণ করা হলে সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নেবে। এতে স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে।’ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লাস্থ কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘তিনি মজিদপুর জমিদারবাড়িটি পরিদর্শন করেছেন। কিছু সম্পত্তি দখল হয়ে গেছে, কিছু অংশ পরিত্যক্ত হয়ে গেছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর