শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মে, ২০১৮ ২৩:১৩

অষ্টম কলাম

নয়ন-মণির নতুন সংসার

মোস্তফা কাজল

আজ নতুন সংসার শুরু করবে বাঘ নয়ন ও বাঘিনী মণি। গতকাল দুজনের নতুন জীবন শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়। এ দুই প্রাণি হচ্ছে কক্সবাজারের ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের বর্তমান বাসিন্দা। তাদের আজ একই বেষ্টনীর মধ্যে রাখা হবে। এভাবে নতুন জীবন শুরু হবে তাদের। এসব কারণে ৩১ মার্চ চার বছরের মণি নামের বাঘিনীকে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে আনা হয়।  সে শাব্দিক অর্থে নয়ন-আঁখি সমার্থক। কিন্তু দাম্পত্যের জন্য একে অন্যের জন্য নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠতে পারেনি নয়ন-আঁখি জুটি। তাই একই কোটরে জন্ম হলেও দাম্পত্য সম্পর্ক শুরুর আগেই নয়নকে ছেড়ে চলে গেছে আঁখি। বাঘিনী আঁখির অকাল প্রয়াণে সঙ্গীহীন হয়ে পড়ে বাঘ নয়ন। কিন্তু এবার নয়নের একাকিত্বের অবসান ঘটাতে আনা হয়েছে আরেক বাঘিনীকে। নয়নের অপরিহার্য অংশ হিসেবে নাম দেওয়া হচ্ছে মণি। এ জন্য মণিকে এ পার্কের বাঘ বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নয়ন-মণি জুটির দাম্পত্য জীবন শুরু করাতে চাচ্ছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ১১ জুন রাজধানীর শ্যামলীতে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে বাঘের তিন শাবক। সুন্দরবনের কাঁকড়াখালী পয়েন্ট থেকে সংঘবদ্ধ বন্য প্রাণী পাচারকারী দলের সদস্যরা জন্মের মাত্র দুই মাসের মাথায় তিন বাঘ শাবককে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল।

এ সময় বাঘ শাবকগুলোকে পাচারকারীরা ঢাকার শ্যামলীতে নিয়ে আসে। উদ্ধারের পর তিন বাঘ শাবকের নাম রাখা হয় জয়, জুঁই ও জ্যোতি। এ অবস্থায় প্রথমে তিন শাবকের ঠাঁই হয় রাজধানীর ২২/২ ফিকামলি মিনি চিড়িয়াখানার মালিক ও বাঘ বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল ওয়াদুদের তত্বাবধানে। এরপর সেখান থেকে মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের বিয়ারিং হাউসে। সেখানে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে প্রায় চার মাস পর্যন্ত তিন শাবকের পরিচর্যা চলে। বয়স ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর জয়, জুঁই ও জ্যোতিকে ২০১২ সালের ১৩ অক্টোবর পাঠানো হয় কক্সবাজারের ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। তবে তিন শাবকের মধ্যে জ্যোতিকে নিয়ে আসা হয় ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায়। সেখানে পুরুষ বাঘ ‘রণবীরের’ সঙ্গে জুটি বাঁধে জ্যোতি। বাকি দুই শাবক জয় ও জুঁই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করে। তাদের সংসারে জন্ম নেয় আঁখি ও নয়ন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর হৃদরোগে মারা যায় বাঘিনী আঁখি। ফলে একা হয়ে পড়ে নয়ন। ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী চিকিৎসক  মো. মোস্তাফিজুর রহমান মুঠো ফোনে বলেন, পার্কের বাঘ বেষ্টনীতে দীর্ঘদিন একাকী থাকা পুরুষ বাঘ নয়নের জীবনসঙ্গী হিসেবে আনা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক বাঘিনী মণিকে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে খাঁচায় রাখা হয়েছে বাঘিনীকে (মণি), তার পাশেই আছে পুরুষ বাঘ নয়ন। মাঝখানে একটি লোহার এঙ্গেলের নেট বিদ্যমান থাকলেও দুইজনের মধ্যে দেখাদেখি হচ্ছে। এভাবে দু-জনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়। এসব কারণে প্রজনন বাড়াতে আজ নয়ন ও মণিকে একই ডেরায় রাখা হবে। পার্কের বিট কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, নতুন অতিথি বাঘিনী বেশ হিংস । মানুষ দেখলেই হুঙ্কার ছাড়ছে। এদিকে, বাঘের এ খবরে প্রতিদিনই দেশি ও বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটছে এ পার্কে। আগতরা ঢুকেই প্রথমে সোজা চলে যাচ্ছে বাঘের বেষ্টনীতে।


আপনার মন্তব্য