শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ জুলাই, ২০১৮ ২৩:২১

প্রতারণার ফাঁদ মালয়েশিয়ার ই-ভিসা

খামখেয়ালি, নিয়ম থাকলেও ফেরত আসে না ভি ফির টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতারণার ফাঁদ মালয়েশিয়ার ই-ভিসা

মালয়েশিয়ায় সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের জন্য জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনলাইনে ভিসার আবেদন করেন ঢাকার অভিজাত এলাকার এক বাসিন্দা। হাইকমিশন বা এজেন্টের কাছে না গিয়ে ইন্টারনেটে মালয়েশিয়ার ই-ভিসার আবেদন করতে পেরে তিনি খুশিই ছিলেন। বিশ্বের প্রায় অর্ধেকের বেশি দেশে ভ্রমণ করা ওই বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও খোদ মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন বেশ কয়েকবার। তাই যথাযথভাবে আবেদন করে নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলেন ফিরতি জবাবের। নিয়ম মোতাবেক তার ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা কেটে নেওয়ার অনুমতিও দেন। সঙ্গে সঙ্গে টাকা কাটাও হয় বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১ হাজার। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পর আরও ৭২ ঘণ্টা চলে যায় কিন্তু ভিসা আবেদনের ফিরতি জবাব আর আসে না। ঘণ্টা থেকে দিন, দিনের পর সপ্তাহ পেরিয়ে যাবার পর যখন ফিরতি জবাব আসে, তা দেখে তিনি বিস্মিত। তাকে রিফিউজ করা হয়েছে মালয়েশিয়ার ভিসার।

আট-দশ দফায় ইউরোপ আমেরিকা ভ্রমণ শুধু নয়, এর আগে একাধিক মালয়েশিয়ার ভিসা ও ভ্রমণ থাকার পরও তার ভিসা রিফিউজ করে মেইল পাঠানো হয়। সেখানেই বলা হয়, আপনার ক্রেডিট কার্ড থেকে ভিসা ফি হিসেবে নেওয়া অর্থের একটি কমিশন কেটে ফেরত দেওয়া হবে। পরবর্তী সাত দিনের মধ্যেই এই অর্থ ফেরত আসবে। সেই সাত দিন শেষে হয়ে মাস পেরিয়ে গেল কিন্তু কেটে নেওয়া অর্থ এখনো ফেরত আসেনি। আর এটা শুধু তার ক্ষেত্রে নয় আরও অনেকের সঙ্গেই এমনটা হচ্ছে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন বাংলাদেশে বসবাস করা ভারতীয় এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ভোগান্তি কমানোর জন্যই ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করার কথা বলা হয়। যেন ভ্রমণকারীদের একাধিকবার মিশনে গিয়ে ভোগান্তি না পড়তে হয় তাই অনলাইনে আবেদনের সিস্টেম। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে ভোগান্তি বেড়ে যাওয়াটা দুঃখজনক।

ঢাকার গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সির পরিচালক বলেন, মালয়েশিয়ায় ভ্রমণের জন্য স্টিকার ভিসার তুলনায়  ই-ভিসা আরও সহজসাধ্য করতে ২০১৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশিদের জন্য এটি চালু করা হয়। কিন্তু এটি এখন আরও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভিসা বিষয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনেরই অনেকে জানে না তাই তারা পাসপোর্টে স্টিকার ছাড়া কাগজে ভিসার কথা মানতেই চায় না। ই-ভিসা গ্রহণ না করে বাংলাদেশি তিন যাত্রীকে মালয়েশিয়া এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন থেকে ফেরত দেওয়ার কথাও জানান এই ট্রাভেল এজেন্সি মালিক।  মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন দফতরের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশিদের জন্য চালু করেছে ই-ভিসা। এর সুবিধা হলো বাংলাদেশি নাগরিকরা ঘরে বসে এ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

৩০ দিনের ভ্রমণ ভিসা দেওয়া হবে ই-ভিসায় আবেদনকারীকে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে প্রাপ্ত ভিসা কনস্যুলট অফিসার কর্তৃক অনুমোদন করতে হবে। ভিসা অনুমোদন হলে তা প্রিন্ট করে ইমিগ্রেশনে প্রদর্শন করতে হবে। বাংলাদেশি ছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা ও ভারতীয় নাগরিকরাও ই-ভিসায় আবেদন করতে পারবেন।


আপনার মন্তব্য